/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

শেষ মুহূর্তের গোলে ক্রিস্টাল প্যালেসকে রক্ষা করলেন কামাদা

ইউরোপা লিগে হোফেনহাইমের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দাইচি কামাদার শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করেছে দশ জনের ক্রিস্টাল প্যালেস। দলটির কোচ পিয়ের সেজ ম্যাচে দলের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শেষ মুহূর্তের গোলে ক্রিস্টাল প্যালেসকে রক্ষা করলেন কামাদা
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: হোফেনহাইমের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দাইচি কামাদার শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করেছে দশ জনের ক্রিস্টাল প্যালেস।
•
ম্যাচের প্রভাব: ইউরোপা লিগের পয়েন্ট টেবিলে ২০তম অবস্থানে রয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস।
•
সামনে কী: প্রিমিয়ার লিগে আগামী রবিবার ঘরের মাঠে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে ক্রিস্টাল প্যালেস।

দ্য গার্ডিয়ান ফুটবল সূত্রে জানা গেছে, দাইচি কামাদার একদম শেষ মুহূর্তের একটি গোল ক্রিস্টাল প্যালেসকে বড় লজ্জা থেকে রক্ষা করেছে। ইউরোপা লিগের এই ম্যাচে হোফেনহাইমের বিপক্ষে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও ড্র ছিনিয়ে নেয় তারা। বুন্দেসলিগার পয়েন্ট টেবিলের নিচের সারির দলটির বিপক্ষে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল প্যালেস। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। এরপর ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিট বাকি থাকতে অ্যাডাম হোয়ার্টনকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলে প্যালেসের সব আশাও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে হোফেনহাইমের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। ঠিক তখনই বল পেয়ে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন কামাদা, যা চলতি মৌসুমে সেলহার্স্ট পার্কের গ্যালারিতে এক বিরল আনন্দের মুহূর্ত উপহার দেয়।

ম্যাচ শেষে ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ পিয়ের সেজ ইতিবাচক কোনো দিক তুলে ধরতে কিছুটা সংগ্রাম করেছেন। সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে তার দল এই পয়েন্টের দাবিদার ছিল কি না। জবাবে তিনি জানান যে এটি নির্ভর করে ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তের ওপর। দলের মানসিকতার প্রশংসা করলেও তিনি তাদের কৌশলগত পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে তারা আগের দুটি ম্যাচের তুলনায় আক্রমণভাগে ভালো খেলেছেন, তবে তাদের রক্ষণভাগকে আরও উন্নত করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে তারা প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন এবং অনেক সময় দুয়ালের লড়াইয়ে সমস্যায় পড়েছেন। যখনই তারা একটু আক্রমণ করার চেষ্টা করেন, তখনই খুব দ্রুত তাদের রক্ষণ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

সেজের এই মূল্যায়ন ছিল একদম সঠিক। কারণ ক্রিস্টাল প্যালেস পুরো ম্যাচেই লড়াইয়ে টিকে ছিল ঠিকই, কিন্তু কখনই আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। হোফেনহাইম খুব বেশি কষ্ট না করেই ম্যাচের সেরা সুযোগগুলো তৈরি করেছিল। বর্তমানে ইউরোপা লিগের পয়েন্ট টেবিলে ২০তম অবস্থানে থাকা ক্রিস্টাল প্যালেসকে এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। আগামী রবিবার লিভারপুলের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ রয়েছে, যার আগে এই ইউরোপিয়ান পারফরম্যান্স তাদের প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ের কোনো স্বস্তি দিচ্ছে না।

