ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে এভারটনের কাছে ১-০ গোলের হারের মুখে পড়েছে নিউক্যাসেল ইউনাইটেড। দ্য গার্ডিয়ান ফুটবল জানিয়েছে যে, জ্যাক গ্রিলিশের অনুপস্থিতি এবং এভারটনের গুছিয়ে ওঠা পারফরম্যান্সের মাঝে ডেভিড ময়েসের তরুণ দলটির কাছে সেন্ট জেমস পার্কে পরাজিত হয়েছে নিউক্যাসেল। থিয়েনো ব্যারি ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে এভারটনকে জয় এনে দেন, যেখানে নিউক্যাসেল দলটিকে ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয়েছিল। এই হারের ফলে চলতি গ্রীষ্মের দলবদলের পর থেকে নতুন রূপ নেওয়া ম্যাথিয়াস জাইসলের দলটিকে ঘিরে সমর্থক ও বোদ্ধাদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর আবারও সমর্থকদের অসন্তোষ ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচ জাইসলকে। এর আগে কারাবাও কাপে এভারটনের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছিল নিউক্যাসেল, যা জাইসলের কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতেই তাকে কঠিন চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে জাইসল যখন সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে মাঠে গিয়েছিলেন, তখন ৭ হাজার ৭৩২ জন ভ্রমণকারী সমর্থকের অধিকাংশই স্টেডিয়াম ছেড়ে গ্যালারি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এডি হকের মতো একজন সফল কোচের স্থলাভিষিক্ত হওয়া সবসময়ই কঠিন ছিল, বিশেষ করে যখন সেন্ট জেমস পার্কে তার প্রথম চার বছরের সাফল্য বিবেচনা করা হয়। এর ওপর গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ব্রুনো গুইমারেস, অ্যান্থনি গর্ডন, সান্দ্রো তনালি এবং ক Kieran Trippier-এর ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়া এবং জাইসলের একেবারে শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলস্বরূপ, আসন্ন জানুয়ারি দলবদল উইন্ডোতে কোচ জাইসল যে দলের শক্তি বাড়াতে আরও কিছু নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর আশা করবেন, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, ডেভিড ময়েসের জন্য পরিস্থিতিও পুরোপুরি সহজ ছিল না, বিশেষ করে জ্যাক গ্রিলিশের ক্লাব শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে। অনুমতি ছাড়াই একটি প্রশিক্ষণ সেশন মিস করার পর থেকেই উইঙ্গার গ্রিলিশ দলের বাইরে রয়েছেন এবং দুই দলের মধ্যকার কারাবাও কাপ ম্যাচেও তিনি দলে ছিলেন না, এবারও তাকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে ডিফেন্ডার জ্যারার্ড ব্র্যানথওয়েট কনকাশন প্রোটোকলের কারণে দুটি ম্যাচ মিস করার পর এই ম্যাচে ফিরে আসায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ময়েস।
### ম্যাচের প্রথমার্ধের লড়াই ও মাঠের চিত্র
ম্যাচের প্রথমার্ধের লড়াইয়ে দুই দলই বল পায়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারেনি, বরং সেন্ট জেমস পার্কে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছিল। স্বাগতিকদের অন্যতম বড় হুমকি হার্ভে বার্নস ম্যাচের শুরুর দিকে বাঁ দিক থেকে নিজের পছন্দের ডান পায়ে কাট ইন করে দুটি সুযোগ তৈরি করলেও তার সেই প্রচেষ্টাগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। নিউক্যাসেলের চাপের মুহূর্তে জোয়েলিন্টনের একটি শট জেমস টার্কোভস্কির দ্বারা ব্লক হয়। স্টেডিয়ামের গ্যালারি সাধারণত সমর্থকদের উল্লাসে উত্তাল থাকে, কিন্তু প্রথমার্ধে ডেসিবেলের মাত্রা খুব একটা বাড়েনি। অর্ধেকের শেষের দিকে বার্নস তৃতীয়বারের মতো ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ব্র্যানথওয়েটের গায়ে লেগে বলের সামান্য দিক পরিবর্তনে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড কিছুটা চিন্তায় পড়েছিলেন। তবে সত্য বলতে প্রথমার্ধের প্রথম ৪৫ মিনিটে হোম গোলরক্ষক লুকাস হোর্নিচেক বা পিকফোর্ডের কাউকেই বড় কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এভারটনের হয়ে জেইক ও'ব্রায়ান এবং হ্যারিসন আর্মস্ট্রং সুযোগ পেলেও তাদের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
### দ্বিতীয়ার্ধের ভুল ও ম্যাচের শেষ পরিণতি
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এভারটন হোর্নিচেককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে এবং গোলরক্ষকের একটি বড় ভুলে পিছিয়ে পড়ে নিউক্যাসেল। বাঁ দিক থেকে ট্রাইকি জর্জের একটি সাধারণ শট গোলরক্ষক হোর্নিচেকের শরীর ভেদ করে ফসকে বেরিয়ে যায় এবং থিয়েনো ব্যারি কৃতজ্ঞচিত্তে সেই ফাঁকা জালে বল ঠেলে দেন। চলতি মৌসুমে নিউক্যাসেল বেশ কয়েকটি সহজ গোল হজম করেছে, এবং এভারটন যেভাবে তাদের রক্ষণ ভেদ করেছে তাতে জাইসল নিশ্চিতভাবেই খুশি হননি। এরপর এভারটন দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং নিউক্যাসেল কোচ জো উইলোক ও নিকো গঞ্জালেসের পরিবর্তে ইয়োয়ান উইসা এবং শান স্টুয়ারকে মাঠে নামান। সেন্ট জেমস পার্কে দারুণ শুরুর পর থেকে শান স্টুয়ারকে গত কয়েকটি ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখা গেছে, যা আয়াক্স থেকে আসার পর তার প্রাথমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করে কিছু সমর্থককে অবাক করেছে। স্টুয়ার্ট মাঠে নামার পরপরই বার্নস বাঁ দিক থেকে একটি ক্রস বাড়ান যা দূরের পোস্টে থাকা অ্যান্থনি এলাঙ্গার পায়ে পৌঁছায়। বল গোললাইন ঘেঁষে গড়িয়ে গেলেও পুরোপুরি রেখা অতিক্রম করতে পারেনি এবং এভারটন বিপদ পরিষ্কার করে দেয়।
### শেষ মুহূর্তের নাটক ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে জাইসল জ্যাক মারফি এবং জ্যাক রামসিকে মাঠে নামিয়েছিলেন, কিন্তু নিউক্যাসেল তখনও এভারটনের গতিশীল এবং কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর দলের চাপে কোণঠাসা ছিল। সেন্ট জেমস পার্কের লেভেল ৭-এ থাকা ভ্রমণকারী সমর্থকদের চিৎকারের মাঝে নিউক্যাসেলের পক্ষে কিছু অর্ধ-সুযোগ এলেও সেগুলো কাজে লাগেনি। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে জ্যাক রামসি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়লে নিউক্যাসেলের সমতা ফেরানোর সমস্ত আশায় পানি ঢেলে যায়। প্রিমিয়ার লিগের রেলিগেশন জোন থেকে এই দলটি ঠিক কত উঁচুতে মৌসুম শেষ করতে পারবে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন অনেক সমর্থক। শীতকালীন চ্যালেঞ্জিং সময় আসার আগে রক্ষণ ও আক্রমণ—উভয় বিভাগেই জাইসলকে সমাধান করতে হবে অসংখ্য সমস্যা।