/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বড় হার, রেকর্ড গড়ে জয় কিউইদের

সূত্র: Hindustan Times Cricket (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৭ রানে হেরেছে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৯ রান তোলে কিউইরা, জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৭২ রান করতে সক্ষম হয় ভারত।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বড় হার, রেকর্ড গড়ে জয় কিউইদের
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৭ রানে হেরেছে ভারত।
•
ম্যাচের প্রভাব: এই জয়ে সিরিজে ব্যবধান কমাল কিউইরা, তবে ভারত আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল।
•
সামনে কী: আগামী ম্যাচগুলোতে দুই দলই তাদের ভুলত্রুটি শুধরে মাঠে নামবে।

হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে ভারত। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৮৭ রানের এক দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেয়েছে কিউইরা, যদিও এর আগে সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচ হেরে তারা আগেই সিরিজ হাতছাড়া করেছিল। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ভারতীয় দল। নির্ধারিত কুড়ি ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান তুলতে সমর্থ হয় সফরকারীরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বড় ব্যবধানের হার এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয় হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পেয়ে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রানের পাহাড়ে চড়ে বসে, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড। ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন ফিল ইনডেক্স ও অন্যান্য ব্যাটাররা, তবে আসল তাণ্ডব চালান গ্লেন ফিলিপস। তিনি মাত্র ৪৯ বল মোকাবিলা করে ১০টি ছক্কার সাহায্যে বিধ্বংসী ১০৭ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন। এর আগে ভারতের বোলাররা শুরুর দিকে কিছু সাফল্য পেলেও ১০৯ রানের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের চার উইকেট তুলে নিয়েছিল। তবে এর পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় গ্লেন ফিলিপস এবং মাইকেল ব্রেসওয়েলের দুর্দান্ত জুটির কল্যাণে। মাত্র ৪০ বলে ১১৫ রানের এক নির্মম জুটি গড়ে তোলেন এই দুই ব্যাটার, যা ভারতীয় বোলারদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।

ইডেন পার্কের আনুষঙ্গিক ছোট সীমানা এবং অদ্ভুত সব মাত্রা ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে ভীষণভাবে ভুগিয়েছে। বিশেষ করে নিতিশ কুমার রেড্রি বল হাতে দারুণ খরুচে প্রমাণিত হন, তিনি তার নির্ধারিত চার ওভারে মোট ৬৪ রান খরচ করেন। এছাড়া তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদব ও বাঁহাতি পেসার আর্শদীপ সিং তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে গেলেও কিউই ব্যাটারদের থামানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচের এক পর্যায়ে ফিলিপস এক ওভারে ৩২ রান পর্যন্ত আদায় করে নেন, যেখানে তিনি টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৫৯ রান। ভারতের পক্ষে মায়াঙ্ক যাদব কিছু সাফল্য পেলেও সামগ্রিকভাবে বোলিং আক্রমণ ছিল বেশ মলিন।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের ইনিংসের সূচনা হয় চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই জ্যাকব ডাফি পরপর সাজঘরে পাঠান সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণকে। মাত্র ৮ রানের মাথায় দুই উইকেট হারিয়ে পাওয়ারপ্লের শুরুতেই বিপাকে পড়ে সফরকারী দল। এরপর অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়াস আয়ারও দ্রুত বিদায় নিলে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশার প্রদীপ নিভে যায়। ভারতীয় টপ অর্ডারের এই ভরাডুবি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ক্রিজে এসে তিলক বর্মা এবং নিতিশ কুমার রেড্ডি দলের রান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছিল। জ্যাকব ডাফি বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে মাত্র ২৯ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন।

