/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রেকর্ড তাড়ায় পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়

সূত্র: Hindustan Times Cricket (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

লাহোরে ৩২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। ফখর জামানের ১২৭ ও আরাফাত মিনহাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৯ বল বাকি থাকতেই ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসের যৌথ সর্বোচ্চ রান তাড়া সম্পন্ন করে স্বাগতিকরা।
ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রেকর্ড তাড়ায় পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।
•
ম্যাচের প্রভাব: ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেয়ে ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান।
•
সামনে কী: ২০০৮ সালের পর প্রথম ত্রিদেশীয় ওয়ানডে শিরোপা জিতে পাকিস্তান তাদের ওয়ানডে ফর্মের শক্ত বার্তা দিল।

লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের নাটকীয় ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে আয়োজক পাকিস্তান। সফরকারীদের দেয়া ৩২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ওপেনার ফখর জামান, যিনি ৯৯ বলে ১২৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে রান তাড়ায় মূল ভিত্তি গড়ে দেন। ভারতীয় ক্রীড়া গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে তারা। লঙ্কানদের এই বিশাল সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন কামিন্দু মেন্ডিস, যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে শতক হাঁকিয়ে ১২৮ বলে ১৩১ রান করেন। তার চমৎকার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কার মার। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন পবন রথনাযাকে, যিনি ৭৭ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন ১১৯ বলে ১৪৬ রানের বিশাল জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ৩৪০ রানের ওপরে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের সূচনাও বেশ ভালো ছিল। পাওয়ারপ্লেতে ওপেনার আবিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দু মেন্ডিস মিলে ৫১ রান যোগ করেন। ১৮তম ওভারে ফার্নান্দো বিদায় নেওয়ার পর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরান পার্ট-টাইম বোলার সালমান আগা। ১০৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর কামিন্দু ও রথনাযাকের জুটিতে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় লঙ্কানরা। তবে শেষদিকের ওভারে পাকিস্তান দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। পাকিস্তানের পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি ৫০ রানে ২ উইকেট নেন। তিনি ও হারিস রউফ মিলে দ্রুত ব্যবধানে দাসুন শানাকা ও রথনাযাকেকে আউট করে শ্রীলঙ্কার রানের গতি থমকে দেন। শেষদিকে সাহান আরাচ্চিগে ১২ বলে ১৫ রান করে নাসিম শাহর শিকার হলে ৩২৫ রানে থামে শ্রীলঙ্কা।

### ফখর জামানের তাণ্ডব ও পাকিস্তানের মধ্যম সারির লড়াই

৩২৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপদে পড়ে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা পাওয়ারপ্লেতেই জোড়া আঘাত হানেন। মাত্র ৫ বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম। খাদের কিনারে থাকা দলকে সেখান থেকে টেনে তোলেন ফখর জামান ও তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সাদ বেগ। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন অসাধারণ ১৪৯ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান।

এই জুটিতে অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে সাদ বেগ তার প্রথম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন। ৭৫ বলে ৭৪ রান করা সাদের এই ইনিংস ভাঙেন শ্রীলঙ্কার অফস্পিনার মহেশ থিকশানা। সাদ আউট হলেও ফখর জামান নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। ফিফটি ছোঁয়ার পর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠা ফখর তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম শতক উদযাপন করেন। এরপর সালমান আগাকে নিয়ে ৫৭ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দলের প্রয়োজনীয় রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখেন ফখর। তবে ব্যক্তিগত ১২৭ রানে মাদুশঙ্কার বলে ফখর এবং এর পরপরই ১৭ রান করা আগা আউট হলে ২ ৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আবারও কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।

কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে চাপ সামলে নামেন আরাফাত মিনহাস ও হাসান নওয়াজ। তরুণ অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস চমৎকার এক ফিফটি হাঁকান এবং হাসান নওয়াজের সাথে মাত্র ৯৪ রানের ম্যাচ জেতানো জুটি গড়েন। তাদের দূরদর্শী ও সাহসী ব্যাটিংয়ে কোনো বড় ঝুটঝামেলা ছাড়াই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক পাকিস্তান।

### পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক শিরোপার গুরুত্ব

পাকিস্তানের ক্রিকেটে এই শিরোপা জয়ের তাৎপর্য অনেক। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারানোর পর এটিই ছিল ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের প্রথম শিরোপা জয়। এছাড়া ২০২৫ সালে নিজেদের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার যে আক্ষেপ ছিল, এই জয়ের মাধ্যমে তার মধুর প্রতিশোধ নিল পাকিস্তান। 'মাঠের খবর'-এর ২০২৬ সালের ১ নভেম্বরের আর্কাইভ রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়ার এই নজির পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটে গভীরতার প্রমাণ দেয়।

এই ম্যাচটি ব্যক্তিগত অনেক রেকর্ডেরও সাক্ষী ছিল। শ্রীলঙ্কার তরুণ ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিস ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন, যা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে লঙ্কান টপ-অর্ডারের শক্তিমত্তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সুনাম ধরে রেখে ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ফখর জামান। বিশেষ করে আরাফাত মিনহাস ও হাসান নওয়াজের ৯৪ রানের জুটি দেখিয়েছে যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও যেকোনো বড় স্কোর তাড়া করার সক্ষমতা রয়েছে পাকিস্তানের। সামনের সিরিজগুলোতে লঙ্কানদের ডেথ ওভারের বোলিং সুধরে নেওয়ার তাগিদ থাকবে, আর এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগামীতে মাঠে নামবে পাকিস্তান।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)