/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

চীন বিতর্কে এমবাপ্পের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে রিয়াল মাদ্রিদ, ক্ষমা চাওয়ার আর্জি প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার

সূত্র: Foot Mercato (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

কিলিয়ান এমবাপ্পের চীনা মাও সেতুং সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের পর তার থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ক্লাব ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত স্প্যানিশ জায়ান্টদের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক আলোচনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
চীন বিতর্কে এমবাপ্পের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে রিয়াল মাদ্রিদ, ক্ষমা চাওয়ার আর্জি প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: চীনা রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এমবাপ্পে ইস্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস ক্ষমা চাইলেও রিয়াল মাদ্রিদ ক্ষমা না চাওয়ায় স্প্যানিশ ফুটবলের চীনা সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক চুক্তি হুমকির মুখে পড়েছে।
•
সামনে কী: রিয়াল মাদ্রিদ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় নাকি চীন তাদের সামাজিক ও বাণিজ্যিক বয়কট বজায় রাখে, তা দেখার বিষয়।

ফরাসি গণমাধ্যম ফুট মার্কাতোর বরাতে জানা গেছে, ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক চীন বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাব কর্তৃপক্ষ চীনের কাছে কোনো ধরনের ক্ষমা প্রার্থনা করতে অস্বীকার করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশ। তবে মাদ্রিদের এই অবস্থানের কঠোর বিরোধিতা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপ। স্প্যানিশ ক্লাবটি চীনা পৃষ্ঠপোষকদের সাথে তাদের বাণিজ্যিক চুক্তি বহাল থাকার দাবি করলেও চীনা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ক্লাবটির সাথে যাবতীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত থাকবে।

এই সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল একটি প্রকাশিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ অ্যাটাকার এমবাপ্পেকে চীনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সেতুংকে নিয়ে করা কিছু উপহাসমূলক ডিজিটাল এডিটের প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়। চীনা সমাজে এই মন্তব্য মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। চীনা ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত এমবাপ্পের সাথে চুক্তি বাতিল শুরু করে এবং চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যেই তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে এমবাপ্পে সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়বস্তু সরিয়ে নিয়েছে। যদিও এমবাপ্পে পরবর্তীতে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু চীনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া থামেনি।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস স্পেনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। স্প্যানিশ দৈনিক ওকে দিয়ারিও এবং সিসিটিভির তথ্যানুসারে, তেবাস পুরো লা লিগা প্রতিযোগিতার পক্ষ থেকে চীনা জনগণের কাছে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কেবল একজন ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বা মন্তব্য লা লিগার সাথে চীনা সমর্থক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। লা লিগার প্রধান এই পদক্ষেপ নিলেও রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব কর্তৃপক্ষ অবশ্য একেবারেই ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে।

রিয়াল মাদ্রিদ অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, এমবাপ্পের বক্তব্য তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতপ্রকাশ এবং কাউকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান করার কোনো মানসিকতা তার ছিল না। লস ব্লাঙ্কোদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চীনের বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে ক্লাবের মূল প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিগুলো আগের মতোই বহাল রয়েছে এবং এমবাপ্পের ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ বাতিলের আঁচ ক্লাবের ব্যবসায়িক সম্পর্কে পড়েনি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের এমন ব্যাখ্যাকেন্দ্রিক কৌশল চীনকে মোটেও শান্ত করতে পারেনি।

### চায়না মিডিয়া গ্রুপের কড়া জবাব ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা

চীনা ক্রীড়া মাধ্যম দোংকিউদি চায়না মিডিয়া গ্রুপের যুব ও ক্রীড়া কেন্দ্রের মুখপাত্রের বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের এই দায়সারা সাফাই পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনা মুখপাত্র বলেন, লা লিগা সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়ে সিসিটিভিকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের চুক্তিভিত্তিক ফুটবলার হওয়ায় ক্লাব তার দায় এড়াতে পারে না। বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হানাকে তারা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছে না।

মুখপাত্র রিয়াল মাদ্রিদের বাণিজ্যিক চুক্তি বহাল থাকার দাবিকেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে চীনা জনগণকে অপমান করে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো অলীক স্বপ্নে যেন বিভোর না থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ও প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্লাবের সাথে অন্যান্য যেকোনো বাণিজ্যিক বা প্রচারণামূলক আলোচনা স্থগিত থাকবে। এই অবস্থান স্প্যানিশ ক্লাবটির এশীয় বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে 'মাঠের খবর'-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে এই বিতর্কের জেরে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি লা লিগার সম্প্রচারই বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে স্প্যানিশ ফুটবলের সামগ্রিক সম্প্রচার রাজস্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাঠের বাইরে যখন এই উত্তাল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক ঝড় বইছে, তখন মাঠের ভেতরে কিন্তু এমবাপ্পে ছিলেন দারুণ ছন্দে।

গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবরের 'মাঠের খবর'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যু-তে অনুষ্ঠিত ২৬৫তম এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় জয়ে দুটি গোলই করেছিলেন এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে নিজের শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং কোচ হোসে মরিনহোর সুনির্দিষ্ট ট্যাকটিক্সে বার্সেলোনার টানা নয় ম্যাচের জয়ের ধারা ভেঙে দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ব্যবধান তিনে নামিয়ে আনেন। তবে মাঠের সেই শততম গোলের রূপকথার আনন্দ এখন ছায়াবৃত হয়ে পড়েছে চীন সম্পর্কিত এই নজিরবিহীন সংকটের কারণে। রিয়াল মাদ্রিদ এখন কীভাবে ফুটবলীয় সাফল্য ও চীনা বাজার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)