/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

মারবেয়া ক্যাম্পের প্রভাবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ইতিহাস: চেলসিকে হারিয়ে দে জের্বির টটেনহ্যামের বড় চমক

সূত্র: RMC Sport Football (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম রাউন্ডে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। মারবেয়া সফরের পর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১২তম স্থানে উঠে এসেছে রোবার্তো দে জের্বির শিষ্যরা।
মারবেয়া ক্যাম্পের প্রভাবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ইতিহাস: চেলসিকে হারিয়ে দে জের্বির টটেনহ্যামের বড় চমক
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে মৌসুমে টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে দে জের্বির টটেনহ্যাম।
•
ম্যাচের প্রভাব: পর পর দুই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে একলাফে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের ১২তম স্থানে উঠে এসেছে স্পার্সরা।
•
সামনে কী: পরবর্তী ম্যাচে ঘরের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হয়ে জয়ের ধারা বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে টটেনহ্যাম।

ফরাসি খেলাধুলাভিত্তিক ক্রীড়া মাধ্যম আরএমসি স্পোর্টের (RMC Sport) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ দ্বৈরথে স্বাগতিক চেলসিকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। চলতি ২০২৬ মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয় পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হওয়া স্পার্সদের জন্য এটি ছিল টানা দ্বিতীয় সাফল্য। এর আগে গত সোমবারের ম্যাচে কোভেন্ট্রিকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে মৌসুমে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল উত্তর লন্ডনের দলটি। সেই জয়ের পরপরই ইতালিয়ান কোচ রোবার্তো দে জের্বির অধীনে স্পেনের মারবেয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত ও নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বা 'রিতিরো' সম্পন্ন করে পুরো দল। দে জের্বি ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল দলটির প্রথম মারবেয়া সফর, আর সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব মাঠের ফুটবলে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্লুজদের ডেরায় এই জয় দিয়ে ক্লাবটিতে দে জের্বি যুগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক ফর্ম—কোনোটিই এই ম্যাচের আগে টটেনহ্যামের অনুকূলে ছিল না। ১৯৯২ সালে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগ নামকরণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের মাঠে টটেনহ্যামের জয়ের রেকর্ড ছিল মাত্র একটি, যা এসেছিল ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে। দীর্ঘ এই খরা এবং চেলসির ঘরের মাঠের প্রবল চাপের কারণে ম্যাচের আগে সব পূর্বাভাসে স্বাগতিক চেলসিকেই পরিষ্কার ফেভারিট ধরা হয়েছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে রোবার্তো দে জের্বির শিষ্যরা অদম্য মানসিকতা, অসীম সাহস এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে এক বড় ধাক্কা খাওয়ার পরেও টটেনহ্যাম দমে যায়নি। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা দলের প্রধান আক্রমণাত্মক প্লেমেকার জেমস ম্যাডিসন ম্যাচের ৫১তম মিনিটে পুনরায় খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মূল ক্রিয়েটরকে হারানোর পরেও নিজেদের কৌশল ধরে রেখে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যায় সফরকারীরা।

### লাল কার্ডের ধাক্কা, গোলরক্ষকের ভুল ও টটেনহ্যামের আধিপত্য

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বল ফিস্ট করতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসেন চেলসির গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্স। তার পাঞ্চের ব্যর্থতায় বল সোজা জালে আশ্রয় নেয় এবং একটি আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। একাদশের নিয়মিত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কারণে ২১ বছর বয়সী এই তরুণ বেলজিয়ান গোলরক্ষককে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার এই একক ভুলের খেসারত দিতে হয় পুরো চেলসি দলকে। পিছিয়ে পড়ার চাপ সামলে ওঠার আগেই চেলসি শিবিরে বড় আঘাত হানেন তাদের সেরা তারকা কোল পামার। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে কনর গ্যালাঘারের পায়ে ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন চেলসির এই ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড। এর আগে ৭২তম মিনিটে মাতেউস ফার্নান্দেসের সঙ্গে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনায় জড়িয়ে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন পামার। মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে দুটি কার্ড দেখে পামার মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় চেলসি।

স্বাগতিকদের এই বিপদের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় স্পার্সরা। ৮৭তম মিনিটে টটেনহ্যামের ফরাসি ফরোয়ার্ড মাথিস তেল এক একক নৈপুণ্যের মাধ্যমে ম্যাচের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত গোলটি করেন। বল নিয়ে প্রায় ৫০ মিটারের এক বিদ্যুৎগতির দৌড় শেষে চেলসির জালে বল জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই স্মরণীয় জয়ের নেপথ্যে টটেনহ্যামের গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির ভূমিকাও ছিল অনন্য। পুরো ম্যাচজুড়ে চেলসির একাধিক নিশ্চিত গোল করার চেষ্টা তিনি নস্যাৎ করে দেন। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে কোল পামার, ৩৬তম মিনিটে জর্ডান হেন্ডারসন, ৩৭তম মিনিটে মরগান রজার্স এবং ৬২তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর দূরপাল্লার ও জোরালো শটগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেভ করেন কিনস্কি।

এই টানা দ্বিতীয় জয়ের ফলে লিগ টেবিলের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে টটেনহ্যামের জন্য। এক সপ্তাহ আগেই যারা অবনমন বা ডেঞ্জার জোনে অবস্থান করছিল, দে জের্বির সেই দল এখন লিগ টেবিলের ১২তম স্থানে উঠে এসেছে। যদিও অষ্টম রাউন্ডের আরও কিছু ম্যাচ বাকি রয়েছে, তবুও এই জয় দলকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। অন্যদিকে চেলসির জন্য এটি বড় এক ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। টটেনহ্যামের পরবর্তী লিগ ম্যাচ আগামী সপ্তাহে, যেখানে তারা ঘরের মাঠে আতিথ্য দেবে ক্রিস্টাল প্যালেসকে। মারবেয়া ক্যাম্পের পর ঘুরে দাঁড়ানো স্পার্সরা সেই ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রেখে টেবিলের ওপরের দিকে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)