/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

৪২ বছরের সর্বনিম্ন জয়হীন রেকর্ড সত্ত্বেও বরখাস্তের আশঙ্কায় নেই ক্যারিক, রোমা ম্যাচের আগেই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য

সূত্র: স্কাই স্পোর্টস (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরে ৪২ বছরের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বাজে জয়হীন রেকর্ড গড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে আগামী মঙ্গলবার রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচেও দায়িত্বে থাকার আশা প্রকাশ করেছেন মাইকেল ক্যারিক।
৪২ বছরের সর্বনিম্ন জয়হীন রেকর্ড সত্ত্বেও বরখাস্তের আশঙ্কায় নেই ক্যারিক, রোমা ম্যাচের আগেই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড; লাল কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস।
•
ম্যাচের প্রভাব: টানা ৯ ম্যাচ জয়হীন ইউনাইটেড, যা ১৯৮৪ সালের পর ৪২ বছরের মধ্যে তাদের দীর্ঘতম জয়হীন রেকর্ড।
•
সামনে কী: চাপের মধ্যেও মঙ্গলবার রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ডাগআউটে থাকার প্রত্যাশা করছেন কোচ মাইকেল ক্যারিক।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা এবার ঐতিহাসিক এক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। চেলসির ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টানা নয় ম্যাচে জয়হীন থাকল রেড ডেভিলরা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, এই হারের ফলে গত ৪২ বছরের মধ্যে নিজেদের সর্বনিম্ন জয়হীন রেকর্ড স্পর্শ করেছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি। একই সাথে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় অবনমন অঞ্চলের ঝুঁকিতে পড়েছে তারা। মাঠের চরম অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের ম্যাচে ডাগআউটেই থাকছেন তিনি।

লন্ডনের এই ম্যাচটিতে দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জন্য বিকেলটি ছিল চরম হতাশার। চেলসির পক্ষে মোর্গান রজার্স যে প্রথম গোলটি করেন, তাতে বড় ভুল ছিল মার্তিনেসের। এরপর ডি-বক্সে ফাউল করে চেলসিকে পেনাল্টি উপহার দেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার, যার ফলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে কোল পামার গোল করে চেলসির জয় নিশ্চিত করেন এবং ইউনাইটেডের পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।

ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ এবং চাকরি হারানোর জল্পনা-কল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন ক্যারিক। সম্প্রচারমাধ্যম টিএনটি স্পোর্টস তাকে সরাসরি প্রশ্ন করে—মঙ্গলবার রোমার বিপক্ষে ম্যাচে কি তিনি দায়িত্বে থাকছেন? জবাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ক্যারিক বলেন, "হ্যাঁ।" পরবর্তীতে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের মনোভাব আরও পরিষ্কার করে কোচের দায়িত্বে থাকা এই সাবেক মিডফিল্ডার বলেন, "আমি এখন কেবল আগামী মধ্যসপ্তাহের ম্যাচের জন্য ছেলেদের তৈরি করার দিকে তাকিয়ে আছি।"

মাঠে টানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সফরকারী ইউনাইটেড সমর্থকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সমর্থন পেয়েছেন ক্যারিক। খেলা শেষে গ্যালারির কাছে গিয়ে সমর্থকদের হাততালি দেওয়ার সময় ভক্তরা ক্যারিকের নামে জয়ধ্বনি দিতে থাকেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারিতে সামান্য দুয়োধ্বনি শোনা গেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে তা ঢাকা পড়ে যায়। সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে টিএনটি স্পোর্টসকে ক্যারিক বলেন, "এখানে প্রচুর আবেগ জড়িত। আমরা একটি বড় ফুটবল ক্লাব এবং আমরা ম্যাচ জিততে চাই। সমর্থকরা আমাদের খেলা দেখতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন ও অর্থ ব্যয় করেন। আজ প্রথমার্ধে ছেলেরা সঠিক পথেই ছিল, কিন্তু হঠাৎ পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূলে চলে যায়।"

সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিক আরও যোগ করেন, "সমর্থকরা সত্যিই অসাধারণ। তারা বছরজুড়ে অনেক বড় সাফল্য দেখেছেন, আবার কঠিন সময়েও দলের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধের কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা যেভাবে শেষ পর্যন্ত থেকে দলকে সমর্থন দিয়েছেন, তা অতুলনীয়। আমাদের উচিত তাদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া।"

### ব্যর্থতার ইতিহাস ও ড্রেসিংরুমের সমীকরণ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাম্প্রতিক ধস হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। 'মাঠের খবর'-এর গত ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বোর্নমাউথের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই ক্যারিকের বরখাস্ত হওয়ার গুঞ্জন জোরালো হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবরের খবরে উঠে আসে, ড্রেসিংরুমে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো জ্যেষ্ঠ তারকাদের অসন্তোষ ও টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকার পরও চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিকের ওপর আস্থা বজায় রেখেছিল পরিচালনা পর্ষদ। তবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের এই হার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আধুনিক যুগের অন্যতম নিকৃষ্ট অধ্যায়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে জয় না পাওয়া ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর তাদের সবচেয়ে বাজে সফর। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের প্রথম সাতটি অ্যাওয়ে বা সফরকারী ম্যাচের একটিতেও জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে ইউনাইটেড। ঘরের বাইরে এমন জয়হীন সূচনা ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের পর এই প্রথম ঘটল, যে মৌসুমে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগ থেকে অবনমিত হয়েছিল ক্লাবটি।

পয়েন্ট তালিকার তলানির দিকে নেমে যাওয়া এবং অবনমন অঞ্চল স্পর্শ করার ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও দলের মানসিকতা নিয়ে কোনো হতাশা প্রকাশ করতে রাজি হননি ক্যারিক। রেলিগেশন লড়াইয়ের চাপ সামলানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান। ক্যারিক মন্তব্য করেন, তালিকায় নিচের দিকে থাকার বিষয়টি দুভাবে দেখা যায়—একদিকে এটি যেমন উদ্বেগের, অন্যদিকে পরপর কয়েকটি ম্যাচে জয় পেলে দ্রুত ওপরে উঠে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। দল সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই সামনের দিকে এগোতে চায়।

সামনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঝুলিতে কোনো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। মাইকেল ক্যারিকের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মঙ্গলবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রোমার মুখোমুখি হওয়া। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ড্রেসিংরুমকে চাঙ্গা করা ছাড়া তার সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আপাতত বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না আসায়, রোমার বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতের ৯টি মিনিটই ঠিক করে দিতে পারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে মাইকেল ক্যারিকের ভবিষ্যৎ।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)