/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ থেকে ইংল্যান্ডের নেওয়ার মতো শিক্ষা এবং প্যাট কামিন্সকে নিয়ে উদ্বেগ

সূত্র: বিবিসি স্পোর্টস (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজ শেষে ইংল্যান্ডের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় ও উদ্বেগের জায়গা সামনে এসেছে। প্যাট কামিন্সের বোলিং ফর্ম এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং দুর্বলতা আসন্ন অ্যাশেজ ও সফরগুলোর আগে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ থেকে ইংল্যান্ডের নেওয়ার মতো শিক্ষা এবং প্যাট কামিন্সকে নিয়ে উদ্বেগ
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরেছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: অস্ট্রেলিয়ার র‍্যাঙ্কিং পতন এবং ইংল্যান্ডের আসন্ন সফরের জন্য কৌশলগত মূল্যায়ন।
•
সামনে কী: মার্চ মাসে মেলবোর্নে বার্ষিকী টেস্টে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

বিবিসি স্পোর্টসের ক্রিকেট প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সদ্য সমাপ্ত রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজটি ইংল্যান্ডের জন্য আগামী শীতকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং পরবর্তী মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজের আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দিয়ে গেছে। ঘরের মাঠে প্রোটিয়ারা শেষ দিনে জয় তুলে নিয়ে বিশ্ব টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজে এমন কিছু কৌশলগত উপপাদ্য উঠে এসেছে যা ইংলিশ শিবিরের জন্য বেশ প্রাসঙ্গিক। পরাজয়ের পরও অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দাবি করেছেন যে তারা এখনও একটি অত্যন্ত ভালো দল। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে তাদের দলগঠন প্রক্রিয়ায় একটি পরিবর্তনশীল সময় চলছে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর তারা টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারিয়েছে এবং তাদের বোলিং আক্রমণ কিছুটা বয়সের ভারে ন্যুব্জ, অন্যদিকে ব্যাটিং লাইনআপও দুটি প্রজন্মের মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে।

### প্যাট কামিন্সের ফর্ম ও বোলিং আক্রমণ নিয়ে সংশয়

ক্যারিয়ারে এই প্রথম প্যাট কামিন্সকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পেস ত্রয়ীর অন্যতম প্রধান সদস্য কামিন্স প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস পর্যন্ত টানা ৬২ ওভারের বেশি সময় কোনো উইকেট পাননি। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার বোলিং গড় ছিল ৫৩ দশমিক ৬৬, যা তার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন কোনো সিরিজে। তার প্রত্যাশিত উইকেটের হিসেব ২৯ দশমিক ৬ বলছে তিনি পরিসংখ্যানের চেয়ে ভালো বোলিং করেছেন, কিন্তু তবুও বয়সের কথা বিবেচনা করলে তাকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ৩৩ বছর বয়সি কামিন্স যদি অধিনায়ক না হতেন, তবে তৃতীয় টেস্টে স্কট বোল্যান্ডের একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে তাকে হয়তো কঠিন চাপের মুখে পড়তে হতো। কেপ টাউনে তার প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হয়েছিল এবং প্রথম সকালে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনাররা যখন চড়াও হন, তখন তিনি কৌশলগতভাবে বেশ অসহায় ছিলেন।