### ভারতের ব্যাটিং ধস ও তিলক বর্মার লড়াকু ইনিংস

ইনিংসের মধ্যপর্বে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার ১১ বলে ২২ রান করে অ্যাডাম মিলনের শিকার হন। এরপর নামন ধীর ও নিতিশ কুমার রেড্ডি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ড্যারিল মিচেল ও নাথান স্মিথের দারুণ ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের মুখে তা টিকতে পারেনি। নামন ধীর ২৮ রান করে আউট হন। দলের নিয়মিত ব্যাটাররা একে একে সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান তিলক বর্মা। তিনি ক্রিপে বেশ কিছুক্ষণ সংগ্রাম করে ৩৫ রান সংগ্রহ করেন এবং দলের পরাজয় দীর্ঘায়িত করেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ইনিংস ১৭২ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ম্যাচের নানা মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে। মিচেল স্যান্টনার তার প্রথম বলেই নিতিশ কুমার রেড্ডিকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। রেড্ডি ১০ বলে ২১ রান করে ক্যাচ দেন। এছাড়া ফিল স্যান্টনার ও জ্যাকব ডাফির নিখুঁত বোলিংয়ের সামনে ভারতীয় ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। গত ম্যাচের হিরো তিলক বর্মা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও দলের বড় পরাজয় এড়াতে পারেননি। ব্লু ব্রিগেড খ্যাত ভারতীয় দলের জন্য এটি একটি অন্যতম ভুলে যাওয়ার মতো ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের চমৎকার লাইন ও লেংথের কারণে ভারতীয় ব্যাটাররা পুরো ইনিংসে কোনো স্বস্তিদায়ক জুটি গড়তে পারেননি।

মাঠের খবরের নিজস্ব আর্কাইভ ও পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তিলক বর্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচে ১৮১ রান তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দল শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিজ আগেই নিশ্চিত হওয়ায় ভারতীয় দল তাদের একাদশে কিছু পরিবর্তনের কথা ভেবেছিল এবং কুলদীপ যাদব কিংবা বরুণ চক্রবর্তীকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে এই চতুর্থ ম্যাচে এসে কিউইদের ব্যাটিং তাণ্ডব ও ভারতীয় দলের ব্যাটিং ধস সমস্ত সমীকরণ বদলে দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, আর্শদীপ সিং এই ম্যাচে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। চলতি ক্যালেন্ডার বছরে ফুল মেম্বার দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেটের মালিক হয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। যদিও এই ম্যাচে তিনি উইকেট শিকারের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন এবং দল বড় ব্যবধানে হেরেছে, তবুও তার ব্যক্তিগত এই অর্জন দলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে, গ্লেন ফিলিপস ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি বা ততোধিক ফিফটি বা তার বেশি রান করার তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ২০২২ সালে নিকোলাস পুরান এবং চলতি মাসের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

### সামগ্রিক মূল্যায়ন ও সমাপনী পর্যবেক্ষণ

সব মিলিয়ে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে নিউজিল্যান্ডের এই জয় তাদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিজে ইতিমধ্যেই প্রথম তিনটি ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়া কিউইরা শেষ পর্যন্ত সান্ত্বনার একটি বড় জয় তুলে নিল। ভারতীয় দলের জন্য এই পরাজয়টি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবধানের হার হিসেবে রেকর্ড বইয়ে থেকে যাবে। অধিনায়ক থেকে শুরু করে বোলার এবং ব্যাটারদের ব্যর্থতা এই ম্যাচে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভারতের কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে এখন এই বড় পরাজয়ের কারণগুলো খতিয়ে দেখতে হবে এবং আগামী ম্যাচগুলোর জন্য নিজেদের কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুই দল তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে। ভারত এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে সিরিজের বাকি অংশ এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে চাইবে। নিউজিল্যান্ড দল তাদের এই দুর্দান্ত জয়ের ফর্মুলা ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকবে। ইডেন পার্কের ঐতিহাসিক এই লড়াই ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেক দিন মনে থাকবে, বিশেষ করে গ্লেন ফিলিপসের সেঞ্চুরি এবং জ্যাকব ডাফির অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের সুবাদে। মাঠের খবর এই সিরিজের প্রতিটি আপডেট ও বিশ্লেষণ নিয়মিতভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)