কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের নির্ণায়ক তৃতীয় টেস্টে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। বুধবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ৩৩০ রান তুলে ১ রানের লিড নিয়েছে অজিরা। চোট পাওয়া স্টিভ স্মিথের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলেন জশ ইংলিশ। পঞ্চম উইকেটে অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে দেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় দিন শেষে ইংলিশ ৮৫ রানে এবং ক্যারি ৫১ রানে অপরাজিত আছেন। ভারতীয় ক্রীড়া মাধ্যম স্পোর্টস্টারের প্রতিবেদন থেকে ম্যাচ পরিস্থিতির এই তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর 'মাঠের খবর'-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, দ্বিতীয় টেস্টে ঘাড়ের চোটে পড়া স্টিভ স্মিথকে ফিটনেস প্রমাণের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময় দিয়েছিল অজি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে শেষ পর্যন্ত নিউল্যান্ডস টেস্টের একাদশে জায়গা পাননি স্মিথ। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন জশ ইংলিশ, যার ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে সফরকারীরা।
নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ৩২৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে দুই ওপেনার ম্যাট রেনশ ও ট্রাভিস হেড যোগ করেন ৫৮ রান। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে আউট হওয়া ট্রাভিস হেড এই ম্যাচেও সেই ভুল করেন। স্পিনার সাইমন হারমারের অফ-স্টাম্পের ভেতরের বল স্টাম্পে টেনে এনে ৪১ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হেড। হারমারের স্পেল অজিদের কিছু সময়ের জন্য ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। নিজের পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে (০) এইডেন মার্করামের ক্যাচে পরিণত করেন এই স্পিনার। লাবুশেনের টেস্ট ক্রিকেটে বাজে ফর্মে থাকার ধারাবাহিকতা এই ম্যাচেও বজায় থাকে।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওপেনার ম্যাট রেনশ এবং ক্যামেরন গ্রিন। তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার দলের বোর্ডে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ১২৬ রান। তবে এই জুটিকেও বেশি দূর এগোতে দেননি প্রোটিয়া পেসার মার্কো জানসেন। 'মাঠের খবর'-এর আগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভারতের রবীন্দ্র জাদেজাকে পেছনে ফেলে আইসিসি টেস্ট অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছেন ২৬ বছর বয়সী জানসেন। এই ম্যাচেও বল হাতে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। তার শিকার হয়ে ৭৪ রান করা রেনশ উইকেটরক্ষক রাইয়ান রিকেলটনের হাতে ক্যাচ দেন এবং গ্রিন ফার্স্ট স্লিপে হারমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
### মিডল অর্ডারের প্রতিরোধ ও নিউল্যান্ডসের উইকেট আচরণ
দুই দ্রুত উইকেটের পতনের পর উইকেটে আসেন জশ ইংলিশ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই দুজন প্রোটিয়া বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে নিউল্যান্ডসের চেনা কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। প্রথাগতভাবে নিউল্যান্ডসের উইকেট দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হয়ে ওঠে। আয়োজকদের পেস আক্রমণ কোনো ধরনের সুইং বা সিম মুভমেন্ট আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় সফরকারী ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে শট খেলেন।
ম্যাচ চলাকালীন স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় অজি ওপেনার ম্যাট রেনশ উইকেটের আচরণ নিয়ে বলেন, "আমরা জানতাম যে তারা কিছু সময়ে আমাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। তাই আমাদের প্রধান কাজ ছিল বড় জুটি গড়ে তোলা। উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য খুব চমৎকার মনে হয়েছে। তবে কিছু বল স্পিন করছে এবং দু-একটি বল কিছুটা লাফিয়ে উঠছে। যারা উইকেটে মানিয়ে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে ব্যাটিং করেছে, তারা রান পেয়েছে। নিউল্যান্ডসের আউটফিল্ড খুব দ্রুত হওয়ায় সহজে রান তোলার গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।"
### র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ও সিরিজের চূড়ান্ত সমীকরণ
দ্বিতীয় দিনের পুরো সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা উইকেটের জন্য পরিশ্রম করলেও ইংলিশ ও ক্যারির প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা কোনো ধরনের বোলিং চাপ সৃষ্টি করতে না পারায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণ অস্ট্রেলিয়ার হাতে। ২৬ অক্টোবরের 'মাঠের খবর'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিজের এই নির্ণায়ক লড়াইয়ের আগে ওপেনার নিক ম্যাডিনসন এবং ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক স্যাম হার্পারকে স্কোয়াড থেকে মুক্ত করে অজি ক্রিকেট বোর্ড। সেই পরিবর্তিত দল নিয়েই শক্ত অবস্থানে রয়েছে অজিরা।
চলতি সিরিজটিতে এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে। ডারবানে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বড় জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর গেবেখায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইনিংস ও ৩১ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া। স্পোর্টস্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপটাউনের এই নির্ণায়ক টেস্টে যে দল জয়ী হবে, তারাই বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করবে। ফলে তৃতীয় দিনের খেলায় দুই দলের জন্যই র্যাঙ্কিং ও সিরিজ জয়ের চরম উত্তাপ অপেক্ষা করছে।