আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবে দেপোর্তেসের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়ামে মেজর লিগ সকার বা এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমের শেষভাগে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার মায়ামি। ম্যাচটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-1 গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে দ্য হ্যারনস বা দ্য হেরনস খ্যাত ইন্টার মায়ামি। এই জয়ের ফলে ফ্লোরিডার ক্লাবটি কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থান পুনরুদ্ধার করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় এবং প্রথম অর্ধের বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুতে রদ্রিগো ডি পল রিকুয়েলমে ফিলিপির উদ্দেশ্যে উঁচু পাস বাড়ালেও তা গোলমুখে কার্যকর শটে রূপ নিতে পারেনি। এরপর কার্লেস গিল ও ড্যানিয়েল গাজদাগের সম্মিলিত আক্রমণে কর্নার আদায় করে নেয় নিউ ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের মাঝপথে কউন্টার অ্যাটাকে যায় ইন্টার মায়ামি এবং জার্মান বার্তেরামে গোল করার চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার নিশ্চিত সেভ করেন। প্রথমার্ধের শেষভাগে স্বাগতিকদের ইলাই ফেইংগোল্ড গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মায়ামির রক্ষণভাগ দৃঢ়তার সাথে গোলশূন্য সমতা বজায় রাখে।
দ্বিতীয় অর্ধে খেলার চিত্র বদলায় এবং স্বাগতিক দল তাদের চাপ ধরে রেখে এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে পെയ്টন মিলার ডান দিক দিয়ে বল বাড়িয়ে ইলাই ফেইংগোল্ডকে দেন, যিনি ব্যাকহিল পাস বাড়ান ড্যানিয়েল গাজদাগের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে নিখুঁত শটে গোল করে নিউ ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন গাজদাগ। এর কিছুক্ষণ পর লিওনেল মেসি একক নৈপুণ্যে শট নিলেও তা প্রতিহত করেন গোলরক্ষক টার্নার এবং ফিরতি বলে বার্তেরামের শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন ব্রুকলিন রেইনস।
অবশেষে ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে সমতা ফেরায় ইন্টার মায়ামি। টেলাকো সেগোভিয়ার বাড়ানো ক্রসে হেড করে বল সতীর্থ জার্মান বার্তেরামের পায়ে বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, আর সেখান থেকে গোল করে স্কোর ১-১ করেন বার্তেরামে। এর ঠিক চৌদ্দ মিনিট পর ম্যাচের ৮২তম মিনিটে নিজের চেনা ছন্দে জাদুকরী গোল করেন লিওনেল মেসি। টেলাকো সেগোভিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকারভাবে ঘুরে ব্রুকলিন রেইনস ও অন্য ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকোণি শটে বল জালে জড়িয়ে ইন্টার মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শেষদিকে লুক লঙ্গোনির ক্রসে ইয়ান ফ্রের হেডের চেষ্টা নিজেদের জালেই জড়াতে বসেছিল এবং পরবর্তীতে নিউ ইংল্যান্ডের একটি সমতাসূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। এই জয়ের ফলে ইন্টার মায়ামি কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নিয়মিত মৌসুম শেষ করেছে। শীর্ষস্থানাধিকারী ন্যাশভিল এসসি থেকে তারা ১৫ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে, তবে তারা আগেই প্লে-অফ এবং কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের স্থান পাকা করেছে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে নিউ ইংল্যান্ডের চার ম্যাচের জয়রথ থেমে গেছে এবং তারা ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
### ফর্ম ও পরবর্তী সূচি
চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির প্রচারণায় লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। ক্লাবটির অধিনায়ক ৩০ ম্যাচে ২৬ গোল করেছেন এবং ১৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা তাকে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিন এবং সিনসিনাটির ইভান্দারের সাথে টুর্নামেন্টের অন্যতম শীর্ষ আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া মেসি এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন মৌসুমে কমপক্ষে ১৫টি অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। অ্যাসিস্টের তালিকায় তার স্বদেশী রদ্রিগো ডি পল ১৪টি গোল পাস নিয়ে তার সাথে অবস্থান করছেন।
নিউ ইংল্যান্ডের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরার পর ইন্টার মায়ামি আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার নিজেদের মাঠে শার্লট এফসির বিপক্ষে নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে। একই দিনে নিউ ইংল্যান্ডও প্লে-অফের আগে তাদের শেষ ম্যাচটি খেলবে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে। এমএলএসের সূচি অনুযায়ী প্রতিটি কনফারেন্সের অষ্টম ও নবম স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যকার প্লে-ইন বা রেপেশ ম্যাচগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। কনফারেন্স কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে, যা সেরা তিন ম্যাচের সিরিজে অনুষ্ঠিত হবে এবং নিয়মিত মৌসুমে এগিয়ে থাকা দলগুলো হোম সুবিধা পাবে। এরপর কনফারেন্স সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচগুলো একক লেগের ভিত্তিতে সেরা দলের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। মৌসুমের চূড়ান্ত ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বরে।
ম্যাচটিতে নিউ ইংল্যান্ডের মূল একাদশে খেলেছেন ম্যাট টার্নার, ইলাই ফেইংগোল্ড, ইথান কোহলার, জোশুয়া ওয়াইন্ডার, উইলিয়ান স্যান্ডস, পെയ്টন মিলার, ম্যাথিউ পলস্টার, কার্লেস গিল, ব্রুকলিন রেইনস, ড্যানিয়েল গাজদাগ ও ডর তুর্গেম্যান এবং তাদের কোচ ছিলেন মার্কো মিত্রোভিচ। অন্যদিকে ইন্টার মায়ামির একাদশে ছিলেন ডেন সেন্ট ক্লেয়ার, গঞ্জালো লুজান, কাসেমিরো, মাইকেল, ইয়ান ফ্রে, রদ্রিগো ডি পল, টেলাকো সেগোভিয়া, ইয়ানিক ব্রাইট, রিকুয়েলমে ফিলিপি, লিওনেল মেসি ও জার্মান বার্তেরামে এবং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেজ।