ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকট্র্যাকার পরিবেশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, আগামী ১২ থেকে ২৫ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি উইমেন্স ইমার্জিং নেশনস ট্রফি ২০২৬-এর জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে আয়ারল্যান্ড। এবারের টুর্নামেন্টটি সম্প্রসারিত আকারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে মোট ১০টি দল অংশ নেবে। এর মধ্যে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য দেশ এবং পাঁচটি অ্যাসোসিয়েট দেশ রয়েছে। অ্যাসোসিয়েট স্তরের বাইরে অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণে এটিই প্রথম আসর হতে চলেছে।
এই স্কোয়াডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অন্তর্ভুক্তি হলো ২৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার লারা মারিটজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। ২০১৭ সালে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলা এই অলরাউন্ডার ২০২১ সালের পর এই প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেলেন। লারা মারিটজের পাশাপাশি দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন সিম-বোলিং অলরাউন্ডার যারা ক্রেইগ এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার আবি হ্যারিসন। দুজনেই প্রথমবারের মতো আয়ারল্যান্ডের সিনিয়র দলের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ঘোষিত এই স্কোয়াডে দলের নেতৃত্ব দেবেন গ্যাবি লুইস এবং সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যামি হান্টার। তবে আসন্ন এই টুর্নামেন্টে বেশ কজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না আয়ারল্যান্ড দল। তাদের মধ্যে অর্লা প্রেন্ডারগাস্ট অস্ট্রেলিয়ায় উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগ খেলার সুবাদে দলের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া রিবেকা স্টকেল, লিয়া পল এবং ক্রিস্টিনা কুল্টার রেইলি চোট কিংবা অন্যান্য কারণে এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারছেন না। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে রওনা হবে আইরিশ স্কোয়াড।
দলের অনুপস্থিতি ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর গ্রায়েম ওয়েস্ট ক্রিকট্র্যাকারকে বলেছেন, আগামী বছরের মার্চ মাসের আগে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না থাকায় এই ইমার্জিং নেশনস ট্রফির সময়টা পারফরম্যান্স স্কোয়াডের জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শিক্ষাগুলো উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রয়োগ করার উপযুক্ত মঞ্চ এটি। বিশ্বের শীর্ষ ছয় র্যাঙ্কিংভুক্ত দলের একটিতে পরিণত হওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে যেসব দল লড়ছে, তাদের মুখোমুখি হওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করবে এই টুর্নামেন্ট। ২০২৮ সালের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঠিক এই ধরনের প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশই প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গ্রায়েম ওয়েস্ট আরও যোগ করেছেন, গত জুন মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা স্কোয়াড থেকে কজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবার অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে এই অনুপস্থিতি হাই পারফরম্যান্স পাথওয়ের মাধ্যমে এগিয়ে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে প্রভাবশালী পারফরম্যান্স উপহার দিতে সক্ষম খেলোয়াড়দের পুল আরও সমৃদ্ধ হবে।
### অর্লা প্রেন্ডারগাস্টের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
অর্লা প্রেন্ডারগাস্টের দলের বাইরে থাকাটা কোনো চোটজনিত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের হাই পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনা দল অস্ট্রেলিয়ার উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগ এবং ইমার্জিং নেশনস ট্রফির সময়কালের ওভারল্যাপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেছে। তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই মুহূর্তে অর্লার ক্যারিয়ার গঠনে বিগ ব্যাশ লিগের অভিজ্ঞতা বেশি কাজে দেবে। আইসিসি উইমেন্স ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ইতিমধ্যেই চলমান থাকা এবং ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছাড়পত্র আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, অর্লার দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির কথা মাথায় রেখেই এই যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের ডিরেক্টর গ্রায়েম ওয়েস্ট আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, বিগ ব্যাশ লিগ এবং আইসিসি ইমার্জিং নেশনস টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সাংঘর্ষিক সূচির কথা মাথায় রেখে অর্লার খেলা ও উন্নয়নের জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সবাই একমত হয়েছিলেন যে বিগ ব্যাশ লিগের অভিজ্ঞতা অর্লার খেলাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে। আর এর সুফল সরাসরি মাঠের ক্রিকেটে পাবে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড।
### আয়ারল্যান্ডের ঘোষিত স্কোয়াড
আসন্ন এই টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত ১৪ সদস্যের আইরিশ দলটিতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন— গ্যাবি লুইস (অধিনায়ক), অ্যামি হান্টার (সহ-অধিনায়ক), যারা ক্রেইগ, আলানা ডালজেল, লরা ডিলানি, জর্জিনা ডেম্পসি, আবি হ্যারিসন, লুইস লি, আইমি ম্যাগুইয়্যার, জেন ম্যাগুইয়্যার, লারা মারিটজ, লারা ম্যাকব্রাইড, কিয়া ম্যাককার্টনি এবং কারা মারে।
টুর্নামেন্টের এই পরিবর্তিত বিন্যাস এবং নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি আইরিশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ প্রতিভাবানদের এই মিশেলে আয়ারল্যান্ড দল কেমন পারফর্ম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টটি দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চমৎকার একটি মঞ্চ। দলের কোচিং স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোতে দারুণ সুফল বয়ে আনবে।