/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

ওয়েলিংটনে রোহিত শর্মার পরিসংখ্যান: ভারতের অভিজ্ঞ ওপেনারের বড় এক দুশ্চিন্তা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ওয়েলিংটন রিজিওনাল স্টেডিয়ামে মাঠে নামার আগে রোহিত শর্মার অতীতের পারফরম্যান্স কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। এই ভেন্যুতে খেলা দুই ওয়ানডে ম্যাচে ভারতীয় এই ওপেনারের সংগ্রহ মাত্র ৬ রান।
ওয়েলিংটনে রোহিত শর্মার পরিসংখ্যান: ভারতের অভিজ্ঞ ওপেনারের বড় এক দুশ্চিন্তা
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার হতাশাজনক পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোহিতের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলের ওপেনিং জুটিতে প্রভাব ফেলবে।
•
সামনে কী: ওয়েলিংটনের মাঠে নিজের দুর্বলতম রেকর্ড সংশোধনের সুযোগ পাবেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার।

আসন্ন ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ওয়েলিংটন রিজিওনাল স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে ভারত। তবে এই ভেন্যুটি ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মার জন্য এক অস্বস্তিকর স্মৃতি বহন করে চলেছে। ক্রিকট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এই মাঠে খেলা দুটি ওয়ানডে ম্যাচে রোহিত শর্মা মোটে ৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যেখানে তার গড় মাত্র ৩.০০। মাঠে নামার আগে এই পরিসংখ্যানটি তার বর্তমান ফর্ম এবং সামগ্রিক ক্যারিয়ারের পাশে এক ব্যতিক্রমী ও দুর্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

ওয়েলিংটন রিজিওনাল স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মার প্রথম উপস্থিতি ঘটেছিল ২০১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি। সেদিন কাইল মিলস তাকে মাত্র ৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছিলেন, যেখানে বল খেলেছিলেন ১৩টি। সেই ম্যাচে ৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। বিরাট কোহলির ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি ছিল সেই বড় পরাজয়ের মাঝে একমাত্র উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। দীর্ঘ বছর পর ওয়েলিংটনে খেলতে নামা রোহিতের জন্য সেই পিচ ও কন্ডিশন কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল।

একই মাঠে রোহিতের দ্বিতীয় ম্যাচটি আসে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, যা ছিল পাঁচ ম্যাচ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে। সেদিন ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব করছিলেন রোহিত শর্মা। তবে ট্র্যাজেডি যেন তার পিছু ছাড়ছিল না; ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি টিকতে পেরেছিলেন মাত্র ১৬ বল এবং সংগ্রহ করেছিলেন মাত্র ২ রান। ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল ভারত, যেখানে দলীয় রান ১০ ওভারের মধ্যে ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়েছিল।

সেই ম্যাচে অবশ্য দলের হাল ধরেছিলেন আম্বাতি রাইডু ও হার্দিক পান্ডিয়া। আম্বাতি রাইডুর ৯০ এবং হার্দিক পান্ডিয়ার অবদান রাখা ৪৫ রানের চমৎকার একটি জুটি ভারতকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল ২৫২ রানের লড়াকু সংগ্রহে। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডকে ২১৭ রানে অলআউট করে ভারত ৩৫ রানের জয় তুলে নেয় এবং ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয়। ব্যক্তিগতভাবে রোহিতের ব্যাট কথা না বললেও দলগতভাবে সেই ম্যাচটি ছিল ভারতের জন্য দারুণ এক সফলতার গল্প।

চলতি ২০২৬ সিরিজের প্রসঙ্গ টানলে দেখা যায়, ওয়েলিংটনের বাইরে বর্তমান সিরিজেও রোহিতের শুরুটা সুখের হয়নি। এর আগে ইডেন পার্কে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি ছয় বলে শূন্য রানে আউট হন। যদিও সেই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ভারত সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। আমাদের মাঠের খবরের আর্কাইভ অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় যে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, যেখানে ম্যাচের আগে পিচ পুরোপুরি ঢাকা ছিল এবং বৃষ্টি খেলা কিছুটা বিলম্বিত করেছিল।

নিউজিল্যান্ডের সামগ্রিক কন্ডিশনে রোহিতের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ওয়েলিংটনের এই খরা একেবারেই আলাদা একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলা ১৪টি ওয়ানডে ম্যাচে রোহিত মোট ৪৩৭ রান করেছেন, যেখানে তার গড় ৩৬.৪১ এবং রয়েছে ৪টি অর্ধশতক। তবে অবাক করার বিষয় হলো, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিনি একটিও সেঞ্চুরি করতে পারেননি। কিউইদের বিপক্ষে সব ভেন্যু মিলিয়ে তার ওয়ানডে রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ, যেখানে ৩২ ইনিংসে ১ হাজার ১৩৪ রান করেছেন ৩৬.৬ গড়ে, সাথে রয়েছে ২টি শতক ও ৬টি অর্ধশতক।

### ওয়েলিংটনের মাঠের চরিত্র ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ

মাঠের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ওয়েলিংটন রিজিওনাল স্টেডিয়ামের স্কয়ার বাউন্ডারিগুলো বেশ ছোট, অন্যদিকে সোজা বাউন্ডারি বেশ দীর্ঘ। এই অদ্ভুত মাঠের নকশা ব্যাটসম্যানদের শট সিলেকশন এবং ব্যাটিং কৌশলে সরাসরি প্রভাব ফেলে। পিচের এই বিশেষ মাত্রার কারণে উইকেটের স্কয়ারে রান তোলা তুলনামূলক সহজ হলেও, সোজা ড্রাইভিং করতে গেলে অতিরিক্ত শক্তি ও নিখুঁত টাইমিংয়ের প্রয়োজন হয়। মাঠের এই অনন্য জ্যামিতি প্রতিপক্ষের বোলারদের বিরুদ্ধে কৌশল সাজাতে ব্যাটারদের বেশ পরীক্ষা নেয়।

মাঠের ফিল্ডিং ও কৌশলগত দিক নিয়ে মাটির খবরের আর্কাইভ থেকে জানা যায়, ৬ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন যে নিউজিল্যান্ডের ছোট বাউন্ডারিগুলোর কারণে ফিল্ডারদের রিঅ্যাকশন টাইম বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় অনেক কমে যায়। তবে শুভদীপ ঘোষ এও উল্লেখ করেছিলেন যে, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া তারকারা বছরের পর বছর ধরে স্পেশালিস্ট ফিল্ডিং করে যে মাসল মেমোরি বা পেশীর স্মৃতি তৈরি করেছেন, তা দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেন।

এর বাইরে মোহাম্মদ কাইফের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুসারে, ভারতীয় দলের সাবেক এই ব্যাটার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বর্তমান ওডিআই সিরিজে বিরাট কোহলির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং জোড়া সেঞ্চুরির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছেন। কাইফ কোহলির চমৎকার সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ব্ল্যাকক্যাপসদের বিপক্ষে তার শক্তিশালী ঐতিহাসিক রেকর্ডের কথা তুলে ধরেছিলেন। তবে রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে ওয়েলিংটনের এই পরিসংখ্যানটি ব্যতিক্রম হয়েই থেকে গেছে।

রোহিত শর্মার জন্য, যিনি এই ভেন্যুতে দুবারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন, আগামী ৭ নভেম্বরের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি একটি নতুন সুযোগ নিয়ে আসছে। নিউজিল্যান্ডের যেকোনো একক মাঠে তার বর্তমান দুর্বলতম রেকর্ডটি শোধরানোর এক মোক্ষম মঞ্চ হতে পারে এই ম্যাচ। ওয়েলিংটনের চেনা পেস ও বাউন্স সামলে রোহিত কীভাবে তার স্বাভাবিক আগ্রাসী রূপ ফিরিয়ে আনেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দলের সামগ্রিক পরিকল্পনায় রোহিতের ওয়েলিংটন খরা কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সেঞ্চুরির আক্ষেপ ঘোচানোর পাশাপাশি এই ভেন্যুর কুখ্যাত পরিসংখ্যান বদলে দিতে পারলে তা শুধু রোহিতের ব্যক্তিগত অর্জনই বাড়াবে না, বরং ভারতের সিরিজ জয় নিশ্চিত করার পথও সুগম করবে। ৭ নভেম্বরের এই ম্যাচটি তাই রোহিত শর্মার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি পরিসংখ্যানগত লড়াই হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)