সিবিএস স্পোর্টস সকার (CBS Sports Soccer)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেলসি এবং লিভারপুল ইএফএল কাপে মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে জাাবি আলোনসোর কোচিংয়ের অধীনে দলের শুরুটা কেমন হয়েছে, তা মূল্যায়ন করার মোক্ষম সময় এটি। ওপর থেকে দেখলে এই যাত্রার কিছু উজ্জ্বল দিক রয়েছে, যেমন বোর্মাউথের বিপক্ষে ৫-১ গোলের দারুণ এক জয়। তবে এর পাশাপাশি কিছু হতাশাজনক মুহূর্তও এসেছে, যার মধ্যে টটেনহ্যামের বিপক্ষে হার এবং কোল পালমারের লাল কার্ড দেখার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্লুজরা যখন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফুটবলে ফেরার লড়াই চালাচ্ছে, তখন গত গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া এনজো ফার্নান্দেজের চলে যাওয়ার শূন্যতা যে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার তার সাবেক কোচের সাথে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করায় তাকে ধরে রাখার উপায় খুব একটা ছিল না। কিন্তু এর ফলে যে পরিণতি তৈরি হয়েছে, তা বেশ মারাত্মক। সিবিএস স্পোর্টস সকার জানাচ্ছে যে বর্তমানে কেবল রেলিগেশন লড়াইয়ে থাকা দলগুলোই চেলসির প্রতি ৯০ মিনিটে ১.৭১ গোল হজম করার হারের চেয়ে বেশি গোল খাচ্ছে। এমন একটি রক্ষণ নিয়ে লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়া আলোনসোর দলের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
### লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানো এবং অ্যানফিল্ডের চ্যালেঞ্জ
প্রতিপক্ষ লিভারপুল দল আন্দোনি ইরায়োলার অধীনে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠের সাথে মানিয়ে নিচ্ছেন, আর অন্যদিকে আলেকজান্ডার ইসাক তার সেরা ফর্মে ফিরে আসছেন। এমন এক প্রতিপক্ষের সামনে পড়া চেলসির জন্য এমন এক চ্যালেঞ্জ, যা তাদের নড়বড়ে রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারে এবং ইএফএল কাপ থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত করতে পারে। এর ওপর আবার অ্যাস্টন ভিলা থেকে রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে দলে ভেড়ানো এমি মার্তিনেজ চোয়ালে চোট পাওয়ার কারণে এখনও মাঠের বাইরে রয়েছেন।
সিবিএস স্পোর্টস সকারের তথ্যানুযায়ী, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইংল্যান্ডের লিভারপুলের অ্যানফিল্ডে এবং এর সময় নির্ধারিত রয়েছে বুধবার, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ইস্টার্ন টাইম (ET)। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে প্যারামাউন্ট প্লাস (Paramount+) লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে। ম্যাচের ওডস অনুযায়ী লিভারপুল (+১২০), ড্র (+২৭৫) এবং চেলসি (+১৮৫) অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু কোল পালমার সাসপেনশনের কারণে মাঠের বাইরে থাকবেন, আর সাথে জোয়াও পেদ্রো এবং রিস জেমসও ম্যাচটি মিস করবেন। ফলে আলোনসোর এমনিতেই ছোট স্কোয়াড আরও বেশি সংকটের মুখে পড়েছে।
### রক্ষণভাগের সমস্যা ও সেট পিসের মারপ্যাঁচ
এই খেলোয়াড়দের মধ্যে মাত্র একজনের অনুপস্থিতিও আলোনসোর জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত তৈরি করত, আর পুরো দলের এই ধাক্কা তো একটি দুর্বল রক্ষণকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। নিজেদের সেরা সময়ে চেলসি সবসময় আক্রমণাত্মক প্রেসিং ফুটবল খেলতে চায় এবং ওপেন-প্লে ডিফেন্সে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার রক্ষণভাগকে সুসংগঠিত রাখার কারণে দল যখন আক্রমণে যায়, তখন ডিফেন্ডাররা দ্রুত পেছনে ফিরে পজিশন ধরে রাখতে পারে। এই ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার সাধারণত আক্রমণ করার সময় পেছনে থাকেন এবং গোলরক্ষককে রক্ষা করার জন্য দারুণ ট্যাকল করতে সক্ষম হন।
তবে মূল সমস্যাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেট পিস বা কর্নার-ফ্রি কিক সামলানো। মার্তিনেজ যখন গোলপোস্টে থাকেন না, তখন চেলসির অন্য গোলরক্ষকদের বক্সের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা কমান্ডের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দল যদি নিয়মিত ফাউল করে প্রতিপক্ষকে সেট পিসের সুযোগ না দিত, তবে এটি হয়তো এত বড় সমস্যা হতো না। সব মিলিয়ে আলোনসোর অধীনে উন্নতি দেখা গেলেও, ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় ফিরে যাওয়ার আগে চেলসির এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
### দলবদল বাজারের জটিলতা ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
সিবিএস স্পোর্টস সকার আরও জানিয়েছে যে মোনাকো ক্লাবটি ল্যামিন কামারাকে ব্লুজদের কাছে বিক্রি করার চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা কিছুটা পণ্ড করে দেয়, ঠিক যখন ফোলারিন বালোগুন এভারটনে যোগ দিতে চলেছিলেন। কামারা দলে এলে এই সমস্যাগুলো কিছুটা লাঘব হতে পারত। তবে আলোনসোকে এখন দলকে আরও সরাসরি ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং তার ফরোয়ার্ড ত্রয়ীর শক্তির ওপর ভরসা রাখতে হবে। সরাসরি খেলার জন্য পজিশন ছেড়ে দেওয়া রক্ষণাত্মক দুর্বলতা প্রকাশ করে ফেললেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্লুজদের এটি করতেই হবে, কারণ গোল করাটাই তাদের জন্য সেরা রক্ষণ।
যখন দল স্কোয়াডে আরও খেলোয়াড় যোগ করার সময় পাবে এবং এনজো ফার্নান্দেজ বিক্রির অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে, তখন হয়তো পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। তবে ততদিন পর্যন্ত চেলসি বিশ্বের অন্যতম অস্বাভাবিক একটি দল হিসেবে থাকবে, যা লিভারপুলের সাথে তাদের ম্যাচটিকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর করে তুলবে। এটি এমন একটি ম্যাচ যা তাদের জিততেই হবে, আর হারলে সংখ্যার হিসাবগুলোই সত্যি প্রমাণিত হবে। ব্লুজরা এভাবে পার পেয়ে যেতে পারে না, কারণ এটি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দল হয়ে ওঠেনি। সব লক্ষণ তাদের সেখানে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিলেও, এই মৌসুমে তা অর্জন করা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকবে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলোর ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করবে। অ্যাস্টন ভিলা নবম স্থানে থেকে নিজেদের অবস্থান ভালো করায় এক মাস পর পয়েন্ট টেবিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে পারে।