নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় সম্পন্ন করেছে ভারত। হ্যামিল্টনে ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয় পেলেও প্রথম তিন ম্যাচ জিতেই পাঁচ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যম ক্রিকট্র্যাকার-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ন্যূনতম প্রস্তুতি নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানোর পরও ভারতীয় দলের আগ্রাসী ও নির্মম ক্রিকেট খেলার মানসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। একই সঙ্গে তরুণ ও অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ সামলে ইতিবাচক নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের পারফরম্যান্সে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের প্রস্তুতির সময়সূচি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং। জাপানে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পর ভারত ৬ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে। এরপর ২০ অক্টোবর তারা নিউজিল্যান্ডে পৌঁছায় এবং ২১ অক্টোবর মাত্র একদিন অনুশীলনের সুযোগ পায়। ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। ক্রিকবাজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গৌতম গম্ভীর জানান, সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়া ও অপরিচিত কন্ডিশনে এত কম সময়ে এসেও দলের তরুণ ক্রিকেটাররা যেভাবে খেলায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই ভারত তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা প্রদর্শন করে ২২৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয়। ওই ম্যাচে শ্রেয়াস আইয়ার ৪২ বলে ২৮ রান এবং নামান ধীর ১৫ বলে বিধ্বংসী ৪২ রান করেন। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সফরকারীরা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ৭০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর তিলক বর্মা, নামান ধীর এবং নিতিশ রেড্ডির কার্যকারী ব্যাটিংয়ে ১৯৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারে পেরিয়ে যায় দল। মাঠের খবর-এর গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রাইস্টচার্চের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তিলক বর্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডির অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করেই ১১২/৬ অবস্থান থেকে চার উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছিল ভারত।
গম্ভীরের মতে, স্বল্প সময়ে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে প্রথম তিন ম্যাচে এমন একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করাই ছিল দলের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিউজিল্যান্ডের মতো অভিজ্ঞ টি-টোয়েন্টি দলের বিপক্ষে তাদের নিজেদের মাঠে মাত্র একদিনের অনুশীলনে নেমে এমন পারফরম্যান্স করা সহজ নয়। দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ নতুন আবহাওয়া, ভিন্ন গ্রাউন্ড ডাইমেনশন এবং চরম চাপের মুখে তরুণ ক্রিকেটাররা যেভাবে পারফর্ম করেছেন, তাতে তাদের নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই প্রধান কোচ।
### শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
বিশ্বকাপ জয় এবং টানা দুই বছর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হারার পর ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান শ্রেয়াস আইয়ার। ক্রিকট্র্যাকার-এর তথ্য অনুযায়ী, আইয়ারের অধীনে ভারতের শুরুটা আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে হলেও পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করে দল। এরপর জাপানে এশিয়ান গেমসে সোনা জয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২-২ সমতায় সিরিজ শেষ করার পর এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় অর্জন করল ভারত।
তরুণ ও অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে টানা সাফল্য ধরে রাখার বিষয়ে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গম্ভীর। গম্ভীর মন্তব্য করেন, যখন আইয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি বিশ্বজয়ী এবং দুই বছর ধরে কোনো সিরিজ না হারা একটি সফল দল হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নতুন দল গঠনে সফর চলাকালীন তরুণদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বোলিং ইউনিটে অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও শ্রেয়াস অধিনায়ক হিসেবে অসাধারণ ও বিস্ময়কর কাজ করেছেন বলে নিশ্চিত করেন হেড কোচ।
মাঠের খবর-এর পূর্ববর্তী ১ নভেম্বর ২০২৬-এর খবরে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিন ফরম্যাটে জাতীয় দল পরিচালনার মানসিক চাপ ও ক্লান্তি সত্ত্বেও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বের শক্তিতে আস্থাশীল গম্ভীর। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যৌথ প্রচেষ্টার বার্তা দিয়ে গম্ভীর লিখেছিলেন, "দল হিসেবে গড়ে উঠেছি, দল হিসেবেই জিতেছি।"
বর্তমান সাফল্য নিয়ে ভাবার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন গম্ভীর। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সাইকেলকে সামনে রেখে সফরে থাকাকালীনই তরুণ ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা ও স্কিল তৈরি করতে চায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা ও নির্মম ক্রিকেট খেলার মানসিকতা আগামীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন কন্ডিশনে তরুণ খেলোয়াড়দের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।