### স্পিন আক্রমণ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং দুর্বলতা

জো রুট টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসার পর থেকে ইংল্যান্ড কোনো ফ্রন্টলাইন স্পিনার না খেলিয়ে জোফ্রা আর্চার, ওলি রবিনসন, জশ টাং এবং গাস অ্যাটকিনসনকে নিয়ে চার পেসারের আক্রমণ সাজিয়ে আসছে। তবে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অফ স্পিনার সাইমন হারমারের ১২০ রানে ১০ উইকেট শিকারের পারফরম্যান্স ইংলিশদের ভিন্ন কোনো বিকল্প ভাবতে বাধ্য করবে। নিউল্যান্ডসের পিচ সাধারণত স্পিন সহায়ক না হলেও তৃতীয় দিন থেকে সেখানে প্রচুর টার্ন দেখা গেছে। পুরো টেস্টে গড় টার্ন ছিল ৪ দশমিক ৩৫ ডিগ্রি, যা কেপ টাউনের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। সাইমন হারমার ২০২২ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার পর থেকে বিশ্বজুড়ে যেকোনো স্পিনারের চেয়ে সেরা বোলিং গড় ধরে রেখেছেন। ইংল্যান্ড যদি কোনো স্পিনারকে একাদশে নেয়, তবে তা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারের একটি বড় দুর্বলতাকে উন্মোচন করার সুযোগ করে দেবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ইনিংসে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা চারবারই অফ স্পিনের শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত স্পিনের বিপক্ষে বাভুমার গড় ছিল ৪৬ দশমিক ৮৫, যা পরবর্তীতে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৩৭-এ। অফ স্পিনের বিপক্ষে এই গড় আরও কমে ১৫ দশমিক শূন্য এবং ওভার দ্য উইকেট থেকে বল করলে তা ১২ দশমিক ১৬-এ নেমে আসে।

### শর্ট বলের চ্যালেঞ্জ ও লোয়ার অর্ডারের গুরুত্ব

জয়ের পরও তৃতীয় টেস্টে শর্ট বলের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বলতা পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে তাদের সাতটি উইকেট পড়েছে হুক বা পুল শট খেলতে গিয়ে। এই সমস্যাটি প্রায়ই ইংল্যান্ডকে ভোগালেও গত চার বছরে টেস্ট ক্রিকেটে শর্ট বলের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান ছাড়া অন্য কোনো দলের গড় এর চেয়ে খারাপ নয়। এই সিরিজ থেকে উঠে আসা আরেকটি বড় প্রবণতা হলো লোয়ার অর্ডারের রান সংগ্রহের গুরুত্ব। প্রথম টেস্টের জয়ী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ২৬৬ রান যোগ করেছিল। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা একই সময়ে ৩১৫ রান যোগ করে এবং তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ পাঁচ উইকেটের জুটিতে তারা ২০৬ রান তোলে, যা মূলত তাদের ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। ইনিংস দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বল পুরনো ও নরম হয়ে যাওয়ায় উইকেট নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই সিরিজে ৪০ ওভারের পর প্রতি ৬০ বলে একটি করে উইকেট পড়েছে, যেখানে গ্রীষ্মের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সিরিজে প্রতি ৩৭ বলে একটি উইকেট পড়েছিল।

### ম্যাট রেনশ এবং ভবিষ্যৎ সূচি

অস্ট্রেলিয়ার এই সফর থেকে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি ছিল ম্যাট রেনশর ব্যাটিং। দলে পুনর্ভুক্তি ঘটার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিরিজে তিনি ৬১ দশমিক ৫০ গড়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন। মারনাস লাবুশেনের টানা ৪৯ ইনিংসে সেঞ্চুরি না পাওয়া এবং একাদশ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কার মধ্যে রেনশ ওপেনিং পজিশনে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। প্রথম টেস্টে পাঁচ নম্বরে নেমে ১৯০ রান এবং তৃতীয় টেস্টে ওপেনার হিসেবে ৭৪ রান করার মাধ্যমে ডেভিড ওয়ার্নারের বিকল্প খোঁজার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অবসান ঘটতে পারে। আগামী গ্রীষ্মে অ্যাশেজের আগে মার্চ মাসে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ১৫০তম বার্ষিকী টেস্টে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নতুন নেতৃত্বে রেনশকে আউট করার পরিকল্পনাগুলো ওই ম্যাচে যাচাই করে নিতে পারে রুটরা। বাঁ-হাতি এই ব্যাটার ইয়র্কশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি, তবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার শক্ত গড় রয়েছে ৪২ দশমিক ৬৯।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)