/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

শেষ বলের স্নায়ুচাপের নাটকে হোবার্টকে হারিয়ে রেনেগেডসের জয়

উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগ ২০২৬-২৭-এর নবম ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনসকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে মেলবোর্ন রেনেগেডস। হ্যালি ম্যাথিউসের দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ১৯.৫ ওভারের শেষ বলে ১৫৫ রানের লক্ষ্য অর্জন করে জয় নিশ্চিত করে তারা।
শেষ বলের স্নায়ুচাপের নাটকে হোবার্টকে হারিয়ে রেনেগেডসের জয়
প্রতীকী ছবি • Unsplash
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: ডব্লিউবিবিএল ২০২৬-২৭-এর নবম ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনসকে ১৯.৫ ওভারে শেষ বলের নাটকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে মেলবোর্ন রেনেগেডস।
•
ম্যাচের প্রভাব: ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হ্যালি ম্যাথিউসের ৫০+ ও কোর্টনি ওয়েবের ২৯ রানে ভর করে জয় পায় রেনেগেডস; সোফি মলিনিউয়ের ৪/২২ সত্ত্বেও হারতে হয় হোবার্টকে।
•
সামনে কী: আক্রমণাত্মক ফিফটি ও শেষ বলের জয়ে টুর্নামেন্টে ছন্দ ফিরে পেল রেনেগেডস, যেখানে আসরে এখন পর্যন্ত সিডনি থান্ডার দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় পেয়ে শীর্ষে রয়েছে।

উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগের (ডব্লিউবিবিএল) ২০২৬-২৭ মৌসুমের নবম ম্যাচে এক টানটান উত্তেজনার শেষ বলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হোবার্ট হারিকেনস উইমেনকে ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে মেলবোর্ন রেনেগেডস উইমেন। ভারতীয় ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম ক্রিকট্র্যাকারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর হোবার্টের মাঠে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচে ১৫৫ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.৫ ওভারের শেষ বলে চার উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় রেনেগেডস। ইনিংসের শেষ ওভারে জয়ের জন্য কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি হয়েও ঠাণ্ডা মাথায় ৬ উইকেটে ১৫৫ রান তুলে মাঠ ছাড়ে অতিথি দলটি।

এর আগে টস-পরবর্তী প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে হোবার্ট হারিকেনস উইমেন নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৪ রানের একটি শক্ত পুঁজি দাঁড় করায়। ম্যাচের শুরুতে মেলবোর্ন রেনেগেডসের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে পড়ে হোবার্টের ব্যাটাররা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রান তোলা শুরু করেছিলেন। ম্যাচের সূচনাতেই তারা মারাত্মক চাপে পড়ে এবং পাওয়ারপ্লের প্রথম চার ওভারের মধ্যে মাত্র ২০ রান সংগ্রহ করতেই হারিয়ে ফেলে ২টি মূল্যবান উইকেট। পাওয়ারপ্লের এই শ্লথ গতি এবং দ্রুত উইকেট পতন হোবার্টকে প্রাথমিক ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

তবে শুরুর এই ধাক্কা সামলে নিয়ে হোবার্ট হারিকেনসের মিডল অর্ডার চমৎকার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে। ব্যাটার নিকোলা কেরি দলের ইনিংস পুনর্গঠনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। কেরি ৪৩ বল মোকাবিলা করে ৬২ রানের একটি দুর্দান্ত ও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যা ছিল পুরো ম্যাচের সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স। কেরির এই চমৎকার ইনিংসের ওপর ভর করেই হোবার্ট দল ১৫তম ওভারে ১০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এরপর ম্যাচের শেষ পাঁচ ওভারে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বদৌলতে হোবার্ট অতিরিক্ত ৫৪ রান যোগ করে, যা শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহকে ৭ উইকেটে ১৫৪ রানে নিয়ে যায় এবং রেনেগেডসের সামনে ১৫৫ রানের একটি প্রতিযোগিতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ করে।

