ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন নিশ্চিত করেছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। ক্রীড়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকট্যাকার (CricTracker)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মুথুট ফিনকরপ ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচটি পূর্বে নতুন দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তা স্থানান্তর করে বিশাখাপত্তনমের এসিএ-ভিডিসিএ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে।
জাতীয় রাজধানী দিল্লি থেকে সিরিজ নির্ধারণী উদ্বোধনী ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিডিসিএ) একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনের ভিত্তিতে। ১৩ ডিসেম্বর দিল্লিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান অপারেশনাল ও লজিস্টিক সংক্রান্ত জটিলতার কথা বিসিসিআইকে জানায় ডিডিসিএ। স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থার পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রথম বিষয়টি ছিল ডিসেম্বরের সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি, যা দিল্লি অঞ্চলে খেলা ব্যাহত করতে পারে।
আবহাওয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে পরিকল্পিত সংস্কার কাজকেও দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিডিসিএ। ওই নির্ধারিত সময়ে স্টেডিয়ামটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চালু থাকার কথা রয়েছে, যার ফলে ওই দিনটিতে কোনো হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা বাস্তবসম্মত ছিল না। ডিডিসিএর লিখিত আবেদন এবং উভয় যুক্তি বিবেচনা করে বিসিসিআই বিষয়টি মেনে নেয় এবং বিশাখাপত্তনমের এসিএ-ভিডিসিএ ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে নতুন ভেন্যু হিসেবে অনুমোদন দেয়।
বিসিসিআইয়ের সাম্মানিক সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তিত এই সূচি ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে শ্রীলঙ্কার ভারত সফরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি এখন ভারতের পূর্ব উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যু পরিবর্তনের ফলে ছয় ম্যাচের এই হোয়াইট-বল সিরিজের সূচনার ম্যাচটি অবকাঠামোগত বা আবহাওয়াজনিত কোনো বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার ভারত সফরে সব মিলিয়ে ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সমানভাবে বিভক্ত। ভেন্যু পরিবর্তনের পর ১৩ ডিসেম্বর বিশাখাপত্তনমে প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং ১৯ ডিসেম্বর আহমেদাবাদে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। বেঙ্গালুরু ও আহমেদাবাদের ওয়ানডে ম্যাচ দুটি ভারতীয় সময় দুপুর ২:০০ টায় শুরু হবে।
### সফরসূচির বিস্তারিত ও দলগত সমীকরণ
৫০ ওভারের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পরপরই দুই এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ২২ ডিসেম্বর রাজকোটে সন্ধ্যা ৭:০০ টায় শুরু হবে। এরপর ২৪ ডিসেম্বর কটকে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, সেটিও শুরু হবে সন্ধ্যা ৭:০০ টায়। ২৭ ডিসেম্বর পুনেতে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার এই পূর্ণাঙ্গ সফরের সমাপ্তি ঘটবে, যা দেশের ছয়টি ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে।
এই ভেন্যু পরিবর্তন ভারতের হোম সিজন ও খেলোয়াড়দের সময়সূচির ক্ষেত্রেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। 'মাঠের খবর'-এর ২০২৬ সালের ১ নভেম্বরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ওয়ানডে সিরিজ শেষ করেই ২০১৬-২৭ বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলার কথা নিশ্চিত করেছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর লিগ পর্বের শেষ অংশ এবং নকআউট পর্বে মুম্বাই দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈরী আবহাওয়া ভারতীয় উপমহাদেশের ম্যাচ পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে। 'মাঠের খবর'-এর ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টির কারণে টস ও খেলা বিলম্বিত হয়েছিল, যেখানে ভারত টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের ১৩ ডিসেম্বরের ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ডিডিসিএর এই আগাম পদক্ষেপ আবহাওয়াজনিত স্থবিরতা এড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
তাছাড়া, আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে দল গঠনের প্রক্রিয়া ও ফিটনেস সমীকরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'মাঠের খবর'-এর ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্পষ্ট করেছিলেন। গিল নিশ্চিত করেছিলেন যে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে জাতীয় দলে ফিরতে হলে হার্দিককে অবশ্যই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে, যা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য বিসিসিআইয়ের কঠোর নীতিকেই প্রতিফলিত করে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার এই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং ডিডিসিএর সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের ওয়ানডে ম্যাচকে কেন্দ্র করে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। বিশাখাপত্তনম, বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদ, রাজকোট, কটক ও পুনে—এই ছয়টি ভেন্যুতে ছড়িয়ে থাকা ভারত-শ্রীলঙ্কা ২০২৬ সিরিজটি দুই দলের জন্যই দারুণ এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট উপহার দিতে যাচ্ছে।