/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসলকে হারিয়ে এভারটনের প্রথম অ্যাওয়ে জয়, গ্যালারিতে ক্ষোভ

সূত্র: স্কাই স্পোর্টস (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

প্রিমিয়ার লিগে সেন্ট জেমস পার্কে থিয়ার্নো ব্যারির একমাত্র গোলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে এভারটন। টানা দ্বিতীয় ঘরের মাঠে হারে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের তীব্র দুয়ো ধ্বনির মুখে পড়েন নিউক্যাসল কোচ ম্যাথিয়াস জায়েসল।
সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসলকে হারিয়ে এভারটনের প্রথম অ্যাওয়ে জয়, গ্যালারিতে ক্ষোভ
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: নিউক্যাসলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে মৌসুমে নিজেদের প্রথম অ্যাওয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয় পেল এভারটন।
•
ম্যাচের প্রভাব: এভারটন পয়েন্ট টেবিলে ৭ম স্থানে উঠে এসেছে এবং নিউক্যাসল নেমে গেছে ১৩তম স্থানে।
•
সামনে কী: নিউক্যাসলকে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতে হারার পর দ্রুত ফর্ম পুনরুদ্ধার করতে হবে।

ঘরের মাঠ সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সমর্থকদের জন্য রাতটি নেমে এসেছিল তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের আবহ নিয়ে। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম অ্যাওয়ে জয় তুলে নিয়েছে এভারটন, যেখানে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ডেভিড ময়েসের দল। ব্রিটিশ স্পোর্টস ব্রডকাস্টার স্কাই স্পোর্টস ফুটবলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে থিয়ার্নো ব্যারি একমাত্র জয়সূচক গোলটি অর্জন করেন। এই হারের মাধ্যমে নিজেদের মাঠে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেল নিউক্যাসল। ফলে প্রথমার্ধের বিরতি ও পুরো ম্যাচ শেষে নিজেদের সমর্থকদের কাছ থেকে গ্যালারিভরা ভুয়ো ধ্বনি শুনতে হয়েছে ম্যাথিয়াস জায়েসলের শিষ্যদের। অতিরিক্ত সময়ে নিউক্যাসলের বদলি খেলোয়াড় জেক রামসে মাত্র ৮৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে স্বাগতিকদের দুর্দশা আরও ঘনীভূত হয়।

এই ম্যাচটির ঠিক চার দিন আগে মার্সিসাইডে কারাবাও কাপের চতুর্থ পর্বের লড়াইয়ে নিউক্যাসলকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল এভারটন। দলের তারকা উইঙ্গার জ্যাক গ্রিলিশকে ছাড়াই মাঠে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলে ডেভিড ময়েসের শিষ্যরা। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে এভারটন ফরোয়ার্ড থিয়ার্নো ব্যারি সহজ এক সুযোগ নষ্ট করেন; স্কাই স্পোর্টসের সহ-কমেন্টেটর অ্যান্ডি হিঞ্চক্লিফ জানান, ব্যারি শট নিতে গিয়ে বলের সঙ্গে সংযোগই ঘটাতে পারেননি। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে কিরনান ডিউসবারি-হলের পাসের ওপর হ্যারিসন আর্মস্ট্রং প্রথম স্পর্শে শট নিলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলমুখে শট রাখতে না পারায় বিরতির সময় স্বাগতিক দর্শকদের দুয়ো ধ্বনির মুখে পড়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে নিউক্যাসল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯তম মিনিটে ম্যাচে বিতর্কিত এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে লিড নেয় এভারটন। ডিউসবারি-হলের দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে বল পান টাইরিক জর্জ। জর্জের নেয়া শট নিউক্যাসল গোলরক্ষক লুকাস হর্নিচেকের হাত ও পায়ের নিচ দিয়ে গলিয়ে গেলে ফাঁকা জালে সহজেই বল ঠেলে দেন থিয়ার্নো ব্যারি। এই গোলের প্রক্রিয়ায় নিউক্যাসলের রক্ষণভাগের ভুলকে অত্যন্ত স্তম্ভিত করার মতো এবং গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সকে ভয়াবহ বাজে বলে আখ্যা দেন ধারাভাষ্যকার হিঞ্চক্লিফ। তবে ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিউক্যাসল কোচ ম্যাথিয়াস জায়েসল দাবি করেন, বিল্ড-আপ চলাকালে ফ্যাবিয়ান শ্যারের ওপর ব্যারির কুনুইয়ের আঘাতের কারণে গোলটি স্পষ্টভাবে বাতিল করা উচিত ছিল।

পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায় নিউক্যাসল, কিন্তু এভারটনের জমাট রক্ষণে বারবার বাধা পায় তারা। ৬৬তম মিনিটে অ্যান্থনি এলঙ্গার নিচু শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিউক্যাসল সমতায় ফেরার সবচেয়ে কাছাকাছি সুযোগটি হাতছাড়া করে। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ইয়োয়ান উইসা গোলমুখে নিউক্যাসলের প্রথম শটটি নেন, যা সাবেক সান্ডারল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন। ৯০তম মিনিটে উইসার আরও একটি প্রচেষ্টা দুর্দান্ত সেভে ব্যর্থ করে দেন পিকফোর্ড। অতিরিক্ত সময়ের ৯৮তম মিনিটে মাত্র ৮৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে জেক রামসে মাঠ ছাড়লে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার শেষ আশাও শেষ হয়ে যায়।

### জায়েসলের ওপর বাড়তে থাকা চাপ ও সমর্থকদের অসন্তোষ

ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে নিউক্যাসল কোচ ম্যাথিয়াস জায়েসল গ্যালারির ভুয়ো ধ্বনি ও সমর্থকদের ক্ষোভ মেনে নেন। জায়েসল স্বীকার করেন, এ ধরনের বাজে পারফরম্যান্সের পর সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া তিনি সম্পূর্ণ বুঝতে পারছেন এবং এই ফলাফলের দায়ভার পুরোপুরি তার নিজের। তিনি বলেন, দলের অনেক বিষয়ে উন্নতির জন্য বারবার কাজ করতে হবে এবং এই ম্যাচের পর উন্নতির তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। জায়েসল জানান, সপ্তাহে ট্রেনিং সেশনে দলের প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো ছিল এবং খেলোয়াড়রা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল, তবে মাঠে সেটা নামিয়ে আনতে না পারাটা হতাশাজনক। দলের বল পজেশনে সাহসিকতার অভাব এবং অতিরিক্ত লং বলে খেলার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি জানান, স্কোয়াডের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে যা কাটিয়ে উঠতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সোমবারে স্কাই স্পোর্টসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'মন্ডে নাইট ফুটবল'-এ নিউক্যাসলের খেলার তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক তারকা ও বিশ্লেষক জেমি ক্যারাগার। তিনি মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিউক্যাসলের খেলা অত্যন্ত একঘেয়ে ও নিষ্প্রভ মনে হচ্ছে। জায়েসলের রেড বুল মডেলভিত্তিক আক্রমণাত্মক কৌশল, যা হাই-প্রেসিং ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করার জন্য পরিচিত, তার কোনো রূপই মাঠে দেখা যায়নি। ক্যারাগার আরও সতর্ক করে বলেন, তরুণ খেলোয়াড় ও তরুণ কোচ নিয়ে গঠিত নিউক্যাসলের জন্য প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে, কারণ সমর্থকরা দলের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করে।

অন্যদিকে এভারটনের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ও জয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ ডেভিড ময়েস। স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া বক্তব্যে ময়েস বলেন, দলের খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা না করে উপায় নেই। চার দিনের ব্যবধানে একই প্রতিপক্ষকে কাপ ও লিগে দুবার হারানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাফল্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। ময়েস আরও জানান, তারা ক্রমাগত গোল করার সুযোগ তৈরি করছেন এবং ব্যারি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থেকে জয়সূচক গোলটি তুলে নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারির পর সেন্ট জেমস পার্কে এটিই ছিল এভারটনের প্রথম লিগ জয়।

### দলীয় ফর্ম ও পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ

মাঠের খবরের নিজস্ব আর্কাইভ ও ২০২৬ সালের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চার দিনের মধ্যে ময়েসের দলের কাছে দুটি পরাজয়ে সেন্ট জেমস পার্কে ক্লাবকে ঘিরে অসন্তোষ তুঙ্গে পৌঁছেছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই পরাজিত হলো নিউক্যাসল। এই পরাজয়ের পর প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে ১৩তম স্থানে নেমে গেছে নিউক্যাসল। অন্যদিকে সেন্ট জেমস পার্ক থেকে টানা দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৭ম স্থানে উঠে এসেছে ডেভিড ময়েসের এভারটন।

সামনে প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে নিউক্যাসলকে দ্রুত আক্রমণভাগের স্থবিরতা ও রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতা কাটিয়ে উঠতে হবে। আত্মবিশ্বাসের অভাব ও সমর্থকদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে জায়েসলকে এখন ড্রেসিংরুমের সমীকরণ ঠিক করে দলকে আবার জয়ের ধারায় ফেরাতে হবে। অন্যদিকে, লিগ কাপ ও প্রিমিয়ার লিগে টানা জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করাই এখন এভারটনের মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)