ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিক স্পষ্ট করেছেন যে, ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন। গত সপ্তাহে চেলসির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মার্তিনেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা দলের পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এর আগে ইউনাইটেডের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের সমালোচনা করে জরিমানা গুনেছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তবে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিক বিশ্বাস করেন যে মার্তিনেজের দায়বদ্ধতা বা দলের প্রতি তার নিবেদন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মঙ্গলবার রোমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই ডিফেন্ডারের একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত। ইউনাইটেড বর্তমানে তাদের ইতিহাসের গত ৩৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে সময় পার করছে। টানা নয়টি ম্যাচে জয়হীন থাকা দলটি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মরিয়া। ক্যারিক তার খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ফুটবলে ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং মার্তিনেজের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি দলের প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে দেখছেন না।
### মাঠের লড়াই ও ড্রেসিংরুমের সমীকরণ
ক্যারিক বলেন, আমি দলের প্রতি খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে, কখনো কখনো মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, আবার কখনো সবকিছু ঠিকঠাক চলে। কিন্তু মার্তিনেজের ক্ষেত্রে দলের প্রতি তার নিবেদন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এই আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপ জয়ী ডিফেন্ডারকে নিয়ে কোচ তার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন, যদিও মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্যায়ে ইউনাইটেডের অবস্থান এখন ২১ নম্বরে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং কোমোর বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে পরাজয় তাদের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ঠেলে দিয়েছে। রোমার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ক্যারিকের জন্য নিজের চাকরি বাঁচানোর লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রোমার পর রবিবার প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচটিও তার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে চেলসির বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় মার্তিনেজ ভিলার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না।
ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্যারিক বলেন, আমি ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারি না, আমি জানি না সামনে কী ঘটবে। তবে এটি আমার প্রস্তুতির ধরনে কোনো পরিবর্তন আনছে না। আমি আগামীকালকের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি এবং তা নিয়েই আমার সব মনোযোগ। এরপর যা হওয়ার তা হবে। দলের সাম্প্রতিক ফলাফল এবং মাঠের পরিস্থিতির কারণে অনেকে আমাকে পাগল ভাবতে পারেন, কিন্তু আমি সত্যিই আগামীকালকের ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
ইউনাইটেডের সর্বশেষ হোম ম্যাচে বোর্নমাউথের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর সমর্থকরা খেলোয়াড়দের দুয়ো দিয়েছিলেন। কোবি মাইনো এই কঠিন সময়ের কথা স্বীকার করে বলেন, যখন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি না, তখন সমর্থকদের কাছ থেকে সবসময় হাততালি আশা করা যায় না। আমরা তাদের কাছে ঋণী এবং আমাদের দায়িত্ব হলো মাঠে ভালো খেলে তাদের আবার আনন্দিত করা।
মাইনো আরও যোগ করেন, কোচের প্রতি আমাদের সমর্থন মাঠের ভেতরে এবং বাইরে বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা দলের জন্য এবং কোচের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। তবে রোমার বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না। লুক শ, মার্কাস র্যাশফোর্ড এবং বেঞ্জামিন সেসকো ইনজুরির কারণে দলের বাইরে রয়েছেন। প্যাট্রিক ডরগু অনুশীলনে ফিরলেও তিনি এখনো পুরোপুরি ফিট নন।
ইউনাইটেডের এই সংকটময় মুহূর্তে দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১ নভেম্বর মাঠের খবর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকা ইউনাইটেডের জন্য এটি ১৯৮৮ সালের পর দীর্ঘতম জয়হীন যাত্রা। চেলসির বিপক্ষে হারের পর দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে ক্যারিক মনে করেন, রোমার বিপক্ষে জয়ই হতে পারে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা সুযোগ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই ইউনাইটেডের সামনে। পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান উন্নত করতে এবং সমর্থকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই জয় অত্যন্ত জরুরি। ক্যারিক এবং তার শিষ্যরা এখন রোমার বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায়। মার্তিনেজের মতো খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রেখে কোচ চাইছেন দলের এই দীর্ঘ জয়হীন খরা কাটাতে।
পরিশেষে, রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট টেবিলের জন্য নয়, বরং ক্যারিকের কোচিং ক্যারিয়ারের জন্যও একটি অগ্নিপরীক্ষা। দলের ইনজুরি সমস্যা এবং খেলোয়াড়দের ফর্মের ঘাটতি সত্ত্বেও, ইউনাইটেড সমর্থকরা আশা করছেন যে তাদের প্রিয় দল এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে। আগামীকালের ম্যাচটিই নির্ধারণ করে দেবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ডাগআউটে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে।