/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

সিলেটে কেন ব্যাকফায়ার করল বাংলাদেশের স্পিন বাজি এবং কীভাবে ম্যাচে ফিরল উইন্ডিজ?

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আমির জাঙ্গুর অপরাজিত ১১১ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ৬১ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন ও হাসান দুটি করে উইকেট পেলেও তিন স্পিনার ৪২ ওভার হাত ঘুরিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
সিলেটে কেন ব্যাকফায়ার করল বাংলাদেশের স্পিন বাজি এবং কীভাবে ম্যাচে ফিরল উইন্ডিজ?
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে টস হেরে আগে বল করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে ৩ উইকেটে ফেলে দেওয়ার পরও দিন শেষে ২৩৫/৪ রান দিয়েছে বাংলাদেশ।
•
ম্যাচের প্রভাব: বাংলাদেশের তিন স্পিনার ৪২ ওভারে কোনো উইকেট না পাওয়ায় এবং ক্যারিবীয় ব্যাটার আমির জাঙ্গু অপরাজিত ১১১ রান করায় ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
•
সামনে কী: দ্বিতীয় দিনের সকালে আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে ক্যারিবীয়দের দ্রুত অলআউট করতে না পারলে ৩৫০ বা ৪০০ পার করার লক্ষ্য জানিয়েছে সফরকারীরা।

### সিলেটে পেসারদের প্রাথমিক সাফল্যের পর কেন পথ হারাল বাংলাদেশের স্পিন কৌশল?

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম টেস্টে আট উইকেটে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ম্যাচের প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম টেস্টের পর বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে। পেস আক্রমণে হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগ দেন তাসকিন আহমেদ, আর স্পিন বিভাগে রাখা হয় তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও নাঈম হাসানকে। ম্যাচের আগের দিন পিচে ঘাস থাকলেও ম্যাচের দিন সকালে তা শুষ্ক মনে হয়, যার ফলে টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ মুহূর্তে তিনজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ম্যাচের প্রথম ঘণ্টার খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটি শুরুতে চাপে পড়ে। বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে সফরকারী টপ অর্ডারকে চাপে ফেলেন। পঞ্চম ওভারে তাসকিন আহমেদ ব্র্যান্ডন কিংকে ৯ রানে ফেরান। ষষ্ঠ ওভারে হাসান মাহমুদের ডেলিভারিতে ১ রান করা কাভেম হজের মিডেল স্টাম্প উপড়ে যায়। নবম ওভারে তাসকিনের বলে ১২ রানে এলবিডব্লিউ হন জশুয়া দা সিলভা। ফলে ২৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে প্রথম ঘণ্টার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতছাড়া হতে থাকে। পিচ ফ্ল্যাট হয়ে যাওয়ায় স্পিনারদের জন্য সহায়তা কমে যায়। বাংলাদেশের তিন স্পিনার তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও নাঈম হাসান মিলে ৪২ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি। একাদশে মাত্র দুজন পেসার থাকায় স্বাগতিকরা দীর্ঘ সময় ধরে পেস আক্রমণ বজায় রাখতে পারেনি।

দিন শেষে তাসকিন আহমেদ জানান, প্রথম ঘণ্টার আর্দ্রতায় বল মুভ করছিল, তখন আরেকজন পেসার থাকলে দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করা যেত। তিনি বলেন, এখানে কোনো জাদুকরী ডেলিভারি নেই, ফিল্ডারদের সামনে টানা বল করে ব্যাটারদের ভুলের জন্য অপেক্ষা করাই ছিল একমাত্র পথ। যখন সাধারণ লেংথ বলে কাজ হচ্ছিল না, তখন পেসাররা শর্ট বল ও লেংথের মিশ্রণ ঘটিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার পরিকল্পনা করেন, যা পরে উইকহ্যামের উইকেট এনে দেয়। পাশাপাশি নাহিদ রানার অনুপস্থিতি এবং কাজের চাপের কারণে দলের পেস বোলিংয়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাসকিন আরও বলেন, রোটেশন বা কাজের চাপের কারণে অনেক সময় ভালো পারফর্ম করার পরেও নির্দিষ্ট ম্যাচে খেলা হয় না, কিন্তু বাস্তবতা হলো চার-পাঁচজন বোলারের বাইরে আমাদের হাতে বিকল্প খুব কম।

### উইকহ্যাম ও জাঙ্গুর ১৩১ রানের জুটিতে কীভাবে ম্যাচে ফিরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস পুনর্গঠনের মূল নায়ক ছিলেন অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম এবং আমির জাঙ্গু। ভাইরাল জ্বরের কারণে জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ন চন্দরপল ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ায় কেভিন উইকহ্যামের অভিষেক ঘটে। ম্যাচের আগের রাতে কোচ তাকে তৈরি থাকতে বলেছিলেন। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে উইকহ্যাম শুরুতে স্নায়ুচাপে ভুগলেও আমির জাঙ্গু তাকে টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্যের গুরুত্ব বোঝান। জাঙ্গুর পরামর্শে উইকহ্যাম ধৈর্য দেখান এবং ১২৩ বলে নিজের প্রথম ফিফটি পূরণ করেন। আউট হওয়ার আগে উইকহ্যাম ৬১ রানের ইনিংস খেলেন।

আমির জাঙ্গু ১১টি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক খেলেন। চা বিরতির ঠিক আগে হাসান মাহমুদ শর্ট বল ও লেংথের মিশ্র কৌশলে উইকহ্যামকে আউট করে ১৩১ রানের জুটি ভাঙেন। তবে জাঙ্গু তার আগ্রাসী ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন এবং বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৪৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন, যা তার দশম টেস্ট ইনিংসে এলো। চা বিরতির পর জাস্টিন গ্রিভস তাকে সঙ্গ দেন এবং ৬২ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করেন। খারাপ আলোর কারণে দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলে দিন শেষ করে। আমির জাঙ্গু ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন।

দিন শেষে কেভিন উইকহ্যাম জানান, পিচ দিন দিন আরও খারাপ হতে পারে, তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৫০ থেকে ৪০০ বা তার বেশি রান তুলতে চায়। তিনি বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে বোলিং অনেক বেশি ধারাবাহিক, তাই নিজের ডিফেন্সের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। জাঙ্গু তাকে গাইড করেছেন এবং ধৈর্য ধরে খেলার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। উইকহ্যাম আরও বলেন, বাংলাদেশ ভালো ফিল্ডিং সাজিয়েছিল এবং স্পিনাররা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ক্রিজে থিতু হওয়ার পর ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যায়। সফরকারীরা এখন এই পিচে দুইবার বোলিং করার সুযোগ পেতে চায়, যার জন্য একটি বিশাল সংগ্রহ তাদের লক্ষ্য।

### সূত্র

এই প্রতিবেদনের সব তথ্য নেওয়া হয়েছে: CricTracker, Sportstar (The Hindu) Cricket। এআই-সহায়তায় লেখা ও সম্পাদিত।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)