লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের অকার্যকর শেষ ওয়ানডে ম্যাচে (ডেড রাবার) শ্রীলঙ্কাকে ৫৫ রানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। পবন রথনায়াকের দুর্দান্ত শতক সত্ত্বেও ৩৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৫.১ ওভারে ৩৩১ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কানরা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস ক্রিকেট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডিতে ৪৩০ রান তাড়া করার অনন্য ইতিহাস গড়েছিল শ্রীলঙ্কা, তবে এই ম্যাচে তাদের সেই অলৌকিক লড়াই থেমে যায় স্পিনার লিয়াম ডসনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের কাছে।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮৬ রানের পাহাড় গড়েছিল। টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কার জন্য বড় মাশুল হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনার বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টন শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হন। তারা দুজনে উদ্বোধনী জুটিতে ১৬৩ রান যোগ করে ইংল্যান্ডের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ব্যান্টন ৭৫ বলে ৭৫ রান করে বিদায় নেন, যার মধ্যে ছিল দুটি ছক্কা ও আটটি চার।
### বেন ডাকেটের রেকর্ড গড়া ইনিংস ও ইংল্যান্ডের পাহাড়সম পুঁজি
উদ্বোধনী সঙ্গীকে হারানোর পর ডাকেট তাঁর তাণ্ডব বজায় রাখেন। ১৩২ বল মুখোমুখি হয়ে ২৪টি চারের সাহায্যে ১৬৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর আগে তাঁর সর্বোচ্চ রান ছিল ১৬৫, যা তিনি গত বছর একই মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে করেছিলেন। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৭৫ বলে ১০৭ রানের একটি দ্রুতগতির জুটি গড়ে তোলেন তিনি। ব্রুক ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন, যেখানে ছিল দুটি ছক্কা ও তিনটি চারের মার।
ইনিংসের ৪২তম ওভারে এশান মালিঙ্গার একটি সুইপ শট মিস করে আউট হন ডাকেট। ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা সংগ্রহ করেন ৯২ রান। জর্ডান কক্সের ৪৩ রান, উইল জ্যাকসের ৩০ রান এবং স্যাম কারানের ২১ রানের অপরাজিত ক্যামিও ইংল্যান্ডকে ৩৮৬ রানের পর্বতপ্রমাণ স্কোরে পৌঁছে দেয়। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে পেসার অসিথা ফার্নান্দো ৬৩ রানে ২টি উইকেট পান। তবে তরুণ পেসার এশান মালিঙ্গা ১০১ রান খরচ করে পান মাত্র ১টি উইকেট।
### রথনায়াকের লড়াকু শতক ও ডসনের স্পিন জাদুতে ইংল্যান্ডের জয়
৩৮৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় উইকেটে অভিস্কা ফার্নান্দো ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে খেলায় বজায় থাকে। ফার্নান্দো দ্রুতগতির ৪৮ রান করে আউট হওয়ার পর ক্রিজে নামেন পবন রথনায়াক। মেন্ডিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে মাত্র ৫৯ বলে ৮০ রান যোগ করেন তিনি। মেন্ডিস ৭১ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও আটটি চারের মার।
মাঠের খবরের গত ২৪ অক্টোবরের আর্কাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডিতে হ্যারি ব্রুকের অনবদ্য ২০২ রানের পর শ্রীলঙ্কা ৪৩০ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল, যেখানে রথনায়াক করেছিলেন ১৩০ রান। এবারও লাহোরে একই রকম তাণ্ডব চালান এই তরুণ ব্যাটার। রথনায়াক ৭৭ বলে ১৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১১৮ রান করেন, যা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক। পঞ্চম উইকেটে জেনিথ লিয়ানাগের (৩০) সঙ্গে ৭২ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটি টানটান উত্তেজনায় নিয়ে যান তিনি। শ্রীলঙ্কার ম্যাচ জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৮৭ রান।
তবে এই অবস্থান থেকে খেলায় ঘুরিয়ে দেন ইংলিশ বোলাররা। সনি বেকার (২/৭৫) বিপজ্জনক পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙার পর স্পিনার লিয়াম ডসন ধ্বংসযজ্ঞ চালান। ৪৫তম ওভারে রথনায়াককে সুইপ শটে ক্যাচ বানিয়ে ডসন শ্রীলঙ্কার আশার সলতে নিভিয়ে দেন। ডসন তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ৪৯ রানে ৪ উইকেটের স্পেল নিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ৩৩১ রানে গুটিয়ে দেন।
এই হারের পরও শ্রীলঙ্কা আগামী শনিবার লাহোরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, চার ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতে দেশে ফিরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "আমরা যেভাবে খেলাটি শেষ করেছি, তা দারুণ। ৪৩০ রান তাড়া করার ম্যাচটি থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। সত্যি বলতে আমি নার্ভাস ছিলাম না। আমরা যেমন সিরিজ চেয়েছিলাম তেমনটি হয়নি, তবে ছেলেরা প্রচুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরছে।"
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ফাইনাল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থেকে বলেন, "আমরা পুরো সিরিজে ভালো ব্যাটিং করেছি। ফাইনাল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আমরা শনিবারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।"