/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজে হেরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া

সূত্র: Wisden (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

কেপ টাউনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে পরাজিত করে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ফলাফলের পর আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজে হেরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
•
ম্যাচের প্রভাব: এই জয়ে প্রোটিয়ারা ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
•
সামনে কী: নিউজিল্যান্ড টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই আরও জমে উঠেছে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। উইজডেন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে প্রোটিয়ারা। এই জয়ের সুবাদে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দুই নম্বর স্থানে উঠে এসেছে এবং তাদের পয়েন্ট জেতার শতকরা হার দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া দল নেমে গেছে তিন নম্বর অবস্থানে এবং তাদের পয়েন্ট শতকরা হার ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই হাইভোল্টেজ টেস্ট সিরিজে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে মরিয়া থাকলেও শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার অসাধারণ লড়াকু মানসিকতার কাছে পরাজিত হয়। ম্যাচটির শেষ দিনে দুই সেশনের মধ্যেই ২৮৭ রানের লক্ষ্য ডিফেন্ড করে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচটির নাটকীয়তার শুরু হয় প্রথম ইনিংসে অজি ব্যাটারদের দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী এবং মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা প্রথম ইনিংসে বেশ ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। জোশ ইংলিশ দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি হাঁকান। এছাড়া অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরুন গ্রিন এবং ম্যাট রেনশ যথাক্রমে দারুণ কিছু ফিফটি হাঁকিয়ে সফরকারীদের গুরুত্বপূর্ণ একশো রানের প্রথম ইনিংসের লিড এনে দেন। এর আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার মারকুস অ্যাকারম্যান মাত্র ৯৪ বলে ঝোড়ো ৯৫ রানের ইনিংস খেললেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার কারণে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। অজিদের হয়ে বল হাতে চমৎকার পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ছয় উইকেট শিকার করেন মিচেল স্টার্ক।

প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে এক অবিশ্বাস্য ও দুর্দান্ত লড়াইয়ে কামব্যাক করে। দলের এই বিপর্যয়কালীন সময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন রায়ান রিকেলটন এবং উইয়ান মুল্ডার। ব্যাটিং অর্ডারে ছয় এবং সাত নম্বরে নেমে এই দুই ব্যাটারই চমৎকার সেঞ্চুরি হাঁকান। তাদের এই জুটিতে ভর করেই দল শক্ত অবস্থানে পৌঁছায়। এই দুই ব্যাটারের ১৫৪ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচের শেষ দিনে একটি ডিফেন্ড করার মতো লক্ষ্য দাঁড় করাতে সাহায্য করে। এছাড়া মারকুস অ্যাকারম্যান এই ইনিংসেও একটি ফিফটি হাঁকিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই ম্যাচ নির্ধারণী পারফরম্যান্স উপহার দেন।

### বোলিং জাদু ও কেপ টাউনের রোমাঞ্চকর শেষ দিন

ম্যাচের পঞ্চম তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ছিল ২৮৭ রান। কিন্তু কেপ টাউনের পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের সামনে অজি ব্যাটাররা টিকতে পারেননি। বল হাতে প্রোটিয়া শিবিরের মূল নায়ক ছিলেন সাইমন হার্মার। তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ছয়টি উইকেট। শুধু তাই নয়, পুরো ম্যাচে তিনি মোট ১০টি উইকেট দখল করে অজি ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। যার ফলে ম্যাচের শেষ দিনের দুই সেশনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় এবং ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

ম্যাচটির প্রেক্ষাপট আরও জমজমাট হয়েছিল আগের দিনগুলোর পারফরম্যান্সের কারণে। ম্যাঠের খবর এর আগে জানিয়েছিল যে, কেপ টাউনে সিরিজের এই নির্ধারণী টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া চার উইকেটে ৩৩০ রান সংগ্রহ করেছিল এবং নিউল্যান্ডসে প্রথম ইনিংসে এক রানের লিড নিয়েছিল। ইনজুরি আক্রান্ত স্টিভ স্মিথের পরিবর্তে খেলতে নেমে জোশ ইংলিশ অপরাজিত ৮৫ রান করেছিলেন এবং অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে ১৪৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন। এছাড়া এটিও প্রকাশ পেয়েছিল যে, জোশ ইংলিশ ভাঙা আঙুল নিয়েই ব্যাট করেছিলেন যা তার ব্যাটিংয়ে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন।

চতুর্থ দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই সেঞ্চুরিয়ান রায়ান রিকেলটন এবং উইয়ান মুল্ডার দলের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের সেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদেই অস্ট্রেলিয়াকে শেষ দিনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হয়েছিল। উইজডেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হারের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে যেমনল ওলটপালট হয়েছে, তেমনি নিউজিল্যান্ড দলও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। প্রোটিয়ারা এই জয়ের সুবাদে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং অস্ট্রেলিয়া নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।

উইজডেন ক্রিকেট পোর্টালের নিয়মিত আপডেট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের লাইভ স্কোর, ম্যাচ স্ট্যাটস এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণ নিয়মিত অনুসরণ করতে পারেন। এই সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন জয় টেস্ট ক্রিকেটে তাদের আধিপত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। কেপ টাউনের এই রোমাঞ্চকর টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)