/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

সিলেটে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের কীর্তি: নাথান লায়নের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন বাংলাদেশি পেসার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। এই নৈপুণ্যে টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট শিকারের অনন্য কীর্তিতে অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার নাথান লায়নের পাশে বসলেন তিনি।
সিলেটে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের কীর্তি: নাথান লায়নের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন বাংলাদেশি পেসার
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নাথান লায়নের পর টেস্ট ইতিহাসে পাঁচটি ভিন্ন দেশে ৫ উইকেট শিকারের বিরল রেকর্ডে যোগ দিয়েছেন হাসান মাহমুদ।
•
ম্যাচের প্রভাব: এটি দেশের মাটিতে হাসানের প্রথম পাঁচ উইকেট এবং কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা স্পেল, যা ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে আটকে দেয়।
•
সামনে কী: দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে; তৃতীয় দিনে তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের কাঁধে থাকবে ব্যবধান কমানোর চ্যালেঞ্জ।

### সিলেটে সকালে মাহমুদের তাণ্ডব ও অর্জিত বিশ্বরেকর্ড

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলমান দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে দুর্দান্ত এক স্পেল উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট ঝুলিতে পুরেন তিনি, যার সৌজন্যে অতিথিদের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। দেশের মাটিতে এটিই হাসান মাহমুদের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার এবং এটি টেস্ট ফরম্যাটে দেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিং বিশ্লেষণ। একই সাথে এই অর্জনের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক বিরল অভিজাত তালিকায় প্রবেশ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অফ-স্পিনার নাথান লায়নের পর টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট শিকারের মহাকীর্তি গড়লেন হাসান মাহমুদ।

হাসান মাহমুদের এই ভৌগোলিক রেকর্ড জয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালে কাঙ্ক্ষিত রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে, যেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। একই বছরের শেষের দিকে ভারতের মাটিতে চেন্নাই টেস্টে ৮৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। এরপর ২০২৬ সালে দেশের বাইরে আরও দুটি পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই ডানহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন, যেখানে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে টানা তিন বলে আউট করে ফরম্যাটটিতে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। এবার ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট শিকারের বৃত্ত পূরণ করলেন তিনি। মিডিয়া আউটলেট ক্রিকট্র্যাকার মাহমুদের বয়স ২৬ বছর উল্লেখ করলেও উইজডেন তাকে ২৭ বছর বয়সী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

### নাথান লায়নের সাথে তুলনা ও দ্বিতীয় দিনের ঘটনাপ্রবাহ

টেস্ট ইতিহাসে পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট নেওয়ার একক বেঞ্চমার্ক এতদিন ধরে রেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অফ-স্পিনার নাথান লায়ন। লায়নের এই যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কায় ৩৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে। এরপর ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ৬৮ রানে ৫ উইকেট, ২০১৩ সালে ভারতে ৯৪ রানে ৭ উইকেট এবং মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের পাঁচ দেশের তালিকা সম্পূর্ণ করেছিলেন লায়ন। লায়নের তালিকা যেখানে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত, সেখানে হাসান মাহমুদ নিজের তালিকা সাজিয়েছেন পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশকে দিয়ে।

দ্বিতীয় দিনের সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন চুরমার করে দেন হাসান মাহমুদ। আগের দিনের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল সফরকারীরা। ইনিংসের ১৩৩ রান করা সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মাহমুদ। ঠিক পরের বলেই সফরকারী অধিনায়ক রস্টন চেজকে শূন্য রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। হ্যাটট্রিকের মুখে দাঁড়িয়ে জশুয়া বিশপকে ভেতরের দিকে ঢোকা বল আঘাত করলে অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিতিন মেনন এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত দেন। উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো দল। তবে বিশপ রিভিউ নিলে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে প্যাডে লেগেছে, যার ফলে ডিআরএসের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি বাতিল হয় এবং এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিক থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন মাহমুদ। তবে দমে না গিয়ে কয়েক ওভার পর বিশপকে আউট করেন তিনি, যা টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট পাওয়ার প্রথম ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়, যেখানে উইকেটের পেছনে বেল ফেলে দেন লিটন দাস। মধ্যাহ্নভোজের পর প্রথম ওভারেই শামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের ৬ উইকেটের কোটা পূরণ করেন মাহমুদ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দিলেও ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ফিল্ডিং করার সময় গোড়ালিতে চোট পেয়ে হাসপাতালে যান প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা ওপেনার সাদমান ইসলাম। তার পরিবর্তে ওপেন করতে নেমে পঞ্চম ওভারেই আউট হন নাঈম হাসান। এরপর তানজিদ হাসান ১৬ রান করে এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত বিদায় নিলে ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। চায়ের বিরতির সময় বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৩৬। দিনের শেষভাগে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ, এখনও সফরকারীদের থেকে ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। আঙুলের ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে এবং তাওহীদ হৃদয় ২৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।

### সূত্র

এই প্রতিবেদনের সব তথ্য নেওয়া হয়েছে: CricTracker, Wisden, Sportstar (The Hindu) Cricket। এআই-সহায়তায় লেখা ও সম্পাদিত।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)