অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় মাঠে নামবে ভারত। টি-টোয়েন্টি সিরিজের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে দুই দল এবার মুখোমুখি হচ্ছে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে, যেখানে ভারতীয় ব্যাটিং আক্রমণের মূল স্তম্ভ হিসেবে নজর থাকবে বিরাট কোহলির ওপর। ব্ল্যাকক্যাপসদের বিরুদ্ধে কোহলির অতীতের দুর্দান্ত রেকর্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ব্যাটিং ফরম নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে।
ভারতীয় ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকট্যাকার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাবেক ভারতীয় ব্যাটার মোহাম্মদ কাইফ বিশ্বাস করেন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সিরিজে একাধিক সেঞ্চুরি উপহার দেবেন কোহলি। নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বিশ্লেষণে কাইফ ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অন্ততঃ দুটি শতক হাঁকাবেন এই তারকা ব্যাটার। সাম্প্রতিক সময়ে কোহলির সেঞ্চুরি পাওয়ার হার এবং কঠিন পরিস্থিতিতে তার সেরাটা দেওয়ার মানসিকতাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কাইফ।
নিজের বক্তব্যে কাইফ কোহলির নিয়মিত বিরতিতে বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমি মনে করি পাঁচ ওয়ানডেতে তার কাছ থেকে দুটি সেঞ্চুরি আশা করা যায়। কারণ তার সাম্প্রতিক ফর্ম বলছে, প্রতি তিন বা চার ইনিংসের পরপরই একটি সেঞ্চুরি আসছে।" কাইফের মতে, যেভাবে কোহলি তার ইনিংস সাজাচ্ছেন এবং খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন, তাতে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করা তার জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
### কিউইদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সাফল্য এবং চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে কোহলির দাপট
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোহলির রেকর্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কাইফ অতীত মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, "আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে ও খুব পছন্দ করে; ওর রেকর্ড দুর্দান্ত। আমাদের ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের কথা মনে আছে, ওর ৫০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি... নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই খেলোয়াড় খেলতে ভালোবাসে।" সাবেক এই ক্রিকেটার জোর দিয়ে বলেন যে, নিউজিল্যান্ডের উচ্চমানের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে কোহলি সর্বদা নিজের সেরা রূপটি তুলে ধরেন।
বিদেশি কন্ডিশন এবং কঠিন বোলিং আক্রমণের মুখে কোহলির ব্যাটিং মানসিকতার প্রশংসা করে কাইফ আরও যোগ করেন, "বিশেষ করে যখন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থাকে এবং অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো ভালো বোলিং দল থাকে, তখন আপনি বিরাট কোহলিকে বাদ দিতে পারেন না। সে তার খেলাকে আরও এক ধাপ ওপরে তুলে নেয়। তাই পাঁচ ওয়ানডেতে আমি তার কাছ থেকে নিশ্চিতভাবেই দুটি সেঞ্চুরি আশা করছি।"
পরিসংখ্যানও কাইফের এই আস্থার যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ফরম্যাটে কোহলির গড় ও রানের সংখ্যা অবিশ্বাস্য। কিউইদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৬টি ওয়ানডে খেলে ৫৭.৪৮ গড়ে ১,৮৯৭ রান সংগ্রহ করেছেন কোহলি। ঘরের মাঠ এবং প্রতিপক্ষের মাঠ উভয় কন্ডিশনেই তিনি সমানভাবে সফল হয়েছেন, যেখানে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার নামের পাশে রয়েছে ৭টি সেঞ্চুরি এবং ১০টি হাফ-সেঞ্চুরি।
এমনকি ২০২৬ সালের শুরুতেও ব্ল্যাকক্যাপসদের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন কোহলি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে কোহলি মোটে ২৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সেই সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৮ জানুয়ারি ইন্দোরে ১২৪ রানের বিধ্বংসী একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই ইনিংসটিই প্রমাণ করেছিল নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে শাসন করার ক্ষমতা তার কতটা প্রবল।
### সাম্প্রতিক ফর্ম, দলের সমীকরণ এবং সামনের চ্যালেঞ্জ
কোহলির সার্বিক ওয়ানডে পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় কেন তাকে এই ফরম্যাটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩১৭টি ম্যাচ খেলে ৫৮.৭৮ অবিশ্বাস্য গড়ে ১৫,১০৯ রান করেছেন তিনি। একই সাথে ওয়ানডে ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ৫৫টি সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডও ধারণ করছেন কোহলি। যেকোনো কন্ডিশনে এবং যেকোনো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান সংগ্রাহক হিসেবে তার এই ধারাবাহিকতা অনন্য।
আসন্ন এই ওয়ানডে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দলের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর। 'মাঠের খবর'-এর গত ১ নভেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরে গেলেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় উদযাপিত হয়। সে সময় হেড কোচ গৌতম গম্ভীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছিলেন। এর আগে ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ইডেন পার্কে সিরিজের প্রথম পরাজয়ের পর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার স্বীকার করেছিলেন যে দলের ক্রিকেটাররা নতুন মাঠের মাত্রা বা গ্রাউন্ড ডাইমেনশনের সাথে মানিয়ে নিতে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নামার আগে নিউজিল্যান্ডের বোলিং বিভাগেও কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর 'মাঠের খবর'-এর সংবাদ অনুযায়ী, ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের কথা বিবেচনা করে এবং পেসারদের ওয়ার্কলোড সামলাতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ তিন ম্যাচ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল ফাস্ট বোলার ম্যাট হেনরিকে। ৪ নভেম্বর ইডেন পার্কে শুরু হতে যাওয়া প্রথম ওয়ানডে দিয়ে দুই দলই পাঁচ ম্যাচের দীর্ঘ সিরিজে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে মাঠে নামবে।