/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

অলওয়াইন এরিনায় এএইকে এথেন্সকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় জয় মরিনহোর দলের

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে এএইকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান শক্ত করেছে জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে যোগ করা সময়ে ফেদেরিকো ভালভের্দের গোল ব্যবধান গড়ে দেয়।
অলওয়াইন এরিনায় এএইকে এথেন্সকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় জয় মরিনহোর দলের
প্রতীকী ছবি • Unsplash
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
•
ম্যাচের প্রভাব: এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টেবিলের শীর্ষে পিএসজির সাথে অবস্থান শক্ত করেছে রিয়াল।
•
সামনে কী: আসন্ন ম্যাচগুলোতে পূর্ণ পয়েন্ট ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাবে মরিনহোর দল।

ইতালীয় দৈনিক করিয়েরে দেল স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ফুটবলের দুই হেভিওয়েট দল মিলে ৪ নভেম্বর বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চতুর্থ রাউন্ডের দ্বিতীয় দফার ম্যাচগুলোর সূচনা করে। চলতি সপ্তাহের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে অলওয়াইন এরিনায় এএইকে এথেন্সের মুখোমুখি হয়েছিল জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। গ্রিসের মাঠে শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল বেশ উত্তপ্ত ও রোমাঞ্চকর, যেখানে স্প্যানিশ জায়ান্টদের শুরুতেই পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল। ম্যাচের শুরুর দিকে কেইতার করা গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক এএইকে এথেন্স। জোভিকের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে কোনো সুযোগ না দিয়েই বল জালে জড়ান কেইতা।

শুরুতে গোল হজম করার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় লস ব্লাঙ্কোসরা। জুড বেলিংহামের শট জালে জড়ালেও ইতালীয় রেফারি মারিয়ানি সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন। তবে গোলবঞ্চিত হওয়ার হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বেলিংহামের জন্য। এর কিছুক্ষণ পরেই দুর্দান্ত এক হিল-হিল বা পায়ের পেছনের কায়দায় দারুণ শটে রিয়াল মাদ্রিদকে সমতায় ফেরান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তার এই নান্দনিক গোলটি ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দেয় এবং দুই দলই সমান তালে লড়াই চালাতে থাকে।

সমতা ফেরার পর প্রথমার্ধ্ব ও দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় জুড়ে ম্যাচটি বেশ সমানে সমানে চলতে থাকে। ম্যাচের ৭৫ মিনিট থেকে ৭৮ মিনিটের মধ্যে গ্রিক ও স্প্যানিশ শিবিরে ফের শুরু হয় গোলের লড়াই। পিলোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এএইকে এথেন্স আবারও এগিয়ে যায় এবং রিয়াল শিবিরকে চাপে ফেলে দেয়। তবে এই ব্যবধান বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি জিজুর শিষ্যরা। বদলি হিসেবে নামা বা অন্য সতীর্থদের সহায়তায় কিলিয়ান এমবাপ্রে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দ্রুতই সমতা সূচক গোলটি ফিরিয়ে আনেন, যেখানে ডানফ্রিজের নিখুঁত অ্যাসিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যখন যোগ করা সময়ের খেলা চলছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। ইনজুরি টাইমের ঠিক শেষ মুহূর্তে ফেদেরিকো ভালভের্দে এক ফোটোনিক বা বুলেট গতির ডান পায়ের শটে এএইকে এথেন্সের গোলরক্ষক ব্রিগনোলিওকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেন। ভালভের্দের এই দুর্দান্ত গোলটি গ্রিক দর্শকদের সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেয় এবং রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের পথ প্রশস্ত করে। এই জয়ের ফলে রোমাঞ্চকর ৩-২ গোলের ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

### পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ও বর্তমান ফর্ম

এই নাটকীয় জয়ের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পিএসজির ঠিক পরেই সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ভাগ করে নিচ্ছে মরিনহোর দল। এর আগে ঘরোয়া লিগে রেসিং সান্তানদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় এবং বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে ২-১ গোলের দারুণ জয়ের রেশ ধরে রেখে ইউরোপের মঞ্চেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল লস ব্লাঙ্কোসরা। কিলিয়ান এমবাপ্পের শততম গোল এবং মরিনহোর সুনির্দিষ্ট ট্যাকটিক্যাল ছক দলটিকে এই মৌসুমে দারুণ ছন্দে রেখেছে।

চলমান মৌসুমে ঘরোয়া এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়ালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রক্ষণভাগের জমাট ভাব এবং মাঝমাঠে বেলিংহাম ও ভালভের্দের আক্রমণাত্মক রূপ প্রতিপক্ষ দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এএইকে এথেন্সের মাঠে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি, তা তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডের আগে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।

গ্রিসের মাটিতে এই ম্যাচটিতে রেফারি মরিয়ানির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, বিশেষ করে বেলিংহামের প্রথম গোলটি বাতিল করা। তবে ভিএআর বা রেফারিদের সেই সিদ্ধান্তের পরও রিয়াল খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে খেলায় মনোনিবেশ করেছিলেন। মরিনহোর কড়া নির্দেশ এবং ডাগআউট থেকে দেওয়া সঠিক রণকৌশলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনতে সাহায্য করেছে।

ম্যাচ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, দুই দলই গোলের জন্য সমান তাগিদে খেলেছে। এএইকে এথেন্স ঘরের মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিলেও রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে কেইতা ও পিলোর গোলগুলো স্বাগতিকদের ম্যাচে দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রেখেছিল, কিন্তু ভালভের্দের ইনজুরি টাইমের শট সমস্ত সমীকরণ বদলে দেয়।

এই জয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ কেবল পূর্ণ তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং ইউরোপের অন্যতম সেরা প্রতিযোগিতায় নিজেদের টানা জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখল। পিএসজির সাথে পয়েন্ট টেবিলে যৌথভাবে শীর্ষে থাকা দলটি আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ফর্ম ধরে রাখতে মুখিয়ে থাকবে। কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে রিয়ালের এই মানসিক দৃঢ়তা এবং শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জেতার ক্ষমতা ফুটবল বিশ্বে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গ্রিক দর্শকদের ভিড়ে ঠাসা অলওয়াইন এরিনায় এই জয় রিয়াল মাদ্রিদের ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় রাত হিসেবে যুক্ত হলো। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্প্যানিশ শিবির যখন উল্লাসে ফেটে পড়ে, তখন স্বাগতিক সমর্থকরা হতাশার সাগরে ডুবে যায়। আগামী দিনগুলোতে রিয়াল মাদ্রিদের এই জয় দলের ড্রেসিংরুমে বাড়তি শক্তির জোগান দেবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)