ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে সফরকারীরা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছিল ভারত। শেষ পাঁচ ওভারে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান, আর হাতে ছিল মাত্র ৪টি উইকেট। তবে তিলক বর্মা ও নিতীশ কুমার রেড্ডির অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে শ্বাসরুদ্ধকর জয় ছিনিয়ে আনে ভারত, যা ভারতীয় ক্রীড়া মাধ্যম স্পোর্টস্টার তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।
রান তাড়ায় ভারত যখন গভীর সংকটে, তখন উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন তিলক বর্মা। তিনি ২৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৫১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অপর প্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন নিতীশ কুমার রেড্ডি, যিনি ১৩ বলে ২৬ রানের এক ক্যামিও উপহার দেন। শেষ ওভারের নাটকীয় মুহূর্তে নিতীশ বলকে ডিপ স্কয়ার লেগের দিকে ঠেলে দিয়ে প্রয়োজনীয় জয়সূচক রানটি পূর্ণ করেন এবং ভারতকে এক অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন।
এই দুই ব্যাটার ম্যাচ শেষ করার আগে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন নামান ধীর। সাত নম্বরে নেমে ধীর ১৭ বলে ৩১ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তার এই দ্রুতগতির ইনিংসে ভর করেই ভারতের রানের গতি বজায় থাকে। অবশেষে মিচেল স্যান্টনারের বলে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হলেও, ততক্ষণে ম্যাচের মোড় অনেকটাই ভারতের দিকে ঘুরে যায়।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার প্রায় একাই ভারতের হাত থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন। তিনি ৪টি উইকেট শিকার করে সফরকারীদের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। এক ওভারেই অক্ষর প্যাটেল ও শ্রেয়াস আইয়ারকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতকে মারাত্মক চাপে ফেলেছিলেন স্যান্টনার। এছাড়া বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অভিষেক শর্মা ও নামান ধীরের উইকেটও নেন এই কিউই স্পিনার।
১৮১ রানের জবাবে ভারতের সূচনাটি একেবারেই ভালো হয়নি। কিউই পেসার ম্যাট হেনরির দারুণ বোলিংয়ের সামনে অভিজ্ঞ ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন প্রথম ওভারেই মেডেন খেলেন। এরপর স্যামসন পেস আক্রমণের শিকার হয়ে দ্রুতই বিদায় নেন। দলের আরেক তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীও দ্রুত উইকেট হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন, ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে সফরকারীরা।
ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের ধীরগতির শুরুর পর আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করেছিলেন অভিষেক শর্মা। তিনি চারের বন্যা বইয়ে দিয়ে মাত্র ২৭ রান করেন। তবে তিনি যখন ক্রিজে জমে উঠেছিলেন, তখনই আক্রমণে এসে তাকে আউট করেন স্যান্টনার। এরপর স্যান্টনারের জোড়া আঘাতেই ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভারত।
### নিউজিল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানো ও সিরিজের ভবিষ্যৎ সমীকরণ
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটাও ভালো ছিল না। ভারতীয় বোলাররা পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই দারুণ বোলিং করে কিউই টপ অর্ডারকে তছনছ করে দেন। মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন এবং ড্যারিল মিচেল।
তিন উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া স্বাগতিকদের খেলায় ফেরান গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবস। এই দুজন চতুর্থ উইকেটে ১১৬ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্লেন ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে বেভন জ্যাকবস ৪৬ বলে ৫৮ রান সংগ্রহ করেন।
ফিলিপস ও জ্যাকবসের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ দিকে তাণ্ডব চালান মাইকেল ব্রেসওয়েল। তিনি একটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহকে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮০ রানে পৌঁছে দেন। তবে স্বাগতিকদের তোলা এই বড় সংগ্রহও ভারতের লোয়ার মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।
স্পোর্টস্টারের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ম্যাচটিতে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের গভীরতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। শুরুতে পেস বোলিংয়ের সামনে স্যামসনের মেডেন ওভার এবং মাঝের ওভারে স্যান্টনারের স্পিন বিপর্যয় সত্ত্বেও তিলক, নিতীশ ও নামান ধীরের দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক মানসিকতা ভারতের জয় সুনিশ্চিত করে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শেষ ৫ ওভারে ১৩.৮ গড়ে ৬৯ রান তোলে ভারত, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্যানটারবেরির মাঠে অন্যতম সফল রান তাড়া করার রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হলো। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে স্যান্টনারের ৪ উইকেট এবং ফিলিপস-জ্যাকবসের ১১৬ রানের জুটিও শেষ রক্ষা করতে পারেনি।
এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে টিকতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। তবে ভারত যেভাবে সব পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে আনছে, তাতে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও কিউইদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।