/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

অস্ট্রেলিয়ার শর্ট-ফর্ম ক্রিকেট তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৩০ ম্যাচে ২,৮৯৭ রান সংগ্রহ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
প্রতীকী ছবি • Unsplash
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন
•
ম্যাচের প্রভাব: তিনি ১৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২,৮৯৭ রান সংগ্রহ করেছেন
•
সামনে কী: তিনি বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টারস দলের হয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাবেন

### আন্তর্জাতিক ও রাজ্য ক্রিকেট থেকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বিদায়

অস্ট্রেলিয়ার শর্ট-ফর্ম ক্রিকেটের প্রভাবশালী তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার, যিনি ২০২৫ সালেই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন, এবার অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি দলের পাশাপাশি নিজের রাজ্য দল ভিক্টোরিয়ার হয়েও ব্যাট-গ্লাভস তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে 'বিগ শো' নামে পরিচিত ম্যাক্সওয়েল এই চলতি মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা না পাওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, ফলে মাঠ থেকে বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ তিনি পাননি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও তিনি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাবেন এবং সামনেই বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টারস দলের হয়ে মাঠে নামবেন।

দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড পডকাস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে ম্যাক্সওয়েল ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ম্যাচের পর আবেগঘন মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি জানান যে, ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর সতীর্থদের সাথে কথা বলা এবং রাজ্য দলের হয়ে এটিই তাঁর শেষ ম্যাচ তা জানানো তাঁর ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ছিল এবং কথা বলার সময় তাঁর গলা আটকে এসেছিল। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ২০০৯ সালের দিকে তিনি যখন প্রথম ভিক্টোরিয়ার চেঞ্জ রুমে প্রবেশ করেন, তখন যদি কেউ তাঁকে এমন একটি ক্যারিয়ার অফার করত, তবে তিনি সানন্দে তা লুফে নিতেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দেশের হয়ে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা নতুন শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা খেলাধুলাকে আপন করে নেয়, ভিন্নভাবে খেলার সাহস দেখায়, নিজেদের মুক্ত ও উন্মুক্ত রাখে এবং নিজেদের মতো থাকতে কখনো দ্বিধাবোধ না করে। প্রথম টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার অনেক আগেই তিনি টেস্ট ক্যাপ পেয়েছিলেন এবং নির্বাচকরা তাঁর ওপর যে জুয়া খেলেছিলেন, বিভিন্ন সময়ে তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পেরেছিলেন বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ম্যাক্সওয়েল বহু গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্বাক্ষর রেখেছেন এবং তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি ২৮.৯৭ গড় এবং ১৫৪.৪২ ভয়ানক স্ট্রাইক রেটে ২,৮৯৭ রান সংগ্রহ করেছেন। ব্যাট হাতে রানের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ৫১টি উইকেট এবং ৬২টি ক্যাচও নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ছাড়াও ম্যাক্সওয়েল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৪৯টি ওয়ানডে এবং ৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, সেই সাথে ভিক্টোরিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট এ ক্রিকেটেও দারুণ এক সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়েছেন। তিনি ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী একাদশের সদস্য ছিলেন, আর ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জয়সূচক রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকেই।

### স্মরণীয় বিশ্বকাপ ইনিংস ও ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বেশ কিছু বিধ্বংসী ইনিংসের জন্য ম্যাক্সওয়েল চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ইনিংসটিকে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও অলৌকিক ইনিংস হিসেবে গণ্য করা হয়। ২৯২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স যখন ক্রিজে আসেন, তখন ম্যাক্সওয়েল ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ম্যাচের একপর্যায়ে তীব্র ক্র্যাম্প বা পেশির টানের কারণে তিনি হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং ইনিংসের শেষ ১০ ওভার বাকি থাকতে মাঠে লুটিয়ে পড়েন। ড্রেসিংরুম থেকে ফ্লুইড ও দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেও তাঁর শরীর স্বাভাবিক করা যায়নি। পায়ের পাতা যেন সিমেন্টের সঙ্গে আটকে গিয়েছিল, কিন্তু সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। ১২৮ বল খেলে ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় ২০১ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়ে সেমিফাইনালে তোলেন তিনি।

একই বিশ্বকাপে নয়াদিল্লিতে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচটিতেও ম্যাক্সওয়েল দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন। মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্রুততম শতক এবং ওয়ানডেতে যেকোনো অস্ট্রেলিয়ানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নেন। ৪১তম ওভারের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম বল খেলার সুযোগ পেয়েও ৪৮তম ওভারের শেষে তিনি ৭৫ রানে পৌঁছান। এরপর বাস ডি লিডের এক ওভারে প্রথম চার বলে ৪, ৪, ৬, ৬ মারার পর একটি নো-বল ফুলটস ডেলিভারিতে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে হুক করে নিজের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন।

টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটিং ছিল মারাত্মক ধ্বংসাত্মক। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চের অনুপস্থিতিতে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করতে নামেন তিনি। রিভার্স সুইপে ছয় মেরে তাণ্ডব শুরু করে ২৭ বলে ফিফটি এবং মোট ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৬৫ বলে ১৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল, যার ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া ২৬৩/৩ রান তোলে, যা তৎকালীন সময়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডকে স্পর্শ করে এবং কেনিয়ার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড রানকে পেছনে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে অ্যাডিলেড ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি ৫৫ বলে ১২০ রানের আরেকটি বিধ্বংসী অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ২৫ বলে ফিফটি এবং ৫০ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া এই ইনিংসে তিনি ৮টি ছক্কা হাঁকান। এটি ছিল টি-টোয়েন্টিতে তাঁর পঞ্চম শতক, যার মাধ্যমে তিনি রোহিত শর্মার সাথে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।

যদিও ম্যাক্সওয়েল তাঁর ক্যারিয়ারে মাত্র ৭টি টেস্ট খেলেছেন এবং তার একটিও দেশের মাটিতে ছিল না, তবুও তিনি তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করা হাতে গোনা ছয়জন অস্ট্রেলিয়ানের একজন। ২০১৭ সালে রাঁচিতে ভারতের বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতিতে ধীরস্থিরভাবে খেলে তিনি তাঁর একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরিটি (১৮৫ বলে ১০৪ রান) পেয়েছিলেন, যেখানে প্রথম বাউন্ডারি মারতে তাঁকে ৫৬তম বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এরপর তিনি আর মাত্র ৩টি টেস্ট খেলার সুযোগ পান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরিটি এসেছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে, যেখানে তিনি ৫১ বলে (১০২ রান, ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা) দ্রুততম সেঞ্চুরির তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ড গড়েন। এক অপূরণীয় প্রতিভার আক্ষেপ সঙ্গে থাকলেও, মাঠের রোমাঞ্চকর সব স্মৃতি উপহার দিয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন।

### সূত্র

এই প্রতিবেদনের সব তথ্য নেওয়া হয়েছে: The Guardian Cricket। এআই-সহায়তায় লেখা ও সম্পাদিত।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)