/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

এথেন্সে জয়ের মাঝেও রিয়ালে নতুন উদ্বেগ: ভিনিসিউসের অফ-ফর্ম নিয়ে মুখ খুললেন মরিনহো, ভালদানো ও উমতিতি

এইকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে একাদশে ফিরেও ফিকে পারফরম্যান্স করায় ভিনিসিউস জুনিয়রের ফর্ম ও মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হোর্হে ভালদানো ও স্যামুয়েল উমতিতি।
এথেন্সে জয়ের মাঝেও রিয়ালে নতুন উদ্বেগ: ভিনিসিউসের অফ-ফর্ম নিয়ে মুখ খুললেন মরিনহো, ভালদানো ও উমতিতি
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: এইকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড বজায় রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।
•
ম্যাচের প্রভাব: গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট তালিকায় পিএসজির পেছনে দ্বিতীয় স্থানে শক্ত অবস্থান রিয়ালের, তবে বাম উইংয়ে দিওমান্দে ও ভিনিসিউসের পজিশন নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌশলগত জটিলতা।
•
সামনে কী: লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞার শেষ ম্যাচ পার করার পর ইউরোপ ও ঘরোয়া আসরে ভিনিসিউসের শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তে মুখোমুখি মরিনহো।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্সের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে স্বাগতিকদের আবুবাকারি কোইতা ও স্টাভ্রোস পিলিওসের গোলে দু-দুবার পিছিয়ে পড়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তবে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল এবং উরুগুয়ান মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দেসের শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে হোসে মরিনহোর দল। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে চার ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়ে পয়েন্ট তালিকায় পিএসজির ঠিক পরেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। তবে ফরাসি ক্রীড়া মাধ্যম 'আরএমসি স্পোর্ট'-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের ধারাবাহিক জয়ের মধ্যেও ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়রের অফ-ফর্ম ড্রেসিংরুমে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

গ্রিসের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ দিয়েই রিয়ালের শুরুর একাদশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে। কিন্তু মাঠের বাঁ প্রান্তে নিজের ঐতিহ্যগত ক্ষুরধার পারফরম্যান্স উপহার দিতে আবারও ব্যর্থ হন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য নিজের শীর্ষ তারকাকে কিছুটা রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন রিয়ালের পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহো। মরিনহো বলেন, "ভিনি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও সঠিক একটি পারফরম্যান্স দিয়েছে। অসাধারণ কিছু ছিল না, কিন্তু আমাদের পুরো দলও তো খুব অসাধারণ কোনো ম্যাচ খেলেনি। এটি একটি কঠিন ও গম্ভীর্যপূর্ণ ম্যাচ ছিল এবং সেই বিচারে ভিনিসিউস তার দায়িত্ব যথেষ্ট ভালোভাবে পূরণ করেছে।"

সংবাদ সম্মেলনে মরিনহো আরও ব্যাখ্যা করেন যে ম্যাচের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বদলি ফুটবলার নামানোর সময় ফলাফলের পাশাপাশি দলীয় কৌশলের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি ছিল। মরিনহো বলেন, "আমাদের ফলাফলের কথা যেমন ভাবতে হয়েছে, তেমনি সামনে লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়েছে। সেই কারণেই আমি ভিনিসিউসকে না তুলে ওসমান দিওমান্দেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।" প্রসঙ্গত, ঘরোয়া লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের ফুটবলারের চুল টেনে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন ভিনিসিউস। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই তার সেই নিষেধাজ্ঞার শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

### ভালদানো ও উমতিতির কড়া সমালোচনা ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

মরিনহো নমনীয় মন্তব্য করলেও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক খেলোয়াড়, কোচ ও শীর্ষ কর্মকর্তা হোর্হে ভালদানো মোটেও সন্তুষ্ট নন। স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল 'মুভিস্টার'-এর সঙ্গে আলাপকালে ভালদানো ভিনিসিউসের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "মরিনহো একে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। আমি বলছি না ভিনিসিউস খুব বাজে খেলেছে, তবে যে খেলোয়াড়কে আমরা ম্যাচ জেতানো বিধ্বংসী শক্তির প্রতীক হিসেবে চিনি, তার জন্য 'গ্রহণযোগ্য' শব্দটি কোনো প্রশংসাসূচক বিশেষণ হতে পারে না। পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় সে প্রতিপক্ষ বক্সে আক্রমণ চালানোর সুযোগ তৈরি করেছে খুব কম এবং মাত্র একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পেরেছে।"

