হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইডেন পার্কে স্বাগতিকদের কাছে হেরে গেছে ভারত। এটি এই সিরিজে ভারতের প্রথম পরাজয়। এর মাধ্যমে মেন ইন ব্লু দলের বিজয়রথ থামল। ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার স্বীকার করেছেন যে তার দল এখনো নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন মাঠের ভিন্ন ও অনন্য মাত্রার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না। তিনি আরও যোগ করেছেন যে এই সর্বশেষ পরাজয়টি তার বোলারদের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষার অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে, যারা এই ধরনের অদ্ভুত ও ভিন্ন মাত্রার সঙ্গে অপরিচিত।
সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচ জেতার পর, দর্শনার্থী দল চতুর্থ ম্যাচে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায়। অকল্যান্ডের এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন গ্লেন ফিলিপস। তিনি মাত্র ৪৯ বলে ১০৭ রানের একটি ধ্বংসাত্মক ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যা তার দলকে ২০ ওভারে ২৫৯ রান সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৯ রান তুলেছিল কিউইরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ওভারগুলোতে ৯ উইকেটে ১৭২ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং লক্ষ্য থেকে বেশ দূরেই আটকে থাকে।
শ্রেয়াস আয়ার উল্লেখ করেছেন যে ইডেন পার্কের মতো একটি মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা দলের খেলোয়াড়দের এই ধরনের ভেন্যু দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে সাহায্য করবে। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট স্ট্রেইট বাউন্ডারি বিশিষ্ট এই মাঠে খেলার পর দল পরবর্তী সময়ে এর সমাধান নিয়ে আসতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে আয়ার এই মন্তব্য করেন।
ম্যাচ শেষে আয়ার বলেন, আলোচনা শুধু এটিই ছিল যে আমরা জানতাম মাত্রাগুলো ঠিক এই রকমই হতে চলেছে এবং তাদের মধ্যে অনেকের জন্যই এই ধরনের মাঠে খেলা এটাই প্রথম ছিল। তাই এই ধরনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগে। তিনি আরও বলেন যে এটি অতটা সহজ নয়, আমি সেটা বুঝতে পারছি, কিন্তু প্রথম তিনটি ম্যাচে যেভাবে তারা নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করেছে তা ছিল দুর্দান্ত এবং হ্যাঁ, আমি মনে করি এটি মাত্র একটি শিক্ষার পর্যায়।
আয়ার আরও যোগ করেন যে পরবর্তী সময়ে যখন তারা এখানে আসবে, তখন সম্ভবত তাদের কাজ পরিচালনার বিষয়ে আরও ভালো ধারণা থাকবে। তাই এটি একটি দুর্দান্ত শিক্ষার পর্যায় এবং আশা করা যায় যে আমরা আগামী ম্যাচে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ফিরে আসব। এই সিরিজে মায়াঙ্ক যাদব ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন এবং তিনি তিনটি উইকেট শিকার করেন। তবে তিনি প্রতি ওভারে ১২ রান খরচ করেন এবং তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩/৪৮।
### বোলিং পারফরম্যান্স এবং টার্নিং পয়েন্ট
চলমান সিরিজের এই ম্যাচে একমাত্র আর্শদীপ সিং কিছুটা রান আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তার কোটার চার ওভারে মোট ৩৮ রান দেন। অন্যদিকে নীতিশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর প্যাটেল এবং নামন ধীর বেশ খরচে বোলিং করেন এবং এই তিনজন মিলে আট ওভারে মোট ১২৩ রান খরচ করেন। তাদের ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা চড়াও হন।
শ্রেয়াস আয়ার নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের তৃতীয় ওভারটিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মায়াঙ্ক যাদবের করা ওই ওভারের প্রথম চার বল থেকে ড্যারিল মিচেল মোট ২০ রান সংগ্রহ করেন এবং সেখান থেকেই নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মোমেন্টাম বা গতিপ্রকৃতি নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয়।
আয়ার ম্যাচ বিশ্লেষণ করে বলেন, শুরুতেই আমাদের বোলিংয়ে কিছুটা ঘাটতি ছিল। পাওয়ারপ্লেতে, বিশেষ করে তৃতীয় ওভারে, তারা সেখান থেকেই মোমেন্টাম বা গতি পেয়ে গিয়েছিল। একজন বা দুজন বোলার রান আটকাতে চেয়েছিল, তবে গ্লেন ফিলিপসের ইনিংসটি ছিল অসাধারণ। কিছু অভূতপূর্ব শট যা দেখতে সত্যি চমৎকার ছিল। তাই তাকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। পুরো সিরিজ জুড়ে তিনি ধারাবাহিক ছিলেন, তাই তার কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
### সমাপনী ও পরবর্তী পরিকল্পনা
ভারতীয় অধিনায়ক তার বক্তব্যে এই বলে শেষ করেন যে রবিবারে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাদের দল কীভাবে কাজ করবে তা তাদের এখনই খুঁজে বের করতে হবে। হ্যামিল্টনের ম্যাচটি একদিনের বিরতির পরেই অনুষ্ঠিত হবে।
আয়ার জোর দিয়ে বলেন যে আমি মনে করি আত্মমূল্যায়ন করা এবং আমরা কোথায় আসলে ঘুরে দাঁড়াতে পারি তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র একদিনের বিরতি নিয়ে হ্যামিল্টনে যাওয়ার আগে আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে আমরা সম্ভবত ড্রয়িং বোর্ডে ফিরে যেতে পারি এবং দেখতে পারি যে কীভাবে আমরা পরবর্তী ম্যাচে আমাদের সেরাটা দিয়ে বিশ্লেষণ ও তা কার্যকর করতে পারি।
হিন্দুস্থান টাইমস স্পোর্টস ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, ক্রীড়া জগতের বিস্তারিত আপডেট প্রদান করতে তাদের সংবাদকর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করে থাকেন। পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত ম্যাচ রিপোর্ট, প্রিভিউ, রিভিউ এবং বিশেষজ্ঞের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের সম্পাদকীয় দল সর্বদা তৎপর থাকে। এই সিরিজের সমাপনী ম্যাচে ভারত কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করে, এখন সেদিকেই সবার নজর থাকবে।