/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরও থামতে নারাজ কনরাড: আরও উন্নতির তাগিদ দক্ষিণ আফ্রিকা কোচের

সূত্র: CricTracker (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের পরও দলের ঘাটতি শুধরে সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুকরি কনরাড। আগামীতে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে দলকে আরও পরিণত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরও থামতে নারাজ কনরাড: আরও উন্নতির তাগিদ দক্ষিণ আফ্রিকা কোচের
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়ে প্রধান কোচ শুকরি কনরাডের অধীনে সাফল্য বজায় রেখেছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: সিরিজ জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছে এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে।
•
সামনে কী: সামনে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ (২ টেস্ট), ইংল্যান্ড (৩ টেস্ট) ও শ্রীলঙ্কার (২ টেস্ট) বিপক্ষে সিরিজে চোখ রাখছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নয় দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকট দল। কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের চূড়ান্ত ও তৃতীয় টেস্ট ১৭৬ রানে জিতে সিরিজ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে প্রোটিয়ারা। তবে দলের এমন সাফল্য সত্ত্বেও শিষ্যদের আরও উন্নতি করার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুকরি কনরাড। স্পোর্টস ওয়্যার ক্রিকট্রেকার-এর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আইসিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কনরাড স্পষ্ট জানিয়েছেন যে দল হিসেবে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে এখনও বেশ কিছু জায়গায় কাজ করতে হবে।

সিরিজ জয়ের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুকরি কনরাড দলের অর্জনকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমার এখনও মনে হয় এমন এক-দুটি বিষয় রয়েছে যা আমাদের সেরা সংস্করণে পরিণত করবে। তবে সত্যি বলতে, কয়েক দিন আগেও ভাবিনি যে আমরা আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব। একই সঙ্গে আমি একদমই অবাক নই, কারণ এই দলের ছেলেদের মধ্যে অসাধারণ কিছু করার সবরকম সামর্থ্য রয়েছে।'

তিন ম্যাচের এই সিরিজে উভয় দলের সামনেই বেশ বৈচিত্র্যময় চ্যালেঞ্জ হাজির হয়েছিল। ডারবানে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে পড়েছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দ্বিতীয় টেস্টে কেবেহায় ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা এবং শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩১ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে। এরপর কেপটাউনে অনুষ্ঠিত নির্ণায়ক তৃতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০০ রানে পিছিয়ে থাকার পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে ৩৮৮ রানের কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে ১৭৬ রানের জয় তুলে নেয় তারা। এই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার জোশ ইংলিশ ঐতিহাসিক একটি সেঞ্চুরি হাঁকান, যা 'মাঠের খবর'-এর ৩০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করা প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন ইংলিশ।

### দল চয়ন ও কনরাডের কৌশলগত নমনীয়তা

স্কোয়াড গঠন ও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে শুকরি কনরাড একটি বিশেষ দর্শনে বিশ্বাসী। প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সেরা একাদশ খুঁজে নেওয়ার জন্য তিনি একাদশে নিয়মিত রোটেশন নীতি বজায় রেখেছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পুরো সময় জুড়েই এই নীতি অনুসরণ করেছেন তিনি।

দলের খেলোয়াড়দের নমনীয়তার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে প্রোটিয়া কোচ বলেন, 'আমরা সেরা ১১ জন খেলোয়াড়কে বাসে তুলছি। আমাদের কেবল তাদের সঠিক আসনটি খুঁজে বের করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে মানিয়ে নেওয়ার মতো নমনীয় হতে হবে। আপনি যদি মার্কসের কথা ধরেন, সে এসে টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। নিজের খেলার ধরনের কারণে সে হয়তো মাঝে মাঝে ভুল করবে, তবে সে এমন এক চরিত্রের খেলোয়াড় যাকে আমি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করতে চাই না।'

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এই সাফল্য দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুনর্বাসনের পর দক্ষিণ আফ্রিকা এই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে জয়লাভ করার কৃতিত্ব দেখাল। এর আগে কনরাডের অধীনেই প্রোটিয়ারা ২০২৩-২০২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব জয় করেছিল। এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা ১০টি টেস্ট সিরিজের মধ্যে কনরাডের দল মাত্র একটিতে হেরেছে, যা এসেছিল ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

### র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান লাভ ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

'মাঠের খবর'-এর ১ নভেম্বরের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপটাউন টেস্টে ১৭৬ রানের এই জয়ের পর আইসিসি পুরুষদের টেস্ট দলীয় র‍্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই দিনে প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে এই জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে প্রোটিয়ারা।

সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অপেক্ষা করছে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কঠিন ক্রিকেট সূচি। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে তাদের এই অভিযাত্রা শুরু হবে। এরপর ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে ইংল্যান্ড। সফরসূচির শেষভাগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে তারা। কনরাড মনে করেন, আগামী ম্যাচগুলোতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বড় ভূমিকা রাখবে।

ভবিষ্যৎ সিরিজগুলো নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে কনরাড জোর দিয়ে বলেন, 'প্রতিটি টেস্ট সিরিজই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় টেস্ট সিরিজ, এবং আমাদের জন্য পরবর্তী টেস্ট সিরিজটিই হবে এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় লড়াই।'

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)