/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

রোনালদোর বিদায় নিয়ে মুখ খুললেন হোর্হে জেসুস: 'সময় ফেরাতে পারলেও কোনো সিদ্ধান্ত বদলাতাম না'

পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের পর মুখ খুলেছেন কোচ হোর্হে জেসুস। ইনফোবে স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোনালদোর বিদায় নিয়ে মুখ খুললেন হোর্হে জেসুস: 'সময় ফেরাতে পারলেও কোনো সিদ্ধান্ত বদলাতাম না'
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসরের পর মুখ খুলে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন কোচ হোর্হে জেসুস।
•
ম্যাচের প্রভাব: রোনালদোর অনুপস্থিতিতে পর্তুগাল দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে বার্নার্ডো সিলভা, রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, রুবেন নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের মধ্যে।
•
সামনে কী: ইতিমধ্যে নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা পর্তুগাল আগামী ফিফা উইন্ডোতে রোনালদোকে ছাড়াই ২৮ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে।

পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হঠাৎ অবসরের ঘোষণার পর ফুটবল বিশ্বে যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির কোবরা ও অভিজ্ঞ কোচ হোর্হে জেসুস। আগামী ফিফা উইন্ডোতে নেশন্স লিগের ম্যাচের জন্য ২৮ সদস্যের পর্তুগাল স্কোয়াড ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রোনালদো। স্প্যানিশ ও আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবে স্পোর্টসের (Infobae Deportes) বরাতে জানা যায়, রোনালদোর বিদায় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন ৭২ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। তবে নিজের নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তে তিনি যে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন, তা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর অবসরের পেছনে নিজের কোনো ভূমিকা আছে কি না বা সিদ্ধান্ত অন্যরকম হতে পারত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেসুস বলেন, "যদি আমি সময় পেছনে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম, তাহলেও আমি কিছু বদলাতাম না। একবিন্দুও না। কারণ একজন কোচ হিসেবে আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার দল এবং পর্তুগিজ জাতীয় দলের কথা চিন্তা করেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য আমি নিজে থেকে কিছুই করিনি।"

আগের দিন অর্থাৎ গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্কাই স্পোর্টসের খবরের বরাতে 'মাঠের খবর'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সাথে সম্পর্কের টানাফোড়েনের জের ধরেই দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে রেকর্ড ১৪৬টি গোল করা এই কিংবদন্তির বিদায় ফুটবল ভক্তদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে জেসুস দাবি করেছেন, রোনালদোর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি তিনি সাধারণ মানুষের মতোই একই সময়ে জানতে পেরেছেন।

### সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই হোর্হে জেসুসের

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জেসুস বলেন, "হয়তো আমি কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিলাম, কিন্তু এজন্য আমাকে দোষ দেওয়া যায় না। ও আগেই জানত যে ম্যাচগুলোতে বেশি কিংবা কম সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি একসময় ঘটবেই। আমার মেয়াদকালেই যে এমন কিছু ঘটবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তার বিদায়ের পেছনে আমি কোনো অপরাধবোধ অনুভব করছি না। আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং পর্তুগিজ ফুটবলে তার ক্যারিয়ারের অবদানকে কখনো অস্বীকার করা যাবে না। আমি কখনোই তা করব না।"

সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও আল নাসর ফরোয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করে জেসুস স্মরণ করিয়ে দেন যে, সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। জেসুস বলেন, "ক্রিস সর্বদা পর্তুগালের প্রতীক হয়ে থাকবে। গত দেড় বছরে তার সঙ্গে আমার চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। আমরা আল নাসরে এক বছর একসাথে কাজ করেছি, সেখানে আমরা সুখে ছিলাম এবং শিরোপা জিতেছিলাম। তবে খেলার মাঠে সে এখন নিজের একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আমি তাকে পূর্ণ সম্মান জানাই। ক্রিস দলে না থাকা মানেই আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে বা কমে যাবে না; দায়বদ্ধতা একই থাকবে।"

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বার বারবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে স্কোয়াডে না ডাকার বিষয়ে প্রশ্ন করতে থাকলে কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়েন জেসুস। তিনি স্পষ্ট করেন যে স্কোয়াডে থাকা ২৮ জন খেলোয়াড়কে নিয়েই তিনি ভাবতে চান। জেসুস জানান, নেশন্স লিগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোনালদো থাকবেন বলেই তিনি ভেবেছিলেন, তবে খেলোয়াড় নিজের ক্যারিয়ারের গতিপথ নিজেই বেছে নিয়েছেন। কোচের মতে, জাতীয় দলে রোনালদোর রেখে যাওয়া ঐতিহ্য এবং তরুণ উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য তার প্রতীকী উপস্থিতি সবসময় আলাদা মর্যাদা পাবে।

### অধিনায়কত্বের নতুন সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা

রোনালদোর প্রস্থানের পর পর্তুগাল ড্রেসিংরুমে অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী কে পরবেন, তা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন জেসুস। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়ার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই নেতৃত্বের ক্রম নির্ধারিত হয়েছে। এই মুহূর্তে পর্তুগালের দলে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বার্নার্ডো সিলভার। তাঁর পাশাপাশি অধিনায়কত্ব দেওয়ার তালিকায় থাকা অন্য চার ফুটবলার হলেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, রুবেন নেভেস এবং ব্রুনো ফার্নান্দেস। পর্যায়ক্রমে এই পাঁচজন খেলোয়াড়ই এখন থেকে পর্তুগালের নেতৃত্ব দলের দায়িত্বে থাকবেন।

রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল দলের ওপর চাপ বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নে জেসুস বলেন, ফলাফলের দিক থেকে কোচদের ওপর সবসময়ই চাপ থাকে। নেশন্স লিগের চার ম্যাচ শেষে পর্তুগাল ইতিমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যা পর্তুগাল ছাড়া কেবল স্পেন অর্জন করতে পেরেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, দলে যেভাবে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে, তাতে খেতাব জেতার জন্য চাপের ধরন একই থাকবে। রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগালের নতুন যুগের সূচনা এখন নেশন্স লিগের পরবর্তী খেলায় কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)