/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

কেপ টাউনে তীব্র নাটকীয়তা: স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৩২৯ রানে গুটিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

প্যাট কামিন্সের বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের পর কেপ টাউন টেস্টের প্রথম দিনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল স্টার্কের ৭২ রানে ৬ উইকেটের ওপর ভর করে ৩২৯ রানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করেছে সফরকারীরা।
কেপ টাউনে তীব্র নাটকীয়তা: স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৩২৯ রানে গুটিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: কেপ টাউন টেস্টের প্রথম দিনে বল হাতে ৬ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২৯ রানে আটকে দিয়েছেন মিচেল স্টার্ক।
•
ম্যাচের প্রভাব: সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে প্রথম দিন শেষে লড়াই সমতায় রূপ নিয়েছে, যা ১-১ সমতায় থাকা সিরিজে দারুণ উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
•
সামনে কী: দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে নামবে অস্ট্রেলিয়া; চোটাক্রান্ত প্রোটিয়া বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে অজি ব্যাটারদের।

কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের নির্ণায়ক তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই দেখা মিলল চরম নাটকের। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের কৌশল শুরুতে পুরোপুরি ভেস্তে যাচ্ছে বলে মনে হলেও, দিনশেষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। লাঞ্চের আগে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪০ রান তোলা প্রোটিয়া ওপেনিং জুটি যখন বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল, তখন দিনের শেষ ভাগে ধ্বংসযজ্ঞ চালান মিচেল স্টার্ক। ৬ বলের ব্যবধানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে এবং ৭২ রানে ৬ উইকেটের চোখধাঁধানো বোলিং ফিগার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২৯ রানে গুটিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্যা গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে একতরফা মনে হওয়া ম্যাচটি দিনশেষে রোমাঞ্চকর এক মোড় নিয়েছে।

টস জিতে বোলিং করার কামিন্সের সিদ্ধান্ত টেস্ট ইতিহাসের কিছু ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্তের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিল। যেমন ১৯৮৯ সালে লিডসে ডেভিড গাওয়ারের ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ৬০০-র বেশি রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল; ২০০২ সালে ব্রিসবেনে নাসের হুসেইনের সিদ্ধান্ত, যেখানে প্রথম দিনেই ৩৬৪ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া; কিংবা ২০০৫ সালে এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের ৮০ ওভারে ৪০৭ রান করার স্মৃতি। ২৫টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ৯ বার আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কামিন্স হয়তো উইকেটের শুরুর আর্দ্রতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তবে নিউল্যান্ডসের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ব্যাটারদের অনুকূল পিচে এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

এই ম্যাচে নামার আগে অস্ট্রেলিয়া একাদশে যে বড় পরিবর্তন এনেছিল, তাও নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। ১৯৮৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর এই প্রথম কোনো সফরকারী অস্ট্রেলীয় দল শৃঙ্খলাজনিত কারণ ছাড়া একাদশে চারটি পরিবর্তন আনে। দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া অজিরা (যা গত ২৬ অক্টোবর 'মাঠের খবর'-এ প্রকাশিত হয়েছিল) একাদশ থেকে বাদ দেয় আগের ম্যাচের সেরা বোলার স্কট বোল্যান্ডকে, তাঁর জায়গায় ফেরানো হয় অফস্পিনার নাথান লায়নকে। অন্যদিকে ইনজুরির কারণে বাধ্য হয়ে বাদ পড়তে হয় সময়ের সেরা ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে, যাঁর স্থলাভিষিক্ত হন জশ ইংলিস। এছাড়া গত ২৬ অক্টোবর স্যাম হার্পারের সাথে দল থেকে মুক্তি পাওয়া নিক ম্যাডিনসন ও বো ওয়েবস্টারকে বাদ দিয়ে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় ক্যামেরন গ্রিন ও কুপার কনোলিকে।