ভালদানো আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, অতীতে রিয়ালের আক্রমণে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলা ভিনিসিউসের এই নিষ্প্রভ রূপ তার একাদশের নিয়মিত অবস্থান ধরে রাখার পক্ষে কাজ করছে না। রিয়ালের এই সাবেক ডিরেক্টরের মতে, দলের পারফরম্যান্সের বিচারে মাঠের বাঁ প্রান্তের সেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানটি বর্তমানে দিওমান্দে দখল করে নিচ্ছেন, যেখানে ভিনিসিউসের পারফরম্যান্স পিছিয়ে পড়েছে।

একই সুর ধ্বনিত হয়েছে ফরাসি গণমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টসের জনপ্রিয় স্পোর্টস শো 'আফটার ফুট'-এ। সেখানে উপস্থিত হয়ে সাবেক বার্সেলোনা ডিফেন্ডার এবং ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা স্যামুয়েল উমতিতি ভিনিসিউসের সাম্প্রতিক পতন নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। উমতিতি বলেন, "ভিনিসিউসের এই অবস্থা দেখে সত্যি আমার খুব কষ্ট হয়। গত কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস এমনকি পুরো মৌসুম ধরেই সে তার সেরা ছন্দে নেই। মাঠের বাঁ প্রান্তে আগে যে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষিপ্রতা তাকে আলাদা করেছিল, তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। আগে সে বল পায়ে পেলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত, কিন্তু এখন তার পারফরম্যান্সে প্রচুর ভুল দেখা যাচ্ছে এবং সে আর মোটেও প্রতিপক্ষের জন্য ভীতিকর নয়।"

উমতিতি রিয়ালের বর্তমান দলীয় ভারসাম্য এবং কৌশলগত জটিলতা বিশ্লেষণ করে আরও বলেন যে ২০২৪ সালে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রির কাছে ব্যলন ডি'অর ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার মানসিক ধাক্কা থেকে ভিনি এখনো বের হতে পারেননি। তিনি জানান, "ব্যলন ডি'অর না পাওয়ার পর থেকেই ভিনিসিউস মানসিকভাবে অনেক আঘাত পেয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকে বাম উইংয়ে সেই চঞ্চল ও বিধ্বংসী ভিনিসিউসকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে বাম প্রান্তে খেলানোর অর্থ হলো দিওমান্দেকে ডান প্রান্তে সরিয়ে নেওয়া, যেখানে দিওমান্দে একেবারেই ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না।"

উমতিতি কোচ মরিনহোর সামনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "বাস্তবতা হলো রিয়াল মাদ্রিদ জিতলেও ভিনিসিউস লা লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ—কোনো জায়গাতেই তার চেনা ফর্মে নেই। এখন রিয়ালকে দুটি পথের একটি বেছে নিতে হবে: হয় দুজনের মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি করে যে ভালো খেলবে তাকে সুযোগ দিতে হবে, না হয় একটি নির্দিষ্ট হায়ারার্কি বজায় রেখে খারাপ খেলা সত্ত্বেও ভিনিসিউসকে বাম প্রান্তে সুযোগ দিয়ে যেতে হবে।"

মাঠের খবরের আর্কাইভ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ৪ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে রিয়াল মাদ্রিদের এই ৩-২ গোলের জয়ের কথা প্রকাশিত হয়, যা অলউইন অ্যারেনায় ফেদেরিকো ভালভার্দেসের ইনজুরি টাইমের গোলে নিশ্চিত হয়েছিল। এর আগে গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবরের খবরে জানানো হয়েছিল, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে তাদেরই ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে এল ক্লাসিকো জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, যেখানে জোড়া গোল করে ক্লাবের হয়ে ১০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও হোসে মরিনহোর তত্ত্বাবধানে দল পয়েন্ট টেবিলে শুভসূচনা ধরে রেখেছে, তবুও উইংয়ে ভিনিসিউসের পতন ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব স্প্যানিশ জায়ান্টদের জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)