/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

জিম্বাবুয়েকে ধুয়েমুছে সাফ করলেও ফিল্ডিং ও চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারতের নারী দল

সূত্র: Sportstar (The Hindu) Cricket (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

জিম্বাবুয়ে নারী দলকে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে মোট ৬-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ সম্পন্ন করেছে ভারত। তবে বড় জয় সত্ত্বেও ফিল্ডিংয়ের টানা ভুল এবং চোট সমস্যা সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়াচ্ছে।
জিম্বাবুয়েকে ধুয়েমুছে সাফ করলেও ফিল্ডিং ও চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারতের নারী দল
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ও সামগ্রিকভাবে ৬-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ভারতের নারী ক্রিকেট দল।
•
ম্যাচের প্রভাব: সিরিজ জিতলেও ফিল্ডিং ভুলের সংখ্যা প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি এবং পেস বিভাগে পাওয়ারপ্লেতে উইকেট না পাওয়া কোচিং স্টাফকে ভাবাচ্ছে।
•
সামনে কী: ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং ঘরের মাঠে আয়োজিত নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে বেশ কিছু একাদশের সমীকরণ মেলাতে হবে ভারতকে।

জিম্বাবুয়ে নারী দলের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ক্লিন সোয়াইপ সম্পন্ন করেছে স্বাগতিক ভারত। গুজরাটের ভাদোদরায় অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে আট উইকেটের বড় জয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল। এর আগে রায়পুর ও ভাদোদরায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে মিলিয়ে সফরকারীদের বিরুদ্ধে ৬-০ ব্যবধানে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ জয় নিশ্চিত করে স্মৃতির দল। এই টানা জয়ের পর ভারতের প্রধান কোচ অমল মজুমদার নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, দলীয় মিটিংয়ে দুটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—প্রথমটি হলো দলের তরুণ খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখা।

ভারতীয় বিখ্যাত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'স্পোর্টস্টার'-এর এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি পরিবর্তনকালীন দলের জন্য এই জয় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে উদীয়মান দল 'লেডি শেভরণস' নামে পরিচিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় দিয়ে ভারতের কারিগরি কিংবা কৌশলগত উন্নতির প্রকৃত মাত্রা মাপা কঠিন। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান গুছিয়ে নিতে জিম্বাবুয়ে এখনও সংগ্রাম করছে। তা সত্ত্বেও, আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কঠিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং নতুন বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে আয়োজিত প্রথম নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এই জয় ভারতের ড্রেসিংরুমে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

### ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা ও পাওয়ারপ্লে বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা

সিরিজে একচেটিয়া জয় পেলেও ভারতের ফিল্ডিং পারফরম্যান্স টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যান সংস্থা 'ক্রিকভিজ'-এর তথ্য উদ্ধৃত করে স্পোর্টস্টার জানিয়েছে, ফিটনেস ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থেকেও ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের চেয়ে বেশি ক্যাচ ও ফিল্ডিং ভুল করেছে ভারতীয় দল। ওয়ানডে সিরিজে ক্যাচ মিস, মিসফিল্ডিং, স্টাম্পিং হাতছাড়া ও রানআউটের সুযোগ নষ্ট করা মিলিয়ে ভারতের ফিল্ডিং ভুলের সংখ্যা ছিল ২৬টি, যেখানে জিম্বাবুয়ের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই ব্যবধান ছিল আরও প্রকট; ভারত করে ১৮টি ভুল, যেখানে জিম্বাবুয়ে করেছিল মাত্র ৭টি ফিল্ডিং ভুল।

জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচ মার্ক কোলস স্পোর্টস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোলামেলাভাবেই বলেন, ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে তারা ভারতীয় দলকে স্পষ্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলতে পেরে গর্বিত। বিশেষ করে ভারতীয় ফিল্ডাররা যেভাবে সহজ ক্যাচগুলো হাতছাড়া করেছেন, তা ফিল্ডিং কোচ মনিশ বালির কৌশল ও ট্রেনিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ম্যাচের আগে অনুশীলনে অতিরিক্ত সাধারণ মানের ড্রিল ব্যবহারের কারণে মাঠে খেলোয়াড়দের অ্যান্টিসিপেশন বা পূর্বাভাস করার সক্ষমতা বাড়ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিশ্বমানের ফিল্ডিং দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে আসন্ন জাতীয় প্রস্তুতি ক্যাম্পে এই বিভাগটি শুধরে নেওয়াই হবে প্রধান কাজ।

পেস বোলিং বিভাগেও চোট ও পাওয়ারপ্লের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ভারতের অধিনায়ক স্মৃতি মানধানা পেস বোলারদের ওপর ভরসা রাখলেও চোটের কারণে টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেট নেওয়া নন্দিনী শর্মাকে ওয়ানডেতে খেলায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তার পরিবর্তে কন্ডিশন ও নতুনদের পরখ করতে নামানো হয় জিন্তিমনি কলিতা, সায়ালী সতঘারে এবং ক্রান্তি গৌড়কে। তবে সায়ালী সতঘারে ও ক্রান্তি গৌড় প্রথম দুই ওয়ানডেতে নিজেদের লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। তাছাড়া পাওয়ারপ্লে ওভারে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার অভাবও স্পষ্ট ছিল; দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথম উইকেট নবম ওভারে এলেও দ্বিতীয় উইকেটের জন্য ২৩তম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল ভারতকে।

### হারমানপ্রীতের ফর্মে ফেরা ও একাদশের কঠিন সমীকরণ

ব্যাটিং বিভাগে সাবেক অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের ফর্মে ফেরা ভারতীয় শিবিরের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির খবর। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ৪১ বলে ৯১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১২১ বলে ১২৬ রানের দুর্দান্ত শতক হাঁকান তিনি, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। অধিনায়ক স্মৃতি মানধানা যেভাবে নিজে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নেমে তরুণদের সুযোগ দিয়েছেন, ঠিক তেমনি হারমানপ্রীতের ব্যাট থেকে আসা রানও দলকে বাড়তি মানসিক শক্তি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জিম্বাব্যুয়ের বোলিং আক্রমণের সাধারণ মান বিবেচনায় রেখে পরবর্তী কঠিন সিরিজগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে তাকে।

সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ও ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থাকায় ভারতীয় দল নির্বাচন নিয়ে মিষ্টি মধুর সমস্যায় পড়েছেন অধিনায়ক স্মৃতি ও কোচ অমল মজুমদার। অভিজ্ঞ ব্যাটার জেমিমাহ রদ্রিগেজ চোট কাটিয়ে ফিরলে তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে তৈরি হবে বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে পেস অলরাউন্ডার কাশভী গৌতম ও আমনজোত কৌর ফিট হলে তারা একাদশে সরাসরি ঢুকবেন কিনা, বৈষ্ণবী শর্মা ও এন শ্রী চারানির মধ্যে থেকে কাকে বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে বেছে নেওয়া হবে এবং উইকেটকিপার পজিশনে যস্তিকা ভাটিয়া নাকি রিচা ঘোষকে দীর্ঘমেয়াদে সুযোগ দেওয়া হবে—এমন নানা সমীকরণ সমাধানের ওপর নির্ভর করবে ভারতের আগামী দিনের সাফল্য।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)