### প্রোটিয়াদের কাছে হারের পর শান্ত থাকার আহ্বান ও দলের পাশে দাঁড়ালেন ম্যাকডোনাল্ড
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় হতাশা প্রকাশ করলেও প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড সমর্থকদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং তীব্র সমালোচনার মুখে অজি স্কোয়াডের ওপর নিজের পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতীয় ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টার (দ্য হিন্দু) ক্রিকেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের চূড়ান্ত দিনে ২৮৮ রানের সমীকরণ তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া দল মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার এই বিপর্যয় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট অঙ্গনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং দল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ, নির্বাচক মণ্ডলী ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কেপটাউনের এই হার পাঁচ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় পরাজয়। এই ব্যর্থতার কারণে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারিয়েছে অজিরা, যা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। বয়সে বড় স্কোয়াডে কীভাবে দ্রুত ও কার্যকর পরিবর্তন আনা যায়, সেই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে নির্বাচক ও কোচিং স্টাফরা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ম্যাকডোনাল্ড তাড়াহুড়ো করে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ধারণা নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, এই দলে বিশ্বমানের এমন কিছু ক্রিকেটার রয়েছেন যাদের ইতোমধ্যেই কিংবদন্তি হিসেবে গণ্য করা হয় কিংবা ভবিষ্যতে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে কিংবদন্তির খেতাব পাবেন। তাই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তরুণদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের অবদান ও সামর্থ্যকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার ওপর জোর দেন তিনি।
সফরজুড়ে টপ অর্ডার ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনের অফ-ফর্ম ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার পুরো সিরিজে ২১.৮৩ গড়ে মোট ১৩১ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হন। ম্যাকডোনাল্ড স্বীকার করেছেন যে, অভ্যন্তরীণ শেফিল্ড শিল্ডের প্রতিযোগিতায় ফিরে গিয়ে প্রতিবারই সেরা পারফর্ম করলেও, এই সফরে পাওয়া সুযোগের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে পারেননি লাবুশেন। তবে দল সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে টপ অর্ডারের সমীকরণ পুনর্মূল্যায়ন করবে জানালেও লাবুশেনের জন্য টেস্ট দলের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি অজি কোচ।
দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ৩৭ বছর বয়সী স্টিভ স্মিথের শারীরিক সমস্যাও দল পরিচালনাকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রথম দুই টেস্টে মোট ৮৩ রান করার পর ঘাড়ে চোটের কারণে নিউল্যান্ডসের নির্ণায়ক শেষ টেস্টে মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হন তিনি। অবশ্য এই আঘাত স্মিথের অবসর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পার্থে অনুষ্ঠেয় প্রথম টেস্টেই স্মিথকে মাঠে পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
### ইতিবাচক দিক, স্পিন বিতর্ক এবং ভবিষ্যতের সমীকরণ
সিরিজের চূড়ান্ত ফলাফল হতাশাজনক হলেও ব্যাটিং অর্ডারে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন অস্ট্রেলীয় কোচ। ইনজুরি কাটিয়ে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের সফল প্রত্যাবর্তন এবং স্মিথের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া জশ ইংলিসের অনবদ্য সেঞ্চুরিকে তিনি বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। মাঠের খবর-এর গত ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, কেপটাউন টেস্টে স্মিথের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইংলিস দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। তিনি অ্যালেক্স কেয়ারির সাথে ১৪৫ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেন, যার সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ৩৩০ রান তুলে ১ রানের প্রথম ইনিংস লিড নেয়।
পরের দিন অর্থাৎ ৩০ অক্টোবরের মাঠের খবর-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইংলিস নিজের সেই ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করে ১০২ রান করেন। এই ঐতিহাসিক শতকের মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—তিনটি সংস্করণেই সেঞ্চুরি করার এক অনন্য রেকর্ড গড়ে তোলেন। এছাড়া ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছিল কীভাবে ইংলিসের সেঞ্চুরি এবং মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪০ রানে ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল অজিরা। তবে শেষ দিনে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়।
অন্যদিকে বোলিং বিভাগে ৩৮ বছর বয়সী স্পিনার নাথান লায়ন খেলেছেন দুটি টেস্ট, যেখানে তিনি ৬টি উইকেট শিকার করেন। তাঁর পারফরম্যান্সের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকান অফ-স্পিনার সাইমন হারমারের তুলনা করা হচ্ছে, যিনি গোটা সিরিজে ১৪টি উইকেট নিয়ে নিউল্যান্ডস টেস্টের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখেন। তবে লায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই বড় কোনো পর্যালোচনার অবকাশ নেই বলে জানান ম্যাকডোনাল্ড। শেফিল্ড শিল্ডে খেলে লায়ন পার্থ টেস্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদেশের মাটিতে বিচিত্র কন্ডিশনে খেলার কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে ম্যাকডোনাল্ড অকপটে মেনে নেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অজি দল তাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোকেই একজন ক্রিকেটারের মূল মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় এবং সমর্থকদের উচ্চাশার বিষয়টি ড্রেসিংরুম উপলব্ধি করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামনে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কঠিন সময়সূচি। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে চার টেস্টের সিরিজ খেলবে তারা, যার পরপরই পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারত সফর করবে ব্যাগি গ্রিনরা। ম্যাকডোনাল্ড স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আবেগপ্রবণ না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই আসন্ন সিরিজগুলোর জন্য দল প্রস্তুত করা হবে।