প্রথম সেশনে প্রোটিয়া ওপেনিং জুটি এই সুযোগের পুরো ফায়দা তোলে। মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড লেন্থ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে বেশ কিছু শট ও ওয়াইড ডেলিভারি করেন। আইডেন মার্করাম দারুণ কিছু ড্রাইভ ও পুলে স্বাগতিকদের চালকের আসনে বসান, এমনকি কামিন্সকে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান। অন্য প্রান্তে মারকুটে ব্যাটিং চালিয়ে যান মারকাস অ্যাকারম্যান। স্টার্কের এক ওভারেই ৪টি চার মেরে ১৮ রান তোলেন তিনি। কাভারে মার্করামের সহজ ক্যাচ মিস করেন ট্র্যাভিস হেড এবং লাঞ্চের পর লায়ন নিজের বলেই ফিরতি ক্যাচ ফেলেন। ফলে বিনা উইকেটে ১৫৮ রান তুলে বড় সংগ্রহের পথে ছুটছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

### স্পিন ও পেসের মেলবন্ধনে অজিদের প্রত্যাবর্তন

অবশেষে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরান অভিজ্ঞ অফস্পিনার নাথান লায়ন। ৯৫ রানে ব্যাট করা অ্যাকারম্যান সেঞ্চুরির লক্ষ্যে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এলে লায়নের ওয়াইড ও ধীরগতির ডেলিভারিতে স্টাম্পড হন। এর কিছুক্ষণ পর হ্যাজেলউডের খাটো লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে লং লেগে ক্যাচ দেন মার্করাম। দলীয় স্কোরে বড় কোনো ধাক্কা লাগার আগেই প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে দারুণ এক বলে বোল্ড করেন লায়ন। আর নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট শিকার করে অভিষিক্ত কুপার কনোলি এলবিডব্লিউর শিকার বানান ম্যাথিউ ব্রিটজকে।

১৫৮/০ থেকে দ্রুত ২১৬/৬ স্কোরে পরিণত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপদে পড়লেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন ডেভিড বেডিংহাম। সিরিজে আগের দুই ইনিংসে ৪৬ ও ৪৯ রানে আউট হওয়া বেডিংহাম এবার ধৈর্যশীল ফিফটি তুলে নেন। তবে তিনিও হ্যাজেলউডের বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন। এরপর দ্বিতীয় টেস্টে ৮৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলা মার্কো জানসেন আবারও অস্ট্রেলিয়ার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান। তিনি রয়ান রিকেলটনকে (৪২) সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে দ্রুত গতিতে ৯৫ রান যোগ করে একটি দারুণ ফিফটি পূরণ করেন এবং দলকে ৩০০ রান পার করান।

### নতুন বলে স্টার্কের তাণ্ডব ও স্বাগতিকদের ধস

দিনের শেষভাগে যখন মেঘলা আকাশ দেখা দেয় এবং নতুন বল হাতে পান অজি পেসাররা, তখনই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন মিচেল স্টার্ক। গতানুগতিক ইনসুইং বোলিংয়ে স্টাম্প টু স্টাম্প আক্রমণ চালিয়ে প্রোটিয়া লেজ ছেঁটে দেন তিনি। মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে ৪টি উইকেট তুলে নেন স্টার্ক। ৪২ রানে ব্যাট করা রিকেলটনকে লেগ বিফোর করার পর দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে ৫২ রান করা জানসেনের অফ-স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। পরের ওভারে জেরাড কোয়েটজিকে খালি হাতে বোল্ড করার পর কাগিসো রাবাদাকেও এলবিডব্লিউ বানান স্টার্ক।

স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শেষ ৪টি উইকেট হারায় মাত্র ২ রানের ব্যবধানে, ৩২৭/৬ থেকে তারা ৩২৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৭২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন স্টার্ক। গত ২৫ অক্টোবর 'মাঠের খবর'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোটের কারণে পেসার আনরিখ নরকিয়া এই টেস্টে না থাকায় বল হাতে প্রথম ইনিংসে রাবাদা, কোয়েটজি ও জানসেনদের ওপরই ভরসা রাখতে হবে প্রোটিয়াদের। ১-১ সমতায় থাকা সিরিজে প্রথম দিন শেষে কোনো দলকেই স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না, যার উত্তর মিলবে সিরিজের বাকি দিনগুলোতে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)