একটি টেস্ট ম্যাচ কীভাবে একদিনেই বারবার বাঁক বদল করে? মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঠিক এই দৃশ্যই দেখা গেল। সেঞ্চুরি উদযাপনের মধ্য দিয়ে সকাল শুরু হলেও দ্রুত ধসে পড়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। এরপর ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পেয়েও বৃষ্টির পর স্পিন বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দ্বিতীয় দিন শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান।
কীভাবে ধসে পড়ল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস? বুধবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ নিয়ে প্রকাশিত খবরে ভিন্নতা ছিল; এক প্রতিবেদনে ২৩১/৩ এবং অন্যটিতে ২১৩/৩ রানের কথা উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় দিন সকালে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার শাদমান ইসলাম দিনের দ্বিতীয় বলেই ২২১ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট শতক পূর্ণ করেন। তবে তার সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। অভিষিক্ত স্পিনার জোশুয়া বিশপ রিভিউ নিয়ে শাদমানকে আউট করে নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট শিকার করেন। এরপর বিশপের সোজা ডেলিভারিতে আউট হন তাওহীদ হৃদয়।
ক্যারিবীয় স্পিনারদের দাপট ছিল কতটা মারাত্মক? টার্ন ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান দারুণ বোলিং উপহার দেন। ১৫ রানে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজকে বোল্ড করেন তিনি। অন্যপ্রান্তে গতি বোলার শামার জোসেফ পরপর দুই উইকেটে নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদকে ফিরিয়ে চাপ বাড়ান। জোসেফ ৪১ রানে ২ উইকেট নেন। এরপর ওয়ারিকান লেজ মুড়ে দিয়ে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে আউট করে নিজের চতুর্থ টেস্ট ফাইফার পূর্ণ করেন। ৫৩ রানে ৫ উইকেট নেন ওয়ারিকান। সকালে মাত্র ৫৯ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ ৫ উইকেট পড়ে মাত্র ১৯ রানে। এতে অন্যপ্রান্তে অপরাজিত ৩৪ রানে আটকে যান উইকেটরক্ষক লিটন দাস এবং ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
নিজের আউট ও দলের ব্যাটিং ধস নিয়ে শাদমান ইসলাম বলেন, "আমি যদি উইকেটে আর কিছুক্ষণ টিকতে পারতাম বা ইনিংসটা আরও বড় করতে পারতাম, হয়তো ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতো। নতুন ব্যাটারদের জন্য এই উইকেটে মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল। হয়তো সেখানেই আমরা ভুল করেছি।"
ওয়েস্ট ইন্ডিজ জবাব দিতে নেমে কেমন সূচনা করেছিল? ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবীয় ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং শুরুটা ভালোই করেছিলেন। পেসার হাসান মাহমুদ ব্র্যান্ডন কিংকে ১৫ রানে আউট করে স্বাগতিকদের প্রথম সাফল্য এনে দেন। এরপর তাগেনারাইন চন্দরপলের সঙ্গে জুটি গড়েন ক্যাম্পবেল। চন্দরপল উইকেটে ধৈর্য ধরে স্পিনারদের সামলান, অন্যদিকে ক্যাম্পবেল ছিলেন আক্রমণাত্মক। মেহেদী হাসান মিরাজকে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ৬১ বলে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট অর্ধশতক পূরণ করেন ক্যাম্পবেল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ১ উইকেটে ৮৯ রান তুলে শক্ত অবস্থানে, ঠিক তখনই বৃষ্টির আগমন ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। খেলা থামার আগে ক্যারিবীয়রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এই বিরতি বাংলাদেশের বোলারদের নতুন করে কৌশল সাজানোর সুযোগ করে দেয়।
বৃষ্টির পর কীভাবে খেলায় ফিরল বাংলাদেশ? খেলা পুনরায় শুরু হতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। অফ-স্পিনার মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫৪ রানে বিদায় নেন ক্যাম্পবেল। পরের ওভারেই স্পিন জাদু দেখান তাইজুল ইসলাম। একই ওভারে কাভেম হজ (৭) ও আমির জাঙ্গুকে (০) সাজঘরে পাঠান তিনি। এতে ৮৯/১ থেকে দেখতে না দেখতে ৯৭/৪ উইকেটে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বৃষ্টির বিরতির পর ছন্দপতন নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার জন ক্যাম্পবেল বলেন, "বৃষ্টির পর বল কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল এবং বিরতির আগে আমাদের ভালো মোমেন্টাম ছিল। বিরতির কারণে তারা নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং মাঠে ফিরে তারা আরও সঠিক জায়গায় বল করতে শুরু করে।"
### স্পিন ও আবহাওয়ার নিয়ন্ত্রণ
দ্রুত ৪ উইকেট হারানোর পর তাগেনারাইন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস শেষ ১২ ওভার ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে দিন পার করেন। চন্দরপল ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে স্থগিত হলে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তোলে ক্যারিবীয়রা। তারা এখনও প্রথম ইনিংসে ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
তৃতীয় দিনে কী অপেক্ষা করছে? মিরপুরের টার্নিং উইকেটে শুক্রবার সকালে চন্দরপল ও গ্রিভসের জুটি কতদূর নিয়ে যেতে পারে ক্যারিবীয়দের, তার ওপর নির্ভর করবে প্রথম ইনিংসের ভাগ্য। অন্যদিকে, দ্রুত বাকি ৬ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়াই থাকবে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য।
### সূত্র
এই প্রতিবেদনের সব তথ্য নেওয়া হয়েছে: Sportstar (The Hindu) Cricket। এআই-সহায়তায় লেখা ও সম্পাদিত।