দক্ষিণ আফ্রিকার গতিতারকা পেসার আনরিখ নরকিয়া কেপ টাউনে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে প্রোটিয়া দল তাদের অন্যতম প্রধান পেসারকে পাচ্ছে না। সম্প্রতি প্রায় চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করা ৩২ বছর বয়সী এই বোলার গকেবেরহায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩.৩ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। সেই স্বল্প স্থায়িত্বের স্পেলেই তিনি ১৪ রান খরচ করে মারনাস লাবুশেনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি শিকার করেন। তবে বোলিং করার সময় কুঁচকির চোটে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে মাঠ ছেড়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আর কোনো বোলিংই করতে পারেননি।
### চোটের কারণে কেপ টাউন টেস্টে অনিশ্চয়তা
হিন্দুস্তান টাইমস ক্রিকেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হওয়া স্ক্যানের রিপোর্ট আসার পরই আনরিখ নরকিয়ার চোটের প্রকৃত মাত্রা নিশ্চিত করা হয়। আইসিসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে গকেবেরহায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বোলিং করার সময় পাওয়া মৃদু কুঁচকির চোটের কারণে নরকিয়া এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ থেকে বাদ পড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দল এখনো তাঁর কোনো বদলি ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেনি। প্রথম টেস্টে কিংসমেডে ডারবানে প্রোটিয়ারা ২১৪ রানে হেরে গেলেও, নরকিয়াকে ছাড়াই তারা দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ায়। গকেবেরহায়ার সেই ম্যাচে স্বাগতিক দল অস্ট্রেলিয়াকে এক ইনিংস এবং ৩১ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনে।
ডারবানের ওই ম্যাচটি ছিল আনরিখ নরকিয়ার ক্যারিয়ারে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর প্রথম টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচে তিনি মোট চারটি উইকেট শিকার করলেও পারফরম্যান্সের বিচারে তাকে নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। তবে নরকিয়ার অনুপস্থিতি দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পেস আক্রমণে বড় কোনো শূন্যতা তৈরি করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা কাগিসো রাবাদা দ্বিতীয় টেস্টেই দলে ফিরেছেন এবং দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। গকেবেরহার ম্যাচে রাবাদা মোট ছয়টি উইকেট শিকার করে দলকে বিশাল ব্যবধানে জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন এবং উইয়ান মুলডার এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচেই একসঙ্গে খেলেছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মার্কো ইয়ানসেনের পাঁচ উইকেট শিকার দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
### দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং বিকল্প ও স্কোয়াড পরিস্থিতি
নরকিয়ার ইনজুরির কারণে প্রোটিয়া টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে এখন নতুন কিছু বিকল্প ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা চাইলে সিরিজের এই শেষ ও নির্ধারণী ম্যাচের জন্য অন্য কোনো ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার করবিন বশ কিংবা খাঁটি পেসার জেরাল্ড কোয়েটজির ওপর ভরসা রাখতে পারে। এছাড়া দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে তারা চাইলে অতিরিক্ত একজন ব্যাটারকেও একাদশে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই টেস্ট স্কোয়াডে টেম্বা বাভুমা অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার সঙ্গে স্কোয়াডে রয়েছেন মারকাস অ্যাকারম্যান, ডেভিড বেডিংহাম, করবিন বশ, ম্যাথু ব্রিটজকে, জেরাল্ড কোয়েটজি, সাইমন হার্মার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুলডার, সেনুরান মুথুসামি, ডেন প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন এবং কাইল ভেরেইনা।
সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং টেস্ট সংস্করণের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রীড়া মহলে নানা আলোচনা চলছে। আমাদের আগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দ্য গার্ডিয়ান ক্রিকেট কলামে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট অধিনায়ক টেমবা বাভুমার ঐতিহাসিক নয় ঘণ্টার সেঞ্চুরি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অতিরিক্ত আধিপত্য কীভাবে ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে, তা তুলে ধরা হয়েছিল। বাভুমার সেই দীর্ঘ ধৈর্যের ইনিংসের পর আনরিখ নরকিয়ার মতো বোলারদের চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া টেস্ট দলের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়টিকেই আবার সামনে নিয়ে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজমেন্ট এখন কেপ টাউনের সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে জয় তুলে নিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। নরকিয়া না থাকায় বোলিং আক্রমণে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হলেও প্রোটিয়া স্কোয়াডের বর্তমান গভীরতা তাদের স্বস্তি জোগাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন কেপ টাউনের দিকে, যেখানে সিরিজের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে চলেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মহারণের আগে উভয় দলই নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে।