ব্রুজেসে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বড় ব্যবধানে হারের তিন দিন পর লিগ ওয়ানে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নামে লেন্স। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বোলার্ট স্টেডিয়ামে প্যারিস এফসির বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। মৌসুমের শুরু থেকেই চমক দেখানো প্যারিস এফসির মুখোমুখি হয় লেন্স। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল একে অপরকে মেপে নিতে থাকে এবং প্রথমার্ধের শুরুতে খুব বড় কোনো আক্রমণ দেখা যায়নি। বৃষ্টি ও পরবর্তীতে স্টেডিয়ামে বাতাসের উপস্থিতির কারণে খেলার গতিপ্রকৃতি কিছুটা হলেও প্রভাবিত হয়। তবে লেন্সের অধিনায়ক মাঝমাঠে দলকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রাখার চেষ্টা চালান। থাউভিন মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরির কাজ করতে থাকেন এবং প্যারিস এফসির রক্ষণভাগকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। প্যারিস এফসির খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধের শুরুর দিকে কিছু আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করলেও লেন্সের রক্ষণ তাদের বেশ ভালোভাবেই প্রতিহত করে। কেব্বাল প্রথম দিকে কিছু ক্ষণিকের জন্য খেলায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
### খেলার প্রথমার্ধ ও প্যারিস এফসির প্রথম গোল
খেলার প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচের ডেডলক ভাঙে। আরএমসি স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুসারে, খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে লিড নেয় প্যারিস এফসি। কোলশো সিনাভোকোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে দারুণ এক আক্রমণ তৈরি করেন। এরপর তিনি অত্যন্ত নিখুঁত ও চমৎকার এক প্লেসিং শটে রিটারের রক্ষণ ভেদ করে বল জালে জড়ান। এই গোলটির পুরো বিল্ড-আপ শুরু হয়েছিল থাউভিনের একটি মিস করা মাদারের চেষ্টা থেকে। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়জুড়ে লেন্স ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করলেও শেষ মুহূর্তে এই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে। লেন্সের কোচ ও খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধে বলের দখল ধরে রাখলেও শেষ থার্ডে গিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পেতে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই লেন্স সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্যারিস এফসি প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও উদ্যমী ফুটবল উপহার দেয়। উডোলের চমৎকার একটি সেন্টার থেকে সোটোকা বল পেয়ে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর উদোল আবারও বাঁ দিক থেকে বল বাড়িয়ে সোটোকাকে খুঁজে নেন, কিন্তু সোটোকার অ্যাক্রোব্যাটিক শটও এনকাম্বাডিওর অসাধারণ সেভে ব্যর্থ হয়। লেন্স একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে এবং থাউভিনের সেট পিস ও পাসগুলো থেকে গোল আদায়ের চেষ্টা চালায়। আব্দুলহামিদের পাস থেকে বক্সের ভেতর শট নিয়েও লেন্সের এক খেলোয়াড় গোল করতে ব্যর্থ হন। এনকাম্বাডিও প্যারিস এফসির গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে একের পর এক দারুণ সেভ করে লেন্সের আক্রমণগুলো রুখে দেন।
ম্যাচের একটা পর্যায়ে লেন্সের পক্ষে পেনাল্টি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়। লেন্সের একটি ফ্রি-কিক থেকে বক্সে বল আসার পর হ্যান্ডবলের ঘটনা নিয়ে ভিএআর (VAR) পরীক্ষা শুরু হয়। রেফারি দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে রিপ্লে দেখতে থাকেন এবং তার সহকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কপোলার হাতে বল লাগার বিষয়টি নিয়ে দুই মিনিট ধরে ভিএআর পর্যালোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে প্যারিস এফসি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায়। লেন্স দল সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে এবং তাদের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে প্যারিস এফসির ডিফেন্ডাররা বেশ চাপের মুখে পড়েন।
ম্যাচের শেষের দিকে খেলায় নাটকীয়তার আরও বাকি ছিল। টোডিভো ও ইভানোভিকের পরিবর্তে আন্তোনিও এবং হ্যাজার্ড মাঠে নামেন। লেন্সের অধিনায়ক প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন এবং বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক আদায় করে নেন। এর কিছুক্ষণ পর ম্যাচের একেবারে রোমাঞ্চকর মুহূর্তে লেন্স সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। হ্যাজার্ডের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু কম্বিনেশন করে লেন্সের অধিনায়ক বক্সের সামনে বল পান। তিনি সঠিক কোণ খুঁজে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় নেন এবং বাঁ পায়ের জোরালো ও ক্রুস শটে বল সরাসরি জালে পাঠান। এই গোলের মাধ্যমে লেন্স ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায়।
সমতা ফেরানোর পরপরই ম্যাচের ভাগ্য বদলানোর আরেকটি বড় ঘটনা ঘটে। প্যারিস এফসির কেব্বালকে ফাউল করার অপরাধে লেন্সের ডিফেন্ডার জিন-ক্লেয়ার টোডিভোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় ফাউলের মুহূর্তে কেব্বাল নিজেই অফসাইড পজিশনে ছিলেন। এর ফলে রেফারি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং টোডিভো মাঠ ছাড়ার বিপদ থেকে বেঁচে যান। লেন্সের ডিফেন্ডার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন এবং দুই দলই খেলার বাকি সময়ে জয়সূচক গোলের জন্য লড়াই চালাতে থাকে। প্যারিস এফসির পক্ষে কেব্বালের বদলি হিসেবে এমবাম্বা মাঠে নামেন, যিনি প্রথমার্ধের শেষের দিকে গোল করার পর কিছুটা শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। সার্বিক দিক থেকে দুই দলের এই লড়াই লিগ ওয়ানে উত্তেজনাপূর্ণ এক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।