/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল পাকিস্তান

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

লাহোরে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি ঘরে তুলেছে পাকিস্তান। কামিন্দু মেন্ডিসের ১৩১ রানের ইনিংস ছাপিয়ে ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত শতকে স্বাগতিকদের জয়ের ভিত গড়ে দেন ফখর জামান।
ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল পাকিস্তান
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: লাহোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।
•
ম্যাচের প্রভাব: আইসিসি ওয়ানডে দলীয় র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান চতুর্থ স্থানে এবং শ্রীলঙ্কা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।
•
সামনে কী: ২০০৮ সালের কিটপ্লাই কাপের পর এটি পাকিস্তানের প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি।

### লাহোরে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে রেকর্ড রান তাড়া ও ফখরের মহাকাব্যিক শতক

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের রোমাঞ্চকর ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। ফ্লাডলাইটের আলোয় ঠাসা দর্শকের সামনে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নয় বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে জয় অর্জন করে স্বাগতিকেরা। দ্য গার্ডিয়ান ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড। এই জয়ের মাধ্যমে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারানোর পর এই প্রথম কোনো ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা ঘরে তুলল পাকিস্তান। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারের স্মৃতিও মুছে ফেলল তারা।

৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কার বলে দলীয় মাত্র ৮ রানে শট খেলে পবন রত্নায়েকের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার মাআজ সাদাকাত (৫)। এরপর প্রথম চার ওভারের মধ্যেই বিদায় নেন পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার বাবর আজম। সম্প্রতি রান খরায় ভোগা বাবর কোনো রান না করেই মাদুশঙ্কার অফস্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ওয়াইড স্লিপে পবন রত্নায়েকের হাতে ধরা পড়েন। রত্নায়েক প্রথম চেষ্টায় ক্যাচটি হাতছাড়া করলেও শেষ পর্যন্ত লুফে নেন। এটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবরের টানা নবম ইনিংস যেখানে তিনি ফিফটির দেখা পাননি। মাত্র ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন সংকটে, তখন উইকেটে তৈরি হয় দুই বাঁহাতির দুর্দান্ত জুটি। ২০তম জন্মদিনের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্যাট করতে নামা অনূর্ধ্ব-১৯ তারকা সাদ বেগ এবং অভিজ্ঞ ফখর জামান ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন।

ফখর জামান ও সাদ বেগ শ্রীলঙ্কান বোলারদের আক্রমণ সামলে তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন। সাদ বেগ ৫২ বলে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ফিফটি পূরণ করেন এবং ৭৫ বলে ৭৪ রান করে মাহিশ থিকশানাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। অন্যদিকে, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালের নায়ক ফখর জামান শুরু থেকেই দারুণ সাবলীল ছিলেন। তবে ৬৯ এবং ১০৬ রানে মাহিশ থিকশানা দুটি ক্যাচ মিস করলে জীবন পান ফখর। ৫০ রান তুলতে ৫৯ বল খরচ করা ফখর পরের ৫০ রান সংগ্রহ করতে মাত্র ২৫ বল খেলেন। অসিথা ফার্নান্দোকে স্কয়ার লেগ সীমানার দিকে চার মেরে ৮৩ বলে নিজের ১২তম ওয়ানডে শতক উদযাপন করেন তিনি। শতক ছোঁয়ার পর হেলমেট খুলে দর্শকদের অভিবাদন জানান এবং মাঠে হাঁটু গেড়ে সিজদা দেন। শেষ পর্যন্ত ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন ফখর, তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা।

ফখর আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৮৬ বলে ১০৬ রান। নতুন ব্যাটার সালমান আলি আগা (১৭) দুনিথ ওয়েল্লালাগের বলে সোয়িপ করতে গিয়ে বোল্ড হলে দলীয় ২৩০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। পরবর্তী ১০ ওভারের বেশি সময় কোনো বাউন্ডারি আসেনি, ফলে চাপ বাড়তে থাকে। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন দুই তরুণ ব্যাটার—২১ বছর বয়সী আরাফাত মিনহাজ এবং ২৪ বছর বয়সী হাসান নওয়াজ। সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বল হাতে ছয় উইকেট নেওয়া বাঁহাতি অলরাউন্ডার মিনহাজ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে কভারের ওপর দিয়ে চার মেরে বাউন্ডারির খরা কাটান। ষষ্ঠ উইকেটে মিনহাজ ও নওয়াজ যোগ করেন ৯৪ রানের ম্যাচজয়ী জুটি। ৩০ বলে ৪৬ রান যখন দরকার, তখন শানাকার ৪৬তম ওভারে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৫ রান তুলে নেন মিনহাজ। পরের ওভারে মাদুশঙ্কাকে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন তিনি।

