/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

‘এই ফুটবল আমার জন্য নয়!’: রিয়াল মাদ্রিদ না বেছে আর্সেনালে আসার গল্প বললেন পিরেস

সূত্র: Marca (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

২০০০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার নেপথ্য গল্প প্রকাশ করেছেন রবার্ট পিরেস। ইংলিশ ফুটবলের শুরুর ম্যাচগুলোতে ড্রেসিংরুম ও বেঞ্চে বসে প্রিমিয়ার লিগের শারীরিক তীব্রতা দেখে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার বরাতে সেই স্মৃতি তুলে ধরেছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি।
‘এই ফুটবল আমার জন্য নয়!’: রিয়াল মাদ্রিদ না বেছে আর্সেনালে আসার গল্প বললেন পিরেস
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: ২০০০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস ছেড়ে আর্সেনালে যোগ দেওয়া এবং প্রিমিয়ার লিগে মানিয়ে নেওয়ার পেছনের গল্প স্মৃতিচারণ করেছেন ফরাসি কিংবদন্তি রবার্ট পিরেস।
•
ম্যাচের প্রভাব: আর্সেন ওয়েঙ্গারের ব্যক্তিগত আলাপ ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা পিরেসকে লন্ডনে আসতে উৎসাহিত করে, যা পরবর্তীকালে আর্সেনালের 'ইনভিন্সিবলস' জয়ের মূল ভিত্তি তৈরি করে।
•
সামনে কী: ভিয়ারিয়ালে লা লিগার সফল অধ্যায় ও ইউরোপীয় ফুটবলে পিরেসের প্রভাব নতুন খেলোয়াড়দের জন্য কোচ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

২০০০ সালের গ্রীষ্মে মার্শেই থেকে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর ইংলিশ ফুটবলের তীব্রতা দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠেছিলেন ফরাসি উইঙ্গার রবার্ট পিরেস। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক 'মার্কা' তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে, আর্সেনালের অফিসিয়াল গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন এই কিংবদন্তি। ২০০০ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে তৎকালীন আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গারের প্রভাব এবং গানার্সদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের 'ইনভিন্সিবলস' অভিযানের শুরুর সময়ের নাটকীয় অভিজ্ঞতা খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।

আর্সেনালের হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পিরেস জানান, প্রিমিয়ার লিগে সান্দারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে একাদশে না রেখে বিকল্প খেলোয়াড়দের বেঞ্চে রেখেছিলেন গানার্স ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গার। ফরাসি তারকাকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই ডাগআউটে বসানো হয়েছিল। তবে সেই ম্যাচে বেঞ্চে বসে ইংলিশ ফুটবলের গতি ও শারীরিক লড়াই দেখে চরম হতাশ ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন পিরেস।

ডাগআউটে নিজের পাশেই বসে থাকা আরেক নতুন সাইনিং লরেন্টের দিকে তাকিয়ে নিজের ভীতি গোপন রাখতে পারেননি পিরেস। পিরেস স্মরণ করে বলেন, "আমি বেঞ্চে লরেন্টের পাশে বসেছিলাম, যে নিজেও সদ্যই চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। আমি তার দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, 'এই ফুটবল আমার জন্য নয়! আমরা এখানে কী করছি?'" মাঠের খেলোয়াড়দের ট্যাকলিংয়ের গতি দেখে তার ধারণা হয়েছিল, ফরাসি ফুটবলের কৌশলী শৈলীর সঙ্গে এই লিগের কোনো মিল নেই।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই ফরাসি তারকা আরও যোগ করেন, "আমার মনে হয়েছিল খেলাটা অতিরিক্ত তীব্র এবং মারাত্মক কঠিন। ম্যাচ দেখার ১৫ মিনিট পর আমি ভেবেছিলাম, 'এটা আমার জন্য নয়!'" প্রথম দিকে এই রূঢ় বাস্তবতা পিরেসের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছিল। ইংলিশ ফুটবলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তাকে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছিল। পিরেস স্বীকার করেছেন যে, হাইবারির পরিবেশ ও প্রিমিয়ার লিগের ধাচের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে তার অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লেগেছিল, যা তার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।

### রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও ওয়েঙ্গারের প্রভাব

আর্সেনালে যোগ দেওয়ার আগে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন রবার্ট পিরেস। ট্রান্সফার মার্কেটে সেই সময় তার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তিনি জানান, "যখন আমি মার্সেই ছাড়ি, তখন আমার সামনে অনেক বিকল্প খোলা ছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিতে হতো রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আর্সেনালের মধ্যে।" তৎকালীন ফরাসি ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এবং ক্রীড়া সাংবাদিকরা নিশ্চিত ছিলেন যে পিরেস সান্তিয়াগো বার্নাবেউতেই যাচ্ছেন।

সেই সময় রিয়াল মাদ্রিদে লুইস ফিগো ডান উইঙে খেলতেন। তাই স্প্যানিশ গণমাধ্যম ও ফরাসি সাংবাদিকদের ধারণা ছিল, রিয়াল কোচ পিরেসকে বাম উইঙে ফিগোর জুড়িদার হিসেবে খেলাতে চান। চুক্তিটি প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হলেও সেখানে শেষ মুহূর্তে পাশার দান উল্টে দেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। পিরেসের মতে, কোনো ক্লাবে সই করার ক্ষেত্রে কোচের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ওয়েঙ্গারের সঙ্গে বারবার কথা বলার পরই পিরেস নিশ্চিত হন যে লন্ডনের ক্লাবটিই তার জন্য সঠিক ঠিকানা। সে সময় ডাচ উইঙ্গার মার্ক ওভারমার্স আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন। ওয়েঙ্গার পিরেসকে সরাসরি বুঝিয়েছিলেন যে, ওভারমার্সের শূন্যস্থান পূরণ করতে তার মতো একজন উইঙ্গার প্রয়োজন। ওয়েঙ্গারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, আর্সেনালের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দলে ফরাসি খেলোয়াড়দের শক্তিশালী উপস্থিতি পিরেসকে রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব ফিরিয়ে হাইবারিতে আসতে প্ররোচিত করেছিল।

তবে লন্ডনে শুরুর দিনগুলো মোটেই সহজ ছিল না। ওভারমার্সের সাথে অনবরত তুলনা এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার চাপ সামলাতে হয়েছিল পিরেসকে। সমর্থক ও সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন যে, পিরেস মার্সেই ও ফরাসি জাতীয় দলের হয়ে গোল করলেও আর্সেনালে কেন মানিয়ে নিতে পারছেন না। প্রথম গোলটি পেতে পিরেসকে বেশ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অবশেষে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লাজিওর বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে তিনি গানার্সদের জার্সিতে প্রথম গোল করেন, যা তার পুরো আর্সেনাল ক্যারিয়ারের বড় টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়।

### লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের সাফল্যময় অধ্যায়

আর্সেনালে সফল ও ঐতিহাসিক অধ্যায় শেষ করার পর স্প্যানিশ ফুটবলেও নিজের ছাপ রেখেছিলেন এই ফরাসি তারকা। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন পিরেস। 'হলুদ সাবমেরিন' খ্যাত ক্লাবটির হয়ে তিনি ১৩১টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেন, যেখানে ১৮টি গোল করার পাশাপাশি অজস্র অ্যাসিস্ট প্রদান করেন।

ভিয়ারিয়ালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলের সদস্য ছিলেন পিরেস। সেখানে তিনি মার্কোস সেনা, সান্তি কাজোরলা, দিয়েগো ফোরলান, হুয়ান রোমান রিকুয়েলমে ও জুসেপ্পে রসির মতো তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে লা লিগায় ঐতিহাসিক দ্বিতীয় স্থান অর্জনে ভিয়ারিয়ালের অন্যতম মূল কারিগর ছিলেন পিরেস। আর্সেনাল থেকে শুরু করে ভিয়ারিয়াল—ইউরোপীয় ফুটবলে রবার্ট পিরেসের এই পথচলা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম আইকনিক উইঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)