/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

জেসুস দে মিগেলের প্রয়াণে শোকের ছায়া, এফসি আন্দোরা গোলরক্ষক জেসুস ওওয়োনোকে রক্ষায় সতীর্থের মন্তব্য

টেনেরিফে ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এফসি আন্দোরা গোলরক্ষক জেসুস ওওয়োনোকে সমর্থন জানিয়েছেন তার সতীর্থ লাউতারো স্পাতজ। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে সংঘটিত এই সংঘর্ষের ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে গভীর শোক।
জেসুস দে মিগেলের প্রয়াণে শোকের ছায়া, এফসি আন্দোরা গোলরক্ষক জেসুস ওওয়োনোকে রক্ষায় সতীর্থের মন্তব্য
প্রতীকী ছবি • Unsplash
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: ম্যাচ চলাকালীন সংঘর্ষে টেনেরিফে ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগেলের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং গোলরক্ষক জেসুস ওওয়োনোর প্রতি সতীর্থের সমর্থন।
•
ম্যাচের প্রভাব: স্পেনের ঘরোয়া ম্যাচ স্থগিত এবং চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ম্যাচে শ্রদ্ধা ও নীরবতা পালন।
•
সামনে কী: স্প্যানিশ পুলিশের স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল অনুযায়ী তদন্ত এবং আগামী শনিবার স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

স্প্যানিশ ফুটবলে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর এফসি আন্দোরার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লাউতারো স্পাতজ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে টেনেরিফে ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গোলরক্ষক জেসুস ওওয়োনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাকে নিয়ে চলা বিভিন্ন আলোচনার জবাব দিয়েছেন। স্কাই স্পোর্টস ফুটবলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওওয়োনো এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে তার অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন। এই আকস্মিক দুর্ঘটনা গোটা ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

গত সোমবার স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচ চলাকালীন এফসি আন্দোরা গোলরক্ষক জেসুস ওওয়োনো এবং টেনেরিফে ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগেলের মধ্যে একটি অনভিপ্রেত সংঘর্ষ ঘটে। গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ওওয়োনো অত্যন্ত জোরালোভাবে আঘাত করেন ৩০ বছর বয়সী দে মিগেলের ওপর। এর ফলে মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে এসে ম্যাচটি স্থগিত করতে বাধ্য হন ম্যাচ অফিশিয়ালসরা।

ম্যাচ চলাকালীন এই সংঘর্ষের পরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দে মিগেল এবং পরবর্তীতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন তিনি। মঙ্গলবার সকালে টেনেরিফে ক্লাব জানায় যে তাদের ফরোয়ার্ড আর বেঁচে নেই। ক্লাব বিবৃতিতে জানায় যে, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং এই সত্যটি বিশ্বাস করতে না পেরে তারা ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সকাল ৮টায় জেসুস দে মিগেল আলমানাদার প্রয়াণ ঘোষণা করছেন। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা নেই এবং তারা শোকসন্তপ্ত পরিবার ও টেনেরিফে কমিউনিটির পাশে রয়েছে।

এই ঘটনার পর স্প্যানিশ পুলিশ সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার অভিযোগে একটি তদন্ত শুরু করেছে। তবে স্কাই স্পোর্টস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ দে টেনেরিফের প্রধান প্রসিকিউটর জোসে লুইস সানচেজ-জাউরেগি স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই-কে জানিয়েছেন যে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস হলেও ফৌজদারি কার্যধারা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। স্পেনের আইন অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের তদন্ত পরিচালিত হয়ে থাকে।

আন্দোরার ডিফেন্ডার লাউতারো স্পাতজ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন যে দে মিগেলের মৃত্যু এমন একটি ট্র্যাজেডি যা তাদের সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে এবং ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার আরও উল্লেখ করেন যে তিনি তার সতীর্থ, গোলরক্ষক এবং বন্ধু ওওয়োনোর জন্যও কিছু বলতে চান যিনি এই ঘটনায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। স্পাতজ জানান যে যারা ওওয়োনোকে চেনেন তারা জানেন তিনি কেমন মানুষ এবং এই মুহূর্তে তিনি কতটা কষ্ট পাচ্ছেন।

সতীর্থ ওওয়োনোর বিষয়ে স্পাতজ পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে গোলরক্ষক কখনোই কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামেননি। ফুটবলে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে থাকে, কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারে না যে এর পরিণাম এমন মর্মান্তিক হতে পারে। এই কঠিন সময়ে ওওয়োনোর মানসিক পরিস্থিতি এবং তার সতীর্থদের অবস্থান পরিষ্কার করতে স্পাতজের এই বার্তাটি ফুটবল মহলে বেশ আলোচিত হয়েছে।

### শোকের আবহ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মাঠ

এদিকে টেনেরিফের হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে ভক্তরা সমবেত হয়ে প্রয়াত দে মিগেলের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানান। ক্লাব কর্তৃপক্ষ দলের এই ফরোয়ার্ডের স্মরণে ছয় দিনের সরকারি শোক ঘোষণা করেছে। আগামী শনিবার সন্ধ্যায় স্টেডিয়ামে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হবে যেখানে সমর্থকদের উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এই শোকের আবহকে সম্মান জানিয়ে মঙ্গলবার স্পেনের ঘরোয়া ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে ইউরোপীয় অঙ্গনে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ায়। এর মধ্যে বার্সেলোনা এবং অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার ম্যাচটি ক্যাম্প নউয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মোড়ক উন্মোচন করা হয় ক্যাম্প নউয়ের নীরব পরিবেশের। উল্লেখ্য, এই ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-০ গোলের জয় তুলে নেয় যেখানে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া জোড়া গোল করেন।

ম্যাচ শেষে সিবিএস স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাফিনিয়া খেলার ফলাফল নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন যে তিনি জেসুসের পরিবারের প্রতি অনেক শক্তি পাঠাতে চান এবং সেদিন তার পক্ষে ফুটবল নিয়ে কথা বলা সম্ভব ছিল না। রাফিনিয়া যোগ করেন যে এই খবর দেখার পর তার ভালো লাগেনি এবং একজন সতীর্থের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা যেকোনো কারো সাথেই ঘটতে পারত, এমনকি তার নিজের সাথেও।

রাফিনিয়া আরও বলেন যে প্রয়াত ফরোয়ার্ডের বয়স তার নিজের সমবয়সী ছিল, যা হয়তো তাকে আরও বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। দিনটি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। মাঠের বাইরের এই মানবিক প্রতিক্রিয়া ফুটবলারদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এফসি আন্দোরা ক্লাব এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ক্লাব জানিয়েছে যে তারা এই খবর শুনে অত্যন্ত মর্মাহত এবং তাদের প্রথম কাজ হলো দে মিগেলের পরিবার, সিডি টেনেরিফে এবং তার কাছের মানুষদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে তারা জানেন এই ধরনের ব্যথা কমানোর মতো কোনো ভাষা নেই, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি যেন জানতে পারে যে ক্লাব তাদের পাশেই রয়েছে এবং তাদের এই গভীর শোকে আন্দোরাও সমব্যথী।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)