জয়ের জন্য যখন শেষ দুই ওভারে মাত্র দুই রান প্রয়োজন, তখন আসে নাটকের শেষ দৃশ্যপট। অসিথা ফার্নান্দোর ওভারে পুল করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন ৩১ বলে ৬১ রান (৪টি ছক্কা) করা মিনহাজ। পরের বলেই ফাহিম আশরাফ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে আউট হন। তবে কোনো অঘটন ঘটতে দেননি শাহিন শাহ আফ্রিদি। উইকেটে এসে অসিথা ফার্নান্দোর বলকে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে পাকিস্তান দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। অন্যপ্রান্তে ৩৪ বল খেলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান নওয়াজ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মাদুশঙ্কা ৩টি, অসিথা ফার্নান্দো ২টি এবং থিকশানা ও ওয়েল্লালাগে একটি করে উইকেট নেন।

### মেন্ডিস-রত্নায়েকের লড়াই, শ্রীলঙ্কার ধস ও আসরের ট্রফি অর্জন

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রাহ করে শ্রীলঙ্কা। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবারের মতো টার্গেট সেট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার আভিশকা ফার্নান্দো (৩৮) ও কামিন্দু মেন্ডিস, যারা ৮৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। পার্টটাইম অফস্পিনার সালমান আগা একই ওভারে আভিশকা এবং অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে (৮) আউট করে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেন। তবে কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা পবন রত্নায়েক। তারা দুজন তৃতীয় উইকেটে ১১৯ বলে ১৪৬ রান যোগ করেন। টেস্টে উজ্জ্বল রেকর্ডের অধিকারী কামিন্দু ওয়ানডে অভিষেকের সাত বছর পর ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে শতকের দেখা পান। ১২৮ বলে ১২টি চার ও ২ ছক্কায় ১৩১ রানের ইনিংস খেলেন কামিন্দু। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া রত্নায়েক খেলেন ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস, যা ত্রিদেশীয় সিরিজে তার মোট রানকে ৪২৭-এ নিয়ে যায় (গড় ১০৬.৭৫)।

একপর্যায়ে শ্রীলঙ্কা ৪১ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রান তুলে বিশাল সংগ্রহের পথেই ছিল। কিন্তু শেষ নয় ওভারে স্বাগতিক পেসারদের তোপে শ্রীলঙ্কা ছয়টি উইকেট হারায়। শাহিন শাহ আফ্রিদি ৫০ রানে ২ উইকেট নেন, যেখানে কামিন্দু ও বিপজ্জনক দাসুন শানাকা (১৭) তার শিকার হন। হারিস রউফ তার শর্ট লেংথ বলে রত্নায়েক ও ওয়েল্লালাগেকে (৩) সাজঘরে ফেরান। শেষ দিকে সাহান আরাচ্চিগে ১৫ রান করেন। ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস বলেন, "আমাদের আরও ৩০ রান করা দরকার ছিল।" চার দিন আগেই পাকিস্তানকে ১১০ রানে অলআউট করে দেওয়া শ্রীলঙ্কা এদিন লাহোরের উইকেটে রান ধরে রাখতে পারেনি। উইজডেনের তথ্যমতে, এই আসর জয়ের পর পাকিস্তান এক পয়েন্ট পেয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে বহাল রয়েছে (দক্ষিণ আফ্রিকার সমান)। অন্যদিকে এক পয়েন্ট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে এবং ইংল্যান্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

### সূত্র

এই প্রতিবেদনের সব তথ্য নেওয়া হয়েছে: The Guardian Cricket, Wisden, Hindustan Times Cricket। এআই-সহায়তায় লেখা ও সম্পাদিত।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)