ফুটবল ইতালিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সাসসুওলোর মাঠ মাপেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফিওরেন্টিনা। ম্যাচের পুরো সময়জুড়েই ছিল টানটান উত্তেজনা, যেখানে নির্ধারিত ও ইনজুরি সময় মিলিয়ে মোট ছয়টি গোল দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। এই জয়ে সিরি আ টেবিলের রেলিগেশন অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা ফিওরেন্টিনা মূল্যবান তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আটালান্টার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছিল পাওলো ভানোরির দল, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ পয়েন্টে আটকে রেখেছিল। অন্যদিকে, স্বাগতিক সাসসুওলো গত মঙ্গলবার লাজিওর বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৬-২ ব্যবধানের এক বড় হারের ক্ষত নিয়ে এই ম্যাচে নেমেছিল। আট পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের ১৪তম স্থানে অবস্থান করছিল। এই ম্যাচে সাসসুওলোর কোচ আলবার্তো আকুইলানি লাজিওর বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া ক্রিস্টিয়ান থোরসভেডকে পাননি, এবং দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরিতে থাকা কোনে ও লেইসেনও দলের বাইরে ছিলেন। তবে এই ম্যাচে সাসসুওলোর একাদশে ফিরেছিলেন জেই ইদজেস। ফিওরেন্টিনা শিবিরেও কোচ পাওলো ভানোরি মারিন পংগ্রাচিচ এবং পারিসিকে পাননি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায়। ম্যাচের প্রথম দিকে বলের দখলে এগিয়ে ছিল ভিওলা খ্যাত ফিওরেন্টিনা দল। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং পরবর্তীতে ভিয়েরি জুটির ক্রস থেকে আসা মাতেও পেলিগ্রিনোর হেড দারুণভাবে রক্ষা করেন গোলরক্ষক স্তেফানো তুরাতি। তবে খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে প্রথম গোল পায় স্বাগতিক সাসসুওলো। সেবাস্টিয়ানো এসপোসিতোর পাস থেকে কাউন্টার-অটাকে বল পেয়ে যান আরমান্দ লরিয়েন্তে। ফরাসি ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন ফিওরেন্টিনার জালের নিচের বাম কোণ দিয়ে।
গোল হজম করার পর ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ফিওরেন্টিনা। সমতা আনতে মরিয়া হয়ে উঠা দলটি বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায়, যার একটিতে মাস্তানতুওনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষ সময়টি ছিল বেশ খণ্ডিত এবং আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের। এই সময়ে রেফারি রাদু দ্রাগুশিন, ইব্রাহিম সুলেমান এবং আলিউ জিয়ে-কে হলুদ কার্ড দেখান। তবে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সফরকারীরা। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আলিউ জিয়ে বক্সের ভেতর বল বাড়িয়ে দেন পেলিগ্রিনোকে। ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ দক্ষতায় নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন।
বিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই ম্যাচের ফল নিজেদের অনুকূলে এনে লিড নেয় ফিওরেন্টিনা। মার্কো ব্রেসিয়ানিনির বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে যান আলিউ জিয়ে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার নিচু শটটি গোলরক্ষক স্তেফানো তুরাতিকে পরাস্ত করে নিচের ডান কোণ দিয়ে জালে প্রবেশ করে। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারী দল ফিওরেন্টিনা।
গোল হজম করার পর পিছিয়ে পড়া সাসসুওলো ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। অসাধারণ এক একক নৈপুণ্য দেখিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢোকা মাস্তানতুওনোর একটি শট রুখে দিয়ে দলকে বাঁচান গোলরক্ষক তুরাতি। তবে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। নেমানজা মাতিচের বাড়ানো ক্রসে দারুণ শট নেন আরমান্দ লরিয়েন্তে। কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তার শটটি সোজা চলে যায় জালের ওপরের ডান কোণে। মাঠের রেফারি মার্সেনারো গোলটি হওয়ার আগে হ্যান্ডবলের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তা দেখার জন্য ভিএআর রিভিউ করেন, তবে শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকে এবং স্কোরলাইন ২-২ সমতায় ফিরে আসে।
### কৌশলগত পরিবর্তন এবং নাটকীয় শেষাংশ
ম্যাচের এই পর্যায়ে দুই দলের কোচই নিজেদের বেঞ্চ ব্যবহার করে কৌশলগত পরিবর্তনে হাত দেন। ফিওনেন্টিনার কোচ পাওলো ভানোরি মাঠে নামান উইলফ্রিড গ্নোতো, ক্রিস্ট ইনাও ওুলাই, বেতো এবং পোতেকে। অন্যদিকে সাসসুওলো শিবিরে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সেবাস্টিয়ান ওয়ালুকিয়েভিচ। ভানোরির এই বদলি সিদ্ধান্ত দারুণভাবে কাজে লেগে যায়। মাঠ নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে সুফল পায় ফিওরেন্টিনা। বদলি হিসেবে নামা পোতে বল বাড়িয়ে দেন মাস্তানতুওনোর উদ্দেশ্যে। তরুণ মিডফিল্ডার বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের আউটার এজ থেকে চমৎকার বাঁ পায়ের শটে নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান। এই গোলটি ফিওরেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে।
ম্যাচটি নিজেদের অনুকূলে নিরাপদ করার জন্য ফিওরেন্টিনা ব্যবধান বাড়ানোর আরও চেষ্টা চালায়। বদলি খেলোয়াড় বেতো দূরপাল্লার একটি শট নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে সাসসুওলো সমতা ফেরানোর জন্য আর কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে জয় নিশ্চিত করেন ভিক্টর ভালদেপেনাস। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল করে ফিওরেন্টিনার ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে গোলদাতাদের তালিকায় নাম তোলেন সাসসুওলোর আরমান্দ লরিয়েন্তে (২৫ ও ৬৫ মিনিট), এবং ফিওরেন্টিনার মাতেও পেলিগ্রিনো (৪৫+২ মিনিট), আলিউ জিয়ে (৫০ মিনিট), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর (৭৯ মিনিট) ও ভিক্টর ভালদেপেনাস (৯০+৩ মিনিট)। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ফিওরেন্টিনা সিরি আ টেবিলের রেলিগেশন জোন থেকে কিছুটা ওপরে উঠে এলো এবং নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করল। অন্যদিকে সাসসুওলো টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের স্বাদ পেল, যা তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।