ইউরোপীয় ফুটবলে উয়েফা ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স লিগের রাতে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর ও চমকপ্রদ ফলাফল সামনে এসেছে। ইউকে ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইউরোপা লিগে ঘরের মাঠ স্টেডিয়াম অব লাইটে ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব ডিনামো জাগরেবের কাছে ২-০ গোলে হেরে অপরাজিত থাকার ধারার অবসান ঘটিয়েছে সান্ডারল্যান্ড। অন্যদিকে রাতের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সান সিরোর ঐতিহাসিক মাঠে সাতবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন এসি মিলানকে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়েছে হাঙ্গেরির ক্লাব ফেরেনচভারোস।
সান্ডারল্যান্ডের জন্য রাতটি একেবারেই হতাশার ছিল। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা রেজি ল্য ব্রির দল ইউরোপা লিগে তাদের টানা চার ম্যাচের অপরাজিত যাত্রার পর প্রথম হারের মুখ দেখল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ডিনামো জাগরেবকে এগিয়ে নেন লুকা স্টোজকোভিচ। মিডফিল্ডার স্টোজকোভিচ পরে দারুণ এক অ্যাসিস্টে ডিওন ড্রেনা বেলজোকে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করান, ফলে বিরতির আগেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় অর্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল সান্ডারল্যান্ড। বিরতির দুই মিনিট পর উইলসন ইসিডোর হেডার থেকে গোল করলেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর কেভিন ডানসো ক্রসবারে শট মারেন এবং ব্রায়ান ব্রোবি সুযোগ হাতছাড়া করলে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সান্ডারল্যান্ডকে।
সান সিরোর ঐতিহ্যবাহী মাঠে হাঙ্গেরির শক্তিশালী ক্লাব ফেরেনচভারোস নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে ২-০ ব্যবধানে হারায় এসি মিলানকে। বামিদেলে ইউসুফ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ১০ জনের ফেরেনচভারোসের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন হাইতির আন্তর্জাতিক ফরোয়ার্ড লেনি জোসেফ। ইউরোপীয় মঞ্চে মিলান পয়েন্ট টেবিলের ২৪ নম্বরের বাইরে অবস্থান করছে, চার ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট মাত্র ৩। পরাজয়ের পর এসি মিলানের কোচ রুবেন আমোরিম লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবরের মাঠের খবর-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, সান সিরোর ঐতিহ্য বজায় রেখেই মিলান ও ইন্তের যৌথভাবে ৭১,৫০০ আসনবিশিষ্ট নতুন জেনারেলি স্টেডিয়ামের নকশা প্রকাশ করেছে।
### চেলটিকের নাটকীয় জয় এবং বোর্নমাউথ ও ইউভেন্টাসের ধারাবাহিকতা
স্কটল্যান্ডের ক্লাব চেলটিক সেল্টিক পার্কে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে বেসিকতাসকে হারিয়ে আসরে নিজেদের প্রথম জয় নিশ্চিত করেছে। মার্টিন ও’নিলের দল ১১ ম্যাচে সপ্তম পরাজয় এবং তালিকার তলানিতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিল, যখন ৫৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান স্যাম জনস্টোনের পেনাল্টি সেভের ফিরতি বলে গোল করে বেসিকতাসকে এগিয়ে দেন। তবে ৬০ মিনিটে ট্রিপল পরিবর্তনের পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মাঠে নেমেই প্রথম স্পর্শে ৬২ মিনিটে সমতা ফেরান ২০ বছর বয়সী বদলি ফুটবলার কালাম ওসম্যান্ড। এর কিছু পরেই ওসম্যান্ডের বাড়ানো বলে ক্যামিলো দুরান চেলটিককে এগিয়ে নেন। বেসিকতাসের বদলি খেলোয়াড় ওরকুন কোকচু দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরালেও ৮৭ মিনিটে দুরান ছয় গজ দূর থেকে জয়সূচক গোল করেন। চেলটিকের পরবর্তী ম্যাচ পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের দল তোরেয়েনসের বিরুদ্ধে।
মার্সেলো রোসের অধীনে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অভিষেকের স্বপ্নীল যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বোর্নমাউথ। স্পার্টা প্রাগের মাঠে তারা ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে। গত ৬ নভেম্বরের মাঠের খবর-এর প্রতিবেদনে যেমনটা বলা হয়েছিল, এই জয়ের মাধ্যমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বোর্নমাউথের টানা জয় দাঁড়াল সাতে। ম্যাচে লুইস কুকের পেনাল্টি শট পোস্টে লাগার পরপরই এব্রিমা সিংহাটেসের দুর্দান্ত সোলো গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বোর্নমাউথ। তবে টোবিয়াস গুডাল ২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে স্পার্টা প্রাগ ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫৭ মিনিটে টাইলার অ্যাডামস সমতা ফেরান, ৮১ মিনিটে এভানিলসন এগিয়ে নেন এবং শেষ মুহূর্তে রায়ানের গোলে জয় নিশ্চিত হয় বোর্নমাউথের।
ইউরোপা লিগের অন্য ম্যাচে জুভেন্টাস ২-১ ব্যবধানে এজেড আলকমারকে পরাজিত করে। গত ৬ নভেম্বরের মাঠের খবর-এর আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুভেন্টাসের এই জয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আলকমারের ঘরের মাঠে দীর্ঘ বছরের অপরাজিত রেকর্ডের অবসান ঘটল। ১৯ মিনিটে নিজের ভাই পিয়ার আলকমারের দলের বিপক্ষে গোল করে জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেন তুন কোপমাইনার্স। বিরতির আট মিনিট আগে রানডাল কোলো মুয়ানি দ্বিতীয় গোল করেন। মেক্স মিয়ারডিঙ্ক আলকমারের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে জুভেন্টাস। এছাড়া জার্মানির মাটিতে মার্সেই ৭৭ মিনিটে আমিন গুইরির অনবদ্য সোলো গোলে লেভারকুজেনকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে।
কনফারেন্স লিগে ফ্যাবিয়ান হুরজেলারের ব্রাইটন মাদ্রিদের মাঠে গেটাফেকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। ম্যালিক ইয়ালকুয়ে চলতি মৌসুমে নিজের চতুর্থ গোল করে দলকে জয় এনে দেন। প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত কোনো গোল না খাওয়া একমাত্র দল ব্রাইটন, যারা টানা ৫টি ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রেখেছে। অন্য ম্যাচগুলোতে লুগানো ৩-০ গোলে কাউনো ঝালগিরিসকে, পানাথিনাইকোস ২-১ গোলে সিএসকেএ সোফিয়াকে, টুয়েন্টে ৩-১ গোলে পাপোসকে, মোনাকো ২-০ গোলে নর্ডসজেল্যান্ডকে এবং আয়াক্স ৬-১ গোলে মিদত্যিলান্দকে হারিয়েছে।