/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

ইউরোপা লিগে বোর্নমাউথের দারুণ জয়, প্রাগের মাঠে জয় তুলে নিল ইংলিশ ক্লাব

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে স্পার্টা প্রাগকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বোর্নমাউথ। ইতালীয় দৈনিক করেলিয়ো দেল স্পোর্তের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপা লিগের এই পর্বে মার্সেই ও বেনফিকাও জয় পেয়েছে।
ইউরোপা লিগে বোর্নমাউথের দারুণ জয়, প্রাগের মাঠে জয় তুলে নিল ইংলিশ ক্লাব
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: বোর্নমাউথ প্রাগের মাঠে ৩-১ গোলে স্পার্টা প্রাগকে পরাজিত করেছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: ইউরোপা লিগের পয়েন্ট টেবিলে এই জয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
•
সামনে কী: দলগুলো তাদের আসন্ন ইউরোপীয় ও লিগ ম্যাচে মাঠে নামবে।

ইতালীয় দৈনিক করেলিয়ো দেল স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফা ইউরোপা লিগের লিগ পর্বের চতুর্থ ম্যাচডেরটি ছিল রোমাঞ্চকর ও নাটকীয়তায় ভরপুর। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের এই প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছিল মহাদেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষ দল। দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি ছিল বোর্নমাউথের প্রাগ সফর। চেক প্রজাতন্ত্রের মাঠে স্পার্টা প্রাগের মুখোমুখি হয়েছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই ক্লাবটি। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারী বোর্নমাউথ। এই জয়ের মাধ্যমে ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তার আরও একবার প্রমাণ দিল ইংলিশ ক্লাবটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যায়। স্পার্টা প্রাগের ঘরের মাঠে আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালায় দুই দলই। খেলার বয়স যখন ত্রিশ মিনিট, তখন একটি পেনাল্টি পায় বোর্নমাউথ। কিন্তু ইংলিশ দলটির হয়ে কুক পেনাল্টি মিস করায় লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়। এই ভুলের খেসারত দিতে হয় অল্প সময় পরেই। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে স্বাগতিক স্পার্টা প্রাগকে এগিয়ে দেন সিঙ্গারতেহ। তার করা গোলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বোর্নমাউথ। তবে এই গোল হজম করার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় সফরকারীরা।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষের দিকে এসে। গোল করার তিন মিনিট পর অর্থাৎ ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় স্পার্টা প্রাগ। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন গুডাল। এর ফলে স্বাগতিক দল দশ জনের দলে পরিণত হয় এবং ম্যাচের বাকী সময়টা তাদের খেলতে হয় এক খেলোয়াড় কম নিয়ে। বোর্নমাউথের জন্য এটি বড় একটি সুযোগ তৈরি করে। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে নামে ইংলিশ দলটি। প্রতিপক্ষের দশ জনের দলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা।

### দ্বিতীয়ার্ধে বোর্নমাউথের দুর্দান্ত কামব্যাক

বিরতির পর খেলার গতি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বোর্নমাউথ। একের পর এক আক্রমণে স্পার্টা প্রাগের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে সমতা ফেরায় সফরকারীরা। দলের হয়ে গোলটি করেন অ্যাডামস, যা ম্যাচের সমীকরণ পাল্টে দেয়। ১-১ সমতা ফেরার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বোর্নমাউথ। স্পার্টা প্রাগের রক্ষণভাগ তখন দশ জনের ক্লান্তির কারণে কিছুটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। এই সুযোগে ম্যাচের ৮১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। এভানিলসনের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বোর্নমাউথ।

ম্যাচ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় সফরকারীরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় রায়ানের করা গোলে বোর্নমাউথের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। এর আগে চলতি মৌসুমের অন্যান্য ম্যাচেও বোর্নমাউথ নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে। মাঠের খবর বা আমাদের আগের আর্কাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছিল বোর্নমাউথ। সে ম্যাচেও ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় রায়ান ও এভানিলসন গোল করেছিলেন। ইউরোপের মঞ্চেও তাদের সেই ফর্মের ধারাবাহিকতা দেখা গেল।

### ইউরোপা লিগের অন্যান্য ম্যাচের ফলাফল

ইউরোপা লিগের এই ম্যাচডের অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল টানটান উত্তেজনা। রিয়াল সোসিয়েদাদ ও লিঁওর মধ্যকার ম্যাচটি শেষ হয় ১-1 ড্রয়ের মাধ্যমে। স্প্যানিশ দল রিয়াল সোসিয়েদাদ ২৮ মিনিটে ওস্কারসনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে ফরাসি ক্লাব লিঁও হাল ছাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান তোলিসো। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দল দুটিকে। অন্যদিকে, লন্ডন ও হফেনহাইমের মধ্যকার ম্যাচটিতেও দেখা গেছে নাটকীয়তা। জার্মান ক্লাব হফেনহাইম ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটের মাথায় প্রাসের গোলে এগিয়ে যায়।

ম্যাচের বড় একটি সময় জুড়ে হফেনহাইম জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পথেই ছিল, বিশেষ করে যখন ৭৭ মিনিটে হোয়ার্টন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এবং ক্রিস্টাল প্যালেস দশ জনের দলে পরিণত হয়। তবে হার না মানা মানসিকতা দেখায় ইংলিশ ক্লাবটি। ম্যাচের ৯১ মিনিটে কামাদা গোল করে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ১-1 গোলের স্বস্তিদায়ক সমতা এনে দেন। এক খেলোয়াড় কম নিয়েও মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে তারা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে সালজবুর্গকে ২-0 গোলে পরাজিত করেছে আন্ডারলেখট। আন্ডারলেখটের পক্ষে ২০ মিনিটে অগাস্টিনসন গোল করে খাতা খোলেন এবং ৯০ মিনিটে উইঙ্কলার ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

প্রতিপক্ষের মাঠে নরওয়ের লিলের্সট্রমের বিপক্ষে কষ্টার্জিত ১-0 গোলের জয় তুলে নিয়েছে ভিক্টোরিয়া প্লজেন। ম্যাচের মাত্র দশ মিনিটে আদুর করা গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। বুলগেরিয়ান ক্লাব লেভস্কি সোফিয়াও ১-0 গোলে জিয়াগেলোনিয়াকে হারিয়ে জয় উৎসবে যোগ দেয়। দলের পক্ষে ৮৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন স্তোয়ানচভ। নেদারল্যান্ডসের এনইসি নিজমেকেন ও ওমেনিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ছিল বেশ গোলবহুল। সাইপ্রাসের ক্লাবটি ২৩ মিনিটে ডিয়োনির গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত কামব্যাক করে নিজমেকেন। লিনসেন ৫০ ও ৭৬ মিনিটে জোড়া গোল করেন এবং তাদের মাঝে ৭৪ মিনিটে বিশফফ আরও এক গোল করে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। সার্বিক এই ম্যাচগুলো ইউরোপা লিগের পয়েন্ট টেবিলকে আরও বেশি জমজমাট করে তুলেছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)