/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

মানসিক চাপ ও ক্লান্তির মুখোমুখি গম্ভীর, নিউজিল্যান্ডে সিরিজ জিতে শ্রেয়াসের প্রশংসায় হেড কোচ

সূত্র: Hindustan Times Cricket (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর টানা কোচিংয়ের মানসিক ক্লান্তি ও চাপের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। একই সাথে অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে দারুণ নেতৃত্ব দেওয়ায় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
মানসিক চাপ ও ক্লান্তির মুখোমুখি গম্ভীর, নিউজিল্যান্ডে সিরিজ জিতে শ্রেয়াসের প্রশংসায় হেড কোচ
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর ভারতীয় দলের চাপ ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর।
•
ম্যাচের প্রভাব: অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সিরিজ জয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বকে সুসংহত করেছে এবং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
•
সামনে কী: সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ব্যস্ত সূচি ও ভ্রমণের ধকল সত্ত্বেও নিজেদের আগ্রাসী ও ভয়ডর খেলার ধারা বজায় রেখে পরবর্তী সিরিজের প্রস্তুতি নেবে ভারতীয় দল।

জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করার সময় যে প্রচণ্ড চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়, সে বিষয়ে একেবারেই খোলামেলা কথা বলেছেন ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর সাবেক এই ভারতীয় ওপেনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সময়সূচি, ঘনঘন ফরম্যাট পরিবর্তন এবং সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিয়ত জয়ের প্রত্যাশার প্রভাব তুলে ধরেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জাতীয় দলকে শীর্ষ পর্যায়ে কোচিং করাতে গিয়ে মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করলেও এই কঠিন চ্যালেঞ্জ ও চাপ গ্রহণ করতে তিনি শতভাগ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন গম্ভীর।

ভারতের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশে কোচের দায়িত্ব পালন করা কতটা কঠিন, তা স্পষ্ট করেছেন গম্ভীর। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাইরে থেকে সমর্থক ও বিশ্লেষকরা প্রতিটি ম্যাচে জয় দেখতে চান এবং কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেন না। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে চিন্তা করা অত্যন্ত জরুরি। ফরম্যাটের দ্রুত পরিবর্তন এবং টানা ভ্রমণের মধ্যে দলের ভারসাম্য রক্ষা করা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা নেয়। তবে সব চাপ সহ্য করেও নিজের কাজ উপভোগ করছেন বলে ব্যক্ত করেছেন তিনি।

### চাপ ও মানসিক ক্লান্তির খোলাখুলি স্বীকারোক্তি

একাধিক ফরম্যাটের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃশেষ বা "মেন্টালি কুকড" বোধ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গম্ভীর অকপটে স্বীকার করেন যে চাপটি অত্যন্ত বাস্তব। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ উদ্ধৃত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী গম্ভীর বলেন, "হ্যাঁ, সত্যি বলতে আমি এমনটা অনুভব করেছি। তবে এই পরিস্থিতি সামলানোর মতো যথেষ্ট মানসিক শক্তি আমার আছে। আমি যত দিন সম্ভব এই চাপ বহন করতে প্রস্তুত।" তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিনিয়ত চাপ ও সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক গঠন তাঁর রয়েছে, তবে একজন মানুষ হিসেবে মাঝে মাঝে ক্লান্ত বোধ করা স্বাভাবিক।

নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুতেই ভারতীয় দলকে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ম্যাচের মাত্র দুই দিন আগে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছায় ভারতীয় দল। দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টার ফ্লাইট ভ্রমণের পর মাত্র একদিনের অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিল পুরো স্কোয়াড। নতুন আবহাওয়া, ভিন্ন কন্ডিশন এবং মাঠের ভিন্ন মাত্রার (ডাইমেনশন) সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে মাঠে নামতে হয়, যেখানে দলের অনেক তরুণ ক্রিকেটারের এটিই ছিল প্রথম নিউজিল্যান্ড সফর।

এমন কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও সিরিজের সূচনাতে দলের পারফরম্যান্সে অত্যন্ত গর্বিত গম্ভীর। প্রথম তিনটি ম্যাচ টানা জিতে সিরিজের ট্রফি নিশ্চিত করার সাফল্যকে অসাধারণ এক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মাত্র একদিনের প্রস্তুতির পর এত বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে সিরিজ জয় করাটা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে এবং এই অর্জন নিয়ে দীর্ঘকাল আলোচনা হওয়া উচিত।

‘মাঠের খবর’-এর সাম্প্রতিক ম্যাচ রেকর্ড অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের শুরুটা হয়েছিল রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে। গত ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে জয়ের জন্য ১৮১ রান তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল ভারত। তবে শেষ দিকে তিলক বর্মা ও নীতিশ কুমার রেড্ডির অবিচ্ছিন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় পায় ভারত, যা তাদের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এর পর তৃতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

তবে সফরের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পায় ভারত। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার স্বীকার করেন যে মাঠের ভিন্ন ডাইমেনশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দলকে কিছুটা সংগ্রাম করতে হয়েছে। এরপর হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের পরাজয় দেখে সফরকারীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দলীয় ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ভারত এই ৩-২ ব্যবধানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয় অর্জন করেছে।

### অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও দলের অর্জন

পুরো সিরিজ জুড়েই অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গৌতম গম্ভীর। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের অনুপস্থিতিতে যেভাবে তরুণ ও অনভিজ্ঞ বোলারদের চালনা করে আইয়ার জয় ছিনিয়ে এনেছেন, তার প্রশংসা করেন হেড কোচ। গম্ভীরের মতে, একজন অধিনায়কের সাফল্য নির্ভর করে তাঁর খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর, এবং এই অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারানো আইয়ারের অসাধারণ নেতৃত্বের প্রমাণ।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সূর্যকুমার যাদবের কাছ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নেন শ্রেয়াস আইয়ার। এমন একটি দলের দায়িত্ব তিনি পেয়েছিলেন যারা টানা দুই বছর কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারেনি এবং সদ্য বিশ্বজয়ী ছিল। আইয়ারের অধিনায়কত্বের শুরুটা খুব মসৃণ ছিল না; আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল দলকে। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি সমতায় শেষ হয়।

শুরুর ধাক্কা সামলে দ্রুতই দলকে জয়ের ধারায় ফেরান আইয়ার। তাঁর নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জেতার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করে ভারত। এই সময়কালে তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়দের প্রচুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে গম্ভীর বলেন, দলের ভবিষ্যত গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য ধরে রাখাটাই ছিল মূল লক্ষ্য।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গম্ভীর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক দুটি পরাজয় সত্ত্বেও ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের আক্রমণাত্মক ও ভয়ডর ক্রিকেট খেলার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। অকল্যান্ড ও হ্যামিল্টনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় দল। নিজস্ব পরিচয় ও নীতিতে অবিচল থেকেই আগামী দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ভারতের এই হেড কোচ।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)