### ম্যাচের প্রথমার্ধের চিত্র ও গোল হজম

বনফায়ার নাইটের সন্ধ্যায় এই ম্যাচটি শুরু হয়েছিল, ফলে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা একটি জমজমাট লড়াইয়ের আশা করতেই পারতেন। ক্রিস্টাল প্যালেস ম্যাচ শুরু করেছিল দারুণ তীব্রতা নিয়ে, কিন্তু তাদের খেলায় বেশ ভুলেও ছিল। ম্যাচের শুরুতেই তারা খুব সহজ একটি গোল হজম করে বড়ো বিপদে পড়ে। হোফেনহাইমের গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে সস্তায় বল প্রতিপক্ষকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন হোয়ার্টন। সেখান থেকে মাত্র তিনবার পাস আদান-প্রদান হয়ে বল চলে যায় ডানপ্রান্তে থাকা টিম লেম্পারেলের কাছে। তিনি তৎক্ষণাৎ বল বাড়িয়ে দেন সামনে এগিয়ে যাওয়া আলেকজান্ডার প্রাসের দিকে। উইঙ্গারের সেই শটটি ছিল সমানভাবে তাৎক্ষণিক, যা অপ্রস্তুত ডিন হ্যান্ডারসনকে ফাঁকি দেয়। হ্যান্ডারসনের সেভ করার প্রচেষ্টা ছিল বড্ড ধীরগতির এবং বল তার শরীরের মাঝখান দিয়ে গড়িয়ে গোললাইন পার হয়ে যায়।

প্যালেসের সমর্থকরা দলের ওপর অসন্তুষ্ট না হয়ে বরং সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাঠের খেলোয়াড়েরা সেই অনুযায়ী সাড়া দিতে পারেননি। ২৩তম মিনিটে আন্দ্রে ক্রামারিচের একটি ভলি থেকে হোফেনহাইম ব্যবধান বাড়াতে পারত, যা ওই দফায় দারুণভাবে সেভ করেন হ্যান্ডারসন। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় প্যালেস। ইয়েরেমি পিনো ছিলেন ঘরের মাঠের দর্শকদের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। তিনিই ছিলেন প্যালেসের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার এবং একই সাথে সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ। এমন সব পজিশনে তিনি ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেয়েছিলেন যা অন্য কেউ পারেনি, কিন্তু তার পাসগুলো হয় নিখুঁত ছিল না অথবা বড্ড বেশি জটিল হয়ে পড়েছিল।

### দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ও লাল কার্ডের ঘটনা

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে পিনো কামাদাকে লক্ষ্য করে একটি নিখুঁত থ্রু বল বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু কামাদা ক্রস-শট নিতে গিয়ে অলিভার বাউম্যানের দূরের পোস্টের বাইরে মারেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে হোফেনহাইমের সামনে আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। কর্নার থেকে ফাঁকায় হেড করেছিলেন ওজান কাবাক, যা গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও প্যালেসের মধ্যে তীব্রতার দেখা মিলেছিল, তবে তা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। ১০ মিনিট না যেতেই কোচ সেজ জোড়া পরিবর্তন আনেন। তিনি কামাদাকে ফিরিয়ে নেন মিডফিল্ডে এবং আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে এডকে এনকেটিয়াকে মাঠে নামান।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে প্যালেস তাদের সেরা সুযোগটি তৈরি করে। বক্সের বাইরে থেকে শট নেওয়ার ভান করে বাঁ দিকে বল কেটে পিনোকে পাস দেন হোয়ার্টন। পিনো এগিয়ে আসা গোলরক্ষক বাউম্যানের ওপর দিয়ে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও গোলরক্ষক নিজের জায়গায় অটল থেকে বল প্রতিহত করেন এবং বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ আসবে বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু তা হয়নি। এর পরপরই হোফেনহাইম পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নিয়ে স্বাগতিক দলের সব গতি থামিয়ে দেয়।

এর পরই খেই হারিয়ে লাল কার্ড দেখেন অ্যাডাম হোয়ার্টন। হেডের লড়াইয়ে কনুই ব্যবহার করার মতো একটি বাজে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রেফারি হরাসিউ ফেসলনিকের দ্বিতীয়বার ভাবার প্রয়োজন হয়নি এবং হোয়ার্টনের তীব্র প্রতিবাদের মুখেও রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। তবে এই অবিচারের অনুভূতি অন্তত প্যালেসের খেলায় খানিকটা গতি ফিরিয়ে এনেছিল, আর হোফেনহাইম রক্ষণ সামলে সময় নষ্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্যালেস এরপর কেবল একটি সুযোগ তৈরি করেছিল যা খুব একটা গোছানো ছিল না। প্রিমিয়ার লিগের খাদের কিনারে থাকা দলটির যখন একটু স্বস্তির প্রয়োজন ছিল, তখন শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয় এবং কামাদা সেই সুযোগ লুফে নেন।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)