/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কমোর রেকর্ড গড়া জয় এবং রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লেন্সের বিপক্ষে ৯-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে কোমো, যা প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে এক ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। অন্যদিকে, ফেদেরিকো ভালভের দের শেষ মুহূর্তের গোলে এথেন্সে এএইকে এথেন্সকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কমোর রেকর্ড গড়া জয় এবং রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: কোমো লেন্সকে ৯-১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদ এএইকে এথেন্সকে ৩-2 গোলে হারিয়েছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: এই জয়গুলো পয়েন্ট টেবিলে দলগুলোর অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে এবং কোমো ইউরোপে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।
•
সামনে কী: দলগুলো তাদের পরবর্তী ইউরোপিয়ান ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেবে।

দ্য গার্ডিয়ান ফুটবল সূত্রে জানা যায়, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরম্যাটের আসরে নজিরবিহীন এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। লেন্সের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে সেত্রিক ফাব্রেগাসের শিষ্যরা। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করেছে কোমো। ম্যাচটিতে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলের এই বিশাল জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আনাতাসিওস দৌভিকাস। তার এই আক্রমণাত্মক নৈপুণ্যের ওপর ভর করে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল স্বাগতিক লেন্স।

এই ম্যাচটির মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলের আধুনিক যুগের প্রতিযোগিতায় একটি বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করেছে কোমো। ১৯৯২ সালে আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু হওয়ার পর থেকে এর আগে মাত্র দুটি দল আট গোলের ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। ২০০৭ সালের গ্রুপ পর্বে লিভারপুল ৮-০ গোলে বেসিকতাসের বিপক্ষে এবং ২০১৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদ একই ব্যবধানে মালমোর বিপক্ষে জয় পেয়েছিল। এছাড়া, প্রতিযোগিতার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে এক ম্যাচে নয় গোল করার অনন্য কীর্তি গড়ল কোমো। এর আগে ২০২৪ সালের লিগ পর্বে দিনামো জাগরেবকে ৯-২ গোলে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ।

প্রতিযোগিতায় নিজেদের অভিষেক আসরেই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছে সেত্রিক ফাব্রেগাসের দল। চার ম্যাচের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় জয়। ম্যাচের পুরো সময় জুড়েই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল কোমো। দলের তরুণ তারকা নিকো পাজ নিজের চমৎকার ফর্ম অব্যাহত রেখে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন। এছাড়া সিরি আ'র ক্লাবটির হয়ে স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছেন লুকাস দা কুঞ্চা, মার্ক-অলভিয়ের কেম্পফ, মাতিয়া লিবরালি, মার্তিন বাতুরি এবং মাতেও পাপাসিওলি। চলতি মৌসুমে কোমো এর আগে ঘরের মাঠে আরবি লাইপজিগ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল।

ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে এর আগে শেষ কোনো দল হিসেবে ঘরের মাঠের বাইরে নয় গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ফেইয়েনুর্ড, যারা ১৯৭১ সালে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে এই বড় জয় তুলে নিয়েছিল। কমোর এই অবিশ্বাস্য জয় কেবল তাদের আক্রমণভাগের শক্তিকেই প্রকাশ করে না, বরং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমে দলটিকে অন্যতম ভয়ংকর একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফাব্রেগাসের কৌশলগত সুশৃঙ্খলতা এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্স দলটিকে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

### রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় জয় ও ভালভের দের ম্যাজিক

অন্যদিকে, এথেন্সে অনুষ্ঠিত অন্য এক ম্যাচে স্বাগতিক এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গ্রিক চ্যাম্পিয়নদের মাঠে ফেদেরিকো ভালভের দের দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট থেকে পাওয়া শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-2 ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ। এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছে কার্লো আনচেলোত্তির দল। ম্যাচের পুরো সময় জুড়েই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে এবং দুইবার পিছিয়ে পড়ার পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে জয় ছিনিয়ে নেয় রেকর্ড পনেরো বারের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুতে ভিনিসিউস জুনিয়রকে দলের একাদশে রেখেছিলেন কোচ হোসে মরিনহো, যিনি লা লিগায় আগের দুটি ম্যাচে সাসপেনশনের কারণে খেলতে পারেননি। তবে ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় গোল করে স্বাগতিক এএইকে এথেন্সকে এগিয়ে দেন আবৌবাকাকারি কোইতা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য দুর্দান্ত এক ফ্লিক থেকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সমতা ফেরান জুড বেলিংহাম। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সমান তালে লড়াই চালিয়ে যায় এবং আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে খেলাটি জমে ওঠে।

ম্যাচের শেষ পনেরো মিনিটের সময় গ্রিক চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে স্টাভ্রোস পিলেও গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন, যা মাদ্রিদ শিবিরে সাময়িক শঙ্কার সৃষ্টি করেছিল। তবে পিছিয়ে পড়ার পর খুব দ্রুতই দলকে সমতায় ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। এমবাপ্পের এই গোলটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় এবং রিয়ালের জয়ের পথ প্রশস্ত করে। শেষ মুহূর্তে ফেদেরিকো ভালভের দের দুর্দান্ত শটটি জালে জড়ালে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার উল্লাসে মত্ত হয় লস ব্লাঙ্কোসরা।

এই নাটকীয় জয়ের ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাতটি ম্যাচে জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। এথেন্সের মাঠে এই জয় দলটির মানসিক দৃঢ়তা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। গ্রিক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া এই তিন পয়েন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী পর্বে রিয়ালের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই রাতের অন্যান্য ম্যাচের মধ্যে, স্কট ম্যাকটমিনে গোল করলেও নাপোলি ৪-1 ব্যবধানে হেরে গেছে পোর্তোর কাছে। পোর্তো এর আগের তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল। অন্যদিকে, পিএসভির মাঠে ২-1 গোলের জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে উঠে এসেছে ক্লাব ব্রুগা। মারিউস এবং অন্যান্যদের পারফরম্যান্সে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের এই লড়াইয়ে সমীকরণ দিন দিন আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে।

আরেকটি ম্যাচে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৭২ মিনিটের মাথায় জয়সূচক গোলটি করেন কোনস্টান্টিনোস কারেৎসাস, যার সুবাদে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। এছাড়া, এরিক বোথেইম জোড়া গোল করে ভাইকিং দলকে ৪-১ ব্যবধানে জিতিয়েছেন দশ জনের সাবাখ দলের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই রাউন্ডটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উপহার দিয়েছে রোমাঞ্চকর কিছু মুহূর্ত, যেখানে গোলের বন্যা এবং শেষ মুহূর্তের নাটকের কোনো কমতি ছিল না।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)