উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা। সিবিএস স্পোর্টস সকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভিলাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে স্বাগতিক বার্সেলোনা। এই জয়ে হান্সি ফ্লিকের দল চলতি প্রতিযোগিতায় চার ম্যাচের মধ্যে তাদের তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই বার্সেলোনা তাদের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে এবং সহজ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচ শুরুর আগে অ্যাস্টন ভিলা নিজেদের অবস্থান নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি করেছিল। সিবিএস স্পোর্টস সকারের তথ্যমতে, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের পারফরম্যান্স ও উত্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল দলটি। তবে বার্সেলোনার মতো দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ক্যাম্প ন্যুতে ভিলা কিছু সময় লড়াইয়ের আভাস দিলেও তা বার্সেলোনার রক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ভাঙার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে বার্সেলোনা এগিয়ে যায়। সিবিএস স্পোর্টস সকারের বিবরণ অনুযায়ী, জোয়াও গোমেসের কাছ থেকে দারুণ এক পাস পেয়ে যান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা পেয়ে ইয়ামাল নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের সুবাদে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ১৪ গোল করার মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার সর্বকালের সেরা কিশোর গোলদাতায় পরিণত হন।
### বার্সেলোনার আধিপত্য ও ভিলার রক্ষণাত্মক ভুল
প্রথমার্ধে অ্যাস্টন ভিলা একবারের জন্য হলেও প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল। সিবিএস স্পোর্টস সকারের প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে যে, ম্যাচের প্রায় ত্রিশ মিনিটের মাথায় ইয়োহান মানজাম্বি দর্শনার্থীদের হয়ে সেরা সুযোগটি তৈরি করেছিলেন। তবে সামগ্রিক ম্যাচে বার্সেলোনা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। হান্সি ফ্লিকের দল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখে বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখে এবং ভিলার রক্ষণভাগকে বারবার চাপের মুখে ফেলে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা তাদের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয়। ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র বারো মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন। সিবিএস স্পোর্টস সকারের তথ্য অনুযায়ী, রাফিনিয়ার প্রথম গোলটি আসে ভিলার রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে। ডি বক্সের কাছাকাছি তিন ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতেও তিনি ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। এর কিছুক্ষণ পরেই জোয়াও কান্সেলোর পাস থেকে রাফিনিয়া ফাঁকায় বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন।
এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৯টিতে। সিবিএস স্পোর্টস সকারের বিশ্লেষণ বলছে, ভিলার রক্ষণভাগের একাধিক ভুল বার্সেলোনার জয়কে আরও সহজ করে দেয়। তবে কেবল ভিলার ভুল নয়, হান্সি ফ্লিকের দলের সুসংগঠিত আক্রমণভাগ এবং নিখুঁত পাসিং ফুটবলই ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা মোট ১৬টি শট নেয় এবং ১.৯৯ এক্সপেক্টেড গোল বা প্রত্যাশিত গোল তৈরি করে।
ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার আক্রমণভাগ পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিল। সিবিএস স্পোর্টস সকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনায় আসার আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে আট গোল করা নিকোলাস জ্যাকসন এই ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিলেন। উনাই এমরির দল এর আগে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জয় পেলেও ক্যাম্প ন্যুতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ভিলা এই ম্যাচে নয়টি শট থেকে মাত্র ০.৭২ এক্সপেক্টেড গোল তৈরি করতে সক্ষম হয়।
বার্সেলোনার রক্ষণভাগে সাম্প্রতিক সময়ে ইনজুরির সমস্যা থাকলেও এই ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষকে গোল করার কোনো সুযোগ দেয়নি। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক রদ্রি প্রথমার্ধে মাঠেই ছিলেন এবং দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার পর বিরতিতে তাকে তুলে নেওয়া হয়। বার্সেলোনা পুরো নব্বই মিনিট ধরে ভিলাকে আটকে রাখে এবং প্রতিপক্ষকে কোনো রকম স্বস্তি দেয়নি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ইউরোপের শীর্ষ ট্রফি থেকে দূরে রয়েছে। সিবিএস স্পোর্টস সকারের প্রতিবেদন অনুসারে, ক্লাবের আর্থিক সংকটের কারণে গত কয়েক বছর পথ চলা কঠিন হলেও হান্সি ফ্লিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলটির খেলায় ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে। গ্রুপ পর্বের আগের ম্যাচে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর কাছে ৪-২ গোলে হেরে যাওয়ার পর বার্সেলোনার জন্য এটি ছিল একটি দুর্দান্ত কামব্যাক।
হান্সি ফ্লিক এই জয়কে দলের দীর্ঘ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। সিবিএস স্পোর্টস সকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে হলে এই ধরনের ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এই ৩-০ গোলের জয় বার্সেলোনাকে কেবল পয়েন্ট টেবিলেই এগিয়ে দেয়নি, বরং তাদের ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশনে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।