স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, সিরি আ-এর নবম রাউন্ডের ম্যাচে সান সিরোতে এসি মিলান ২-৪ গোলে পরাজিত হয়েছে বোলোগনার বিপক্ষে। এই হারের ফলে আগামী শনিবার ইন্টার মিলানের বিপক্ষে বড় সিটি ডার্বির আগে রুবেন আমোরিমের দলের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে এসি মিলান পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে এবং টেবিলের শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের চেয়ে তারা সাত পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে। ইন্টার মিলান এই রাউন্ডেই ভেনেজিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। অন্যদিকে, বোলোগনা দল পয়েন্ট তালিকার একাদশ স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বোলোগনা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খেলার শুরুতেই নাদির জোর্তেয়া মিলানের রক্ষণভাগে ভীতি সৃষ্টি করেন এবং ম্যাচের অষ্টম মিনিটে স্যামুয়েল এমবাগুলার কল্যাণে রাফায়েলে পাল্লাদিনোর দল লিড নেয়। ইউনুস মুসা বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে জোর্তেয়া বল দখল করে নেন এবং একটি নিচু ক্রস বাড়ান। সম্পূর্ণ ফাঁকায় থাকা স্যামুয়েল এমবাগুলা ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে বোলোগনাকে এগিয়ে দেন।
শুরুর ওই ধাক্কা সামলে এসি মিলান ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং সাময়িকভাবে ব্যবধান নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে। আর্থার থিয়েটের একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে হাচিনসন বল কেড়ে নেন এবং তা আলফাদজো সিসেকে বাড়িয়ে দেন। ম্যাচের চতুর্দশ মিনিটে সিসে গোল করে চলতি সিরি আ মৌসুমে তার নামের পাশে তৃতীয় গোলটি যোগ করেন।
ম্যাচের সাতাশতম মিনিটে সিসে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন। ফিকায়ো তেমোরির একটি দুর্দান্ত ক্রস থেকে বল পেয়ে সিসে ২-১ ব্যবধানে মিলানকে এগিয়ে দেন। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল তার সপ্তম গোল। তবে ফিহায়ো তেমোরি এই অর্ধে চোট পাওয়ায় ৪২তম মিনিটে তাকে মাঠ ছেড়ে উঠে যেতে হয়, যা মিলানের জন্য বড় একটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির পর লুকা মদ্রিচ মাঠে নামলেও খেলার চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এবং দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় জুড়ে বোলোগনা আধিপত্য বিস্তার করে। ম্যাচের একষট্টিতম মিনিটে দাভিদে বারেতেসির আত্মঘাতী গোলের সুবাদে সমতায় ফেরে বোলোগনা। এর মাত্র এক মিনিট পর বা ৬২তম মিনিটে এমবাগুলা নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। জুয়ান মিরান্ডার একটি চমৎকার ক্রস থেকে বল পেয়ে তিনি আমাদো দিয়ারাকে কাটিয়ে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করেন।
খেলা শেষের ঠিক চার মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে ইয়েন্স ওদগাদের সহায়তায় বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড এমবাগুলা নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং ম্যাচের ফলাফল ৪-২ করেন। এই গোলের মাধ্যমে বোলোগনার জয় পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায় এবং সান সিরোর দর্শকরা স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
### ম্যাচের শেষ মুহূর্তের লড়াই ও সমীকরণ
ম্যাচে বেশ কয়েকটি গোল হজম করার পর এসি মিলানের আক্রমণভাগ তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। খেলার একদম শেষ পর্যায়ে, ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক ব্যবধান কমানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। মুসার বাড়ানো একটি ক্রস থেকে তিনি চমৎকার হেডার নিলেও বোলোগনার গোলরক্ষক লুকাস স্কোরুপস্কি দুর্দান্ত এক সেভ করে মিলানের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ম্যাচের ফলাফল টেবিলের শীর্ষস্থান এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। রুবেন আমোরিমের শিষ্যরা যখন নিজেদের ঘরের মাঠে তিন পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল, তখন পাল্লাদিনোর ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন এবং এমবাগুলার গোলের ধার মিলানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে দেয়।
পয়েন্ট টেবিলে এসি মিলান এখন পঞ্চম স্থানে রয়েছে, যা তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অঞ্চলের কাছাকাছি রাখলেও শীর্ষস্থানের ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বা লিগের শীর্ষ দল ইন্টার মিলান তাদের ম্যাচ জিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে মিলানের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া তাদের পরাজয়ের মূল কারণ ছিল। বিশেষ করে ফিকায়ো তেমোরির ইনজুরি রক্ষণকে আরও দুর্বল করে তোলে, যার সুযোগ নেয় সফরকারী বোলোগনা।
আসন্ন শনিবারে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী ডার্বি ম্যাচের আগে এই হার আমোরিম এবং তার কোচিং স্টাফদের জন্য নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। দলের খেলোয়াড়দের মানসিক এবং শারীরিক পুনরুদ্ধার এখন কোচিং প্যানেলের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বোলোগনার জন্য এই জয়টি লিগ টেবিলে তাদের অবস্থান উন্নত করার পাশাপাশি দলের আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। রাফায়েলে পাল্লাদিনোর দল মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের পূর্ণ সামর্থ্য প্রমাণ করেছে এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে শক্তিশালী মিলানকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছে।
সান সিরোর এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের লড়াই এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘক্ষণ মনে রাখবে। এখন সবার নজর আগামী শনিবারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল কাঙ্ক্ষিত মিলান ডার্বির দিকে, যেখানে উভয় দলই ঘুরে দাঁড়ানোর বা নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে।