/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

যশ ধুলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে দিল্লির ড্র, সার্ভিসেসের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের লিডেই সন্তুষ্টি

রণজি ট্রফির এলিট গ্রুপ সির ম্যাচে সার্ভিসেসের বিপক্ষে ড্র করেছে দিল্লি। দ্বিতীয় ইনিংসে যশ ধুলের চমৎকার সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদে তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা।
যশ ধুলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে দিল্লির ড্র, সার্ভিসেসের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের লিডেই সন্তুষ্টি
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: যশ ধুলের সেঞ্চুরিতে সার্ভিসেসের বিপক্ষে ড্র করেছে দিল্লি।
•
ম্যাচের প্রভাব: প্রথম ইনিংসের সুবাদে তিন পয়েন্ট পেয়েছে দিল্লি।
•
সামনে কী: দলগুলো এখন সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে অংশ নেবে।

হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রনজি ট্রফির এলিট গ্রুপ সির ম্যাচে সার্ভিসেসের বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দিল্লি। পালমের এয়ার ফোর্স কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন যশ ধুল। চলতি রনজি ট্রফি মৌসুমে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি, যা দলকে পরাজয়ের মুখ থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ম্যাচের চতুর্থ দিনে সার্ভিসেস দল কোনো জোরেশোরে ফল অর্জনের চেষ্টা না করে ড্রয়ের দিকে মনোযোগ দেয়, যার ফলে ম্যাচটি ড্রয়ের মাধ্যমেই শেষ হয়।

প্রথম ইনিংসে সার্ভিসেস দল ৩৯৭ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল, যার সুবাদে তারা দিল্লির সামনে ৩২০ রানের এক বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়। সার্ভিসেসের প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও রাজত পালিওয়াল ও মোহিত আহলাওয়াতের ব্যাট থেকে আসে চমৎকার রান। অধিনায়ক রাজত পালিওয়াল এই ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি গড়েন। তিনি প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ১১৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া মোহিত আহলাওয়াত আগের দিন ১৪২ রান করে অপরাজিত ছিলেন এবং জয়ন্ত গোয়াত করেন ৩১ রান।

দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী এবং বিস্ফোরক। এই দলে প্রিয়াংশ আর্য, আয়ুষ বাদোনি, যশ ধুল এবং আয়ুষ দাসেজার মতো প্রতিভাবান ব্যাটাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ফলে দিল্লির ইনিংসের শুরুটা কীভাবে হয়, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। কিন্তু রান তাড়ায় নেমে দিল্লির শুরুটা মোটেও সহজ হয়নি। সার্ভিসেসের বোলাররা শুরু থেকেই দিল্লির ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

চায়ের বিরতির ঠিক আগে নীতিন তানওয়ার দিল্লির ব্যাটার আয়ুষ দাসেজাকে মাত্র ১৪ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। এর ফলে দিল্লি দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতি। তবে দলের এই বিপদের মুখেও যশ ধুল এক প্রান্ত আগলে রেখে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে দিল্লির বিপদ কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সুমিত মাথুর দ্বিতীয় ইনিংসে আর নিজের আগের পারফরম্যান্স পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ পাননি এবং বেশ দ্রুত আউট হয়ে যান।

### যশ ধুলের দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি ও ড্রয়ের সমাপ্তি

পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে যশ ধুল অবশেষে তার স্বভাবসুলভ ও দারুণ একটি ইনিংস উপহার দেন। তিনি শেষ পর্যন্ত ১০৪ বলে ১০৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, যার মধ্যে ১১টি চার ও দুটি ছক্কার মার ছিল। তিনি মাত্র ১০২ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। চলতি রনজি ট্রফি মৌসুমে এটি ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। যশ ধুলের এই সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার পরেই দুই দলের অধিনায়ক খেলা ড্র করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তারা একে অপরের সাথে হাত মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন।

নির্ধারিত সময়ে দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় চার উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করার মাধ্যমে। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় দিল্লি প্রথম ইনিংসের রান ব্যবধানের সুবাদে তিন পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়। যদিও যশ ধুলের এই সেঞ্চুরি দলের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক ছিল, তবুও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিচারে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার জন্য দিল্লি দলকে এখনও অনেক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।

ম্যাচ শেষে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রনজি ট্রফির বর্তমান রাউন্ডের পর টুর্নামেন্টটি কিছুটা বিরতিতে যাচ্ছে। দলগুলো এবার তাদের মনোযোগ সরিয়ে নেবে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির দিকে। রনজি ট্রফির স্থগিত হওয়া ম্যাচ ও পরবর্তী পর্বগুলো আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে আবার নতুন করে শুরু হবে, যেখানে দলগুলো নিজেদের অবস্থান আরও ভালো করার সুযোগ পাবে।

হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সমীন রাজ্জাক এই ম্যাচটির চমৎকার কভার করেছেন। ক্রিকেট এবং কম্বাট স্পোর্টসের ওপর নিয়মিত লেখালেখি করা এই সাংবাদিক তার বর্ণনামূলক লেখার জন্য পরিচিত। এর আগে তিনি স্ক্রল পোর্টালে তিন বছর কাজ করেছেন এবং আইসিসি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ আইপিএল কভার করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রনজি ট্রফির এই ম্যাচের প্রতিবেদনটিতে তিনি খেলার পেছনের মানুষ ও আবেগকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

দিল্লি দল তাদের প্রথম ইনিংসের লিডের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেলেও সার্ভিসেস দলের ব্যাটারদের রান বন্যা ও প্রতিরোধ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পালিওয়ালের জোড়া সেঞ্চুরি এবং আহলাওয়াতের বড় স্কোর ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত যশ ধুলের দৃঢ়তা দিল্লিকে বড় পরাজয় থেকে রক্ষা করে।

গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের উন্নতির জন্য দিল্লিকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও ধারাবাহিক হতে হবে। রনজি ট্রফি জানুয়ারিতে পুনরায় শুরু হওয়ার আগে দলগুলো সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, যা ঘরোয়া ক্রিকেটে আরেকটি বড় রোমাঞ্চের জন্ম দেবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)