নিউজিল্যান্ডের মাঠগুলোর ছোট সীমানা ফিল্ডারদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা তৈরি করে, যেখানে বলের পেছনে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় অনেকটাই কমে যায়। ভারতীয় ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষ জানিয়েছেন, আধুনিক ক্রিকেটের এই চ্যালেঞ্জের মুখেও বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ তারকারা সফল হচ্ছেন তাদের বছরের পর বছর গড়ে ওঠা ‘মাসল মেমোরি’ বা পেশির স্মৃতির ওপর ভর করে। স্পোর্টস্টার-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়েলিংটনে শনিবার দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলের ফিল্ডিং প্রস্তুতি এবং ট্যাকটিক্যাল দিক নিয়ে কথা বলেন ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ।
গত আগস্টে দীর্ঘদিনের ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের স্থলাভিষিক্ত হন শুভদীপ ঘোষ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের শারীরিক স্থিরতা এবং বলের গতিপথ সঠিকভাবে অনুধাবন করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। নিউজিল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অকল্যান্ডে দাপুটে জয় পেয়ে ভারত বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল সফরকারীরা। অকল্যান্ডের সেই বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪৩ রানের পরিবর্তিত লক্ষ্য ২২.৪ ওভারে টপকে পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নেয়। শুভদীপ ঘোষ জানান, প্রথম ওয়ানডেতে ফিল্ডিং বিভাগ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে এবং খেলোয়াড়দের মাঝে চমৎকার তীব্রতা ও বোঝাপড়া দেখা গেছে।
প্রথম ম্যাচে দল বেশ কিছু ভালো ক্যাচ নেওয়া ছাড়াও গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে দারুণ মান বজায় রেখেছিল। তবে ফিল্ডিং কোচের মতে, ক্যাচ মিস খেলারই স্বাভাবিক একটি অংশ। অকল্যান্ডের ম্যাচে বিরাট কোহলির নেওয়া অনবদ্য একটি ক্যাচ এবং রোহিত শর্মার ক্ষিপ্র রান আউটের প্রসঙ্গ টেনে শুভদীপ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই ফিল্ডিং পজিশনে দাঁড়িয়ে ফিল্ডিং করার দীর্ঘস্থায়ী অভিজ্ঞতা এই দুই তারকাকে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে নিতে সহায়তা করে। ফিল্ডিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বলের গতি আগাম আঁচ করা বা অ্যান্টিসিপেশন, যা দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
### ছোট সীমানার চাপ ও আধুনিক অনুশীলনের কৌশল
নিউজিল্যান্ডের ভেন্যুগুলোর ছোট সীমানা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় কোচ ব্যাখ্যা করেন যে, এমন মাঠে কার্যত কোনো ‘আউটফিল্ডার’ থাকে না; সীমানা খুব কাছাকাছি থাকায় প্রতিটি ফিল্ডারকেই ‘ইনফিল্ডার’-এর মতো প্রস্তুত থাকতে হয়। সেখানে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় এতটাই সংক্ষিপ্ত যে বল ব্যাটে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই ফিল্ডারকে প্রতিক্রিয়াশীল হতে হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বলের সঠিক গতিপথ বিচার করা প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নিতে বলা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া দেখানোর এই স্বল্প সময়কে জয় করতে ভারতীয় দলের অনুশীলনেও নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। শুভদীপ ঘোষ জানান, খেলোয়াড়দের রিঅ্যাকশন টাইম উন্নত করতে ফিল্ডিং সেশনে সাধারণ বলের চেয়ে কিছুটা হালকা বল ব্যবহার করা হচ্ছে। হালকা বল বাতাসে দ্রুত সরে যায় এবং ফিল্ডারকে নিজের শরীরের পূর্ণ ভারসাম্য বা স্টেবিলিটি বজায় রেখে বল তালুবন্দী করতে বাধ্য করে। অনুশীলনের এই বিশেষ ড্রিলগুলো ম্যাচ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে। মাঠের খবর-এর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, সিরিজের প্রথম ম্যাচে অকল্যান্ডে বল হাতে পেসার আর্শদীপ সিং চারটি উইকেট শিকার করেছিলেন এবং ব্যাট হাতে ৫১ বলে ৭৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন কোহলি। ফিল্ডিং কোচের মতে, কোহলি কভার ও পয়েন্ট অঞ্চলে লাখ লাখ বার ফিল্ডিং করার কারণে বলের উচ্চতা, গতিপথ ও আঘাতের প্রভাব অন্যদের চেয়ে আগেই নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারেন।
### ব্যস্ত সূচি ও একাদশের সমীকরণ
নিউজিল্যান্ডের চলমান দীর্ঘ এই সফরে খেলোয়াড়দের শারীরিক ধকল প্রসঙ্গে শুভদীপ ঘোষ জানান, টানা ক্রিকেটের এই সূচি খেলোয়াড়দের জন্য শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হলেও এটি মূলত মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। দলের প্রত্যেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন এবং তারা ভালোভাবেই জানেন কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষে চলতি মাসের শেষভাগে কিউইদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও অংশ নেবে ভারত।
এদিকে শনিবারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতীয় দলের মূল একাদশে তারকা পেসার মোহাম্মদ সিরাজ খেলবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি ফিল্ডিং কোচ। তিনি জানান, টিম ম্যানেজমেন্ট পরিস্থিতি বিচার করে চূড়ান্ত একাদশ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ওয়েলিংটনে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারত তাদের জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সিরিজে ব্যবধান ২-০ করতে মাঠে নামবে, যেখানে ছোট সীমানায় ফিল্ডিং বিভাগের প্রতিক্রিয়া ও পারফরম্যান্স ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।