### হ্যালি ম্যাথিউসের অর্ধশতক ও রেনেগেডসের জবাব

১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মেলবোর্ন রেনেগেডস উইমেন শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রদর্শন করে। যদিও তারা ইনিংসের শুরুতেই একটি প্রথম উইকেট হারিয়েছিল, তবুও প্রথম চার ওভারের পাওয়ারপ্লে কাজে লাগিয়ে তারা বোর্ডে ৩৩ রান তুলে নেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটার হ্যালি ম্যাথিউস মেলবোর্ন রেনেগেডসের এই রান তাড়ায় প্রধান স্তম্ভ বা কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন। শুরু থেকেই উইকেটে টিকে থেকে এবং মাঠের চারপাশে দারুণ সব শট খেলে তিনি দলকে সার্বক্ষণিক জয়ের রেসে বাঁচিয়ে রাখেন।

হ্যালি ম্যাথিউস অত্যন্ত সাবলীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ৩৩ বলে ৮টি চারের সাহায্যে নিজের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক পূরণ করেন। তাকে অন্য প্রান্তে যোগ্য সহায়তা প্রদান করেন কোর্টনি ওয়েব, যিনি ২৫ বল খেলে ২৯ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন। ম্যাথিউস এবং ওয়েব জুটি দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তাদের এই দ্রুতগতির জুটির ওপর ভর করে ১২.১ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় মেলবোর্ন রেনেগেডস, যা ম্যাচে তাদের এক শক্তিশালী অবস্থানে বসিয়ে দেয়।

### দ্বিতীয় পাওয়ার সার্জে নাটকীয়তা ও শেষ বলের সিদ্ধান্ত

তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন রেনেগেডসের হাতে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় পাওয়ার সার্জের সময়ে খেলায় বড় ধরণের নাটকীয় মোড় আসে। এই পর্বে হোবার্ট হারিকেনসের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রান গতি মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনে। পাওয়ার সার্জের ওই সময়ে রেনেগেডস মাত্র ১৭ রান সংগ্রহ করতে পারে এবং দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ফেলে। হেদার গ্রাহাম বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ম্যাথিউসকে আউট করে হোবার্টকে ম্যাচে ফেরান। অন্যদিকে বোলার মলি স্ট্রানো এক দারুণ ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড আউটের মাধ্যমে সোফি মলিনিউকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যাকফুটে চলে যায় রেনেগেডস।

হোবার্ট হারিকেনসের বোলারদের মধ্যে সোফি মলিনিউ বল হাতে সেরা পারফর্মার ছিলেন, যিনি ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন এবং রেনেগেডসের মিডল অর্ডারের ওপর টানা চাপ তৈরি করেন। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা ও উইকেট পতনের পরেও রেনেগেডস দল মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখে। খেলা গড়ায় শেষ ২০তম ওভারে। ১৯.৫ ওভারের ডেলিভারি শেষে রেনেগেডসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫০ রান, যেখানে শেষ বল থেকে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান।

সার্বিক ম্যাচে হ্যালি ম্যাথিউস মোট ৪৪টি বল মোকাবিলা করে ৮টি চার হাঁকান এবং শেষ ডেলিভারিতে প্রয়োজনীয় রান তুলে দলের স্মরণীয় জয় সুনিশ্চিত করেন। হোবার্টের হয়ে নিকোলা কেরির ৪৩ বলে ৬২ রান এবং সোফি মলিনিউয়ের ২২ রানে ৪ উইকেটের বোলিং নৈপুণ্য ম্যাচটিকে শেষ বলের রোমাঞ্চে নিয়ে গেলেও রেনেগেডস শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই ফল চলতি ডব্লিউবিবিএল ২০২৬ আসরে সিডনি থান্ডার যেমন নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় পেয়ে শুভসূচনা করেছে, তেমনি রেনেগেডসের এই নাটকীয় জয় টুর্নামেন্টের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ আবহকে আরও উন্মোচিত করল।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)