ইউইএফএ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন লিগ পর্বে ভুল শুধরে সরাসরি নকআউট পর্বে ওঠার লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে একাধিক নাটকীয় ও হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইনফোবায়ে দেপোর্তেসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই রোমাঞ্চকর রাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। যেখানে একদিকে আর্জেন্টিনার তারকা মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেসের লক্ষ্যভেদে ম্যানচেস্টার সিটি গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে, অন্যদিকে তুরস্কের মাটিতে ফেনেরবাচের কাছে হেরে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম পরাজয়ের তকমা গায়ে মেখেছে প্রিমিয়ার লিগের পরাশক্তি লিভারপুল।
জার্মানির রেড বুল অ্যারেনায় মুখোমুখি লড়াইয়ে আরবি লাইপজিগকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যানচেস্টার সিটির জয়ে বড় অবদান রাখেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেস, যার দৃষ্টিনন্দন গোল সিটিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেতে সাহায্য করে। ঘরের মাঠে জার্মানির লাইপজিগ প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত সিটির আক্রমণভাগের তোপ সামলাতে পারেনি। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফ দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইনফোবায়ে দেপোর্তেস অনুযায়ী, ম্যাচটিতে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে লিগ পর্বের শীর্ষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি, যা তাদের সরাসরি নকআউট পর্বে বা শেষ ১৬-তে খেলার জোরালো সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
অন্য ম্যাচে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাতের সবচেয়ে বড় চমক দেখায় ফেনেরবাচে। টুর্নামেন্টে টানা তিন জয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিভারপুলকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে তুর্কি ক্লাবটি। লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে দলকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ম্যাচের দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল ‘রেডস’রা। তবে চার মিনিটের এক বিধ্বংসী স্পেলে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় ফেনেরবাচে। ম্যাচের জয়সূচক গোলটি আসে ভেদাত মুমিকির পা থেকে, যার সুবাদে ইউরোপের সেরা এই প্রতিযোগিতায় চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় ফেনেরবাচে। একই সাথে লিভারপুলের অপরাজিত যাত্রার ইতি ঘটে।
গ্রিসের মাটিতেও দেখা গেছে সমপরিমাণ রোমাঞ্চ। এইইকে এথেন্সের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। গত ২৬ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে 'মাঠের খবর' জানিয়েছিল এল ক্লাসিকোতে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে ফিরেছিল রিয়াল। সেই ধারাই তারা বজায় রেখেছে ইউরোপিয়ান মঞ্চেও।
### কোমো ও আর্জেন্টাইন তারকাদের অনবদ্য রেকর্ড
রাতের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো এবং ফরাসি ক্লাব লেন্সের মধ্যকার ম্যাচে। ফ্রান্সের ক্লাব লেন্সকে ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে চূর্ণ করেছে কোমো। মাঠের খবরের গত ৪ নভেম্বরের আর্কাইভ অনুযায়ী, এই জয়টি আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ইতালিয়ান ক্লাবটির এই ঐতিহাসিক জয়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন দুই আর্জেন্টাইন উদীয়মান তারকা। নিকো পাস এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটি গোল। এছাড়া মাক্সিমো পেরোনে চমৎকার এক পাস থেকে সাহায্য করেন আনাস্তাসিওস দুভিকাসের গোলে। এই গোলবন্যার জয়ে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বর স্থানে উঠে এসেছে কোমো।
ইউরোপের অন্য মাঠগুলোতেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফল এসেছে। চেক প্রজাতন্ত্রে স্লাভিয়া প্রাগকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে আর্সেনাল। ইনফোবায়ে দেপোর্তেস ও মাঠের খবরের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটির পাশাপাশি আর্সেনালও এই রাতে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে কষ্টার্জিত জয় নিয়ে ফিরেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের মাটিতে ন্যাপোলিকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে এফসি পোর্তো। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হেরে গেছে ক্লাব ব্রুজের কাছে।
জার্মানির সিগন্যাল ইদুনা পার্কে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ২-১ ব্যবধানে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল বেতিসকে পরাজিত করেছে। আর নরওয়েতে নিজেদের ঘরের মাঠে শক্তি প্রদর্শন করে ভাইকিং ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সাবাহকে।
### পয়েন্ট টেবিল ও শেষ ১৬-র সমীকরণ
লিগ পর্বের চার রাউন্ড শেষে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে নকআউটের সমীকরণ। ইউইএফএ-র নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ৩৬টি দলের সমন্বয়ে গঠিত লিগ পর্ব থেকে শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি শেষ ১৬-র টিকিট পাবে। অপরদিকে পয়েন্ট টেবিলের ৯ থেকে ২৪তম স্থানে থাকা ১৬টি দলকে শেষ ১৬-তে পৌঁছাতে খেলতে হবে বাড়তি প্লে-অফ পর্ব।২৫ থেকে ৩৬ নম্বরে থাকা দলগুলো টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি বিদায় নেবে।
ইনফোবায়ে দেপোর্তেসের ভাষ্যমতে, চার রাউন্ড শেষ হওয়ার পর ভুল করার সুযোগ ক্রমেই কমে আসছে দলগুলোর জন্য। প্রতিটি গোল ও প্রতিটি পয়েন্ট এখন নকআউটের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে। ম্যানচেস্টার সিটি ও কোমোর মতো দলগুলো শীর্ষ চারে অবস্থান পোক্ত করলেও লিভারপুলের মতো ক্লাবগুলোকে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। আগামী রাউন্ডের ম্যাচগুলো শেষ ষোলোর দৌড়কে আরও জমজমাট করে তুলবে।