/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

জেনারেলি স্টেডিয়ামে কোচ হিসেবে থাকা নিয়ে যা বললেন ইন্টার মিলানের ক্রিস্টিয়ান কিভু

সূত্র: Corriere dello Sport (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

ইতালীয় দৈনিক করিয়েরে দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন্টার মিলানের কোচ ক্রিস্টিয়ান কিভু নতুন জেনারেলি স্টেডিয়াম এবং মিলান ডার্বির আগে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ফুটবল দুনিয়া সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং মালিকানাধীন নতুন স্টেডিয়াম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেনারেলি স্টেডিয়ামে কোচ হিসেবে থাকা নিয়ে যা বললেন ইন্টার মিলানের ক্রিস্টিয়ান কিভু
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: ইন্টার মিলান কোচ ক্রিস্টিয়ান কিভু মিলান ডার্বি এবং নতুন জেনারেলি স্টেডিয়াম প্রকল্প নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন।
•
ম্যাচের প্রভাব: সিরি আ-র দশম রাউন্ডের ডার্বি ম্যাচের আগে দলগুলোর মানসিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত বিন্যাসকে প্রভাবিত করবে।
•
সামনে কী: সামনে এসি মিলানের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচ এবং স্টেডিয়াম সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

ইতালীয় দৈনিক করিয়েরে দেল্লো স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলান ডার্বির আগে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন ইন্টার মিলানের কোচ ক্রিস্টিয়ান কিভু। আসন্ন সিরি আ লিগের দশম রাউন্ডের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটির আগে নতুন স্টেডিয়াম প্রকল্প এবং দলের ড্রেসিংরুমের মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। নতুন জেনারেলি স্টেডিয়াম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিভু স্বীকার করেছেন যে এই বিষয়ে মন্তব্য করার সময় তাকে বেশ সতর্ক থাকতে হয়। জিউসেপে মেয়াৎসাকে ভালোবেসে ফেলা সমর্থকদের অনুভূতির প্রতি যেমন সম্মান রয়েছে, তেমনি আধুনিক যুগের চাহিদাকেও তিনি অস্বীকার করতে পারেন না।

নতুন জেনারেলি স্টেডিয়াম নিয়ে বলতে গিয়ে কিভু জানান যে তিনি নিজে যেমন ঐতিহ্যবাহী জিউসেপে মেয়াৎসাকে ভালোবাসেন, তেমনি আধুনিক উদ্ভাবনেরও পক্ষে। একটি ক্লাব-মালিকানাধীন স্টেডিয়াম যা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক আয়ের সুযোগ তৈরি করে, তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে ঐতিহ্যপ্রেমী বা নস্টালজিক সমর্থকদের কিছুটা মনঃকষ্ট হতে পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে বিশ্বকে এগিয়ে যেতে হবে এবং এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে।

ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে কিভু ২০৩১ বা ২০৩২ সালের মধ্যে ইন্টারের ডাগআউটে নিজের উপস্থিতি নিয়ে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে চার বছর পরের সময় নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। ফুটবল বিশ্বে যেভাবে বিচার, কুসংস্কার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রায়ে রূপ নেয়, তাতে দীর্ঘ সময় একই পদে টিকে থাকা বেশ কঠিন একটি কাজ। যদি সামগ্রিক ফুটবল সংস্কৃতি বদলায় এবং দলের মাঠের ফলাফল ইতিবাচক থাকে, তবেই তিনি হয়তো কম বয়সে কম চুল পাকিয়ে এবং কোনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই এই যাত্রায় টিকে থাকতে পারবেন বলে রসিকতা করেন।

আসন্ন মিলান ডার্বি প্রসঙ্গে কোচ কিভু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তার দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ম্যাচটির গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই পূর্ণ মাত্রায় সচেতন। ইন্টার এবং এসি মিলান উভয় দলের জন্যই এই ম্যাচটি বিশেষ এবং এর গুরুত্ব শুধু শহর বা ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ধরনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান অবস্থান কোনো প্রভাব ফেলে না। খেলোয়াড়দের একমাত্র লক্ষ্য থাকে নিজেদের সেরা খেলাটি উপহার দেওয়া এবং মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে আনা।

ম্যাচের কৌশলগত পদ্ধতির বিষয়ে কিভু ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। বিপক্ষ দল কেমন পারফর্ম করছে এবং তারা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি তৈরি করতে দিচ্ছে কি না, তা বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসি মিলানের স্কোয়াডের টেকনিক, গতি এবং তীব্রতার মতো গুণাবলীর কথা তাদের জানা আছে। সেই অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক চাপ সৃষ্টি করতে হলে মাঠের খেলোয়াড়দের পূর্ণ মনোযোগ এবং সংহতি বজায় রাখতে হবে।

প্রতিপক্ষ এসি মিলানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে সাতটি ডার্বিতে জয়হীন থাকার পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে কিভু মনে করেন যে এই বিষয়ে দলের আত্মমূল্যায়ন করা উচিত। এর আগের ম্যাচগুলোতে কিছু মুহূর্ত এবং ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট প্রতিপক্ষের অনুকূলে যাওয়ার কারণেই তাদের হার মানতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে লিগের সাধারণ একটি ম্যাচ হিসেবেই দেখা উচিত, যা সিরি আ-র দশম রাউন্ডের লড়াই। পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই।

গত এক বছরে যা অর্জিত হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকার দিন শেষ। ফুটবলারদের মনে রাখতে হবে যে মাঠে কেউ কাউকে বিনা লড়াইয়ে কিছু উপহার দেবে না। তাই পরিস্থিতি মেনে নিয়ে দলের প্রত্যেককে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সের চেয়েও একটু বেশি কিছু দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন কোচ।

দলের মূল ফরোয়ার্ড মারুথ থুরামের ফিটনেস এবং ফর্ম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিভু। থুরাম বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ ছন্দে রয়েছেন এবং তার শক্তির কোনো ঘাটতি নেই। বিগত ম্যাচগুলোতেও তিনি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। দলের ভেতরে একজন সত্যিকারের নেতার ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি থুরাম নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস এবং সম্মান ফিরে পেয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে এবং আসন্ন ডার্বিতেও তার থেকে সেরা পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

ইন্টার মিলানের এই সার্বিক প্রস্তুতি এবং কোচ কিভুর কৌশলগত বক্তব্য ইতালীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা এই লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলেছে। জেনারেলি স্টেডিয়াম নিয়ে আলোচনা এবং ডার্বির আগের এই মানসিক প্রস্তুতি দলটিকে দীর্ঘমেসাী লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। এখন দেখার বিষয় মাঠে কিভু তার পরিকল্পনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করেছে যে মৌসুমের এই পর্যায়ে দলগুলোকে মাঠে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলতে হবে। সিরি আ-র পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। ডার্বি ম্যাচের উত্তেজনা ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সবসময়ই অন্যরকম উন্মাদনা তৈরি করে, যা এই ম্যাচের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবমিলিয়ে, কোচ কিভুর এই সংবাদ সম্মেলন ইন্টার মিলানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। স্টেডিয়াম সংক্রান্ত নতুন ভাবনা এবং মাঠের লড়াইয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার মন্ত্রই এখন নেরাজ্জুরি শিবিরের মূল লক্ষ্য। আসন্ন ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে পুরো দল এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ ডার্বি জয়ের দিকেই নিবদ্ধ